২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

এতদিন বঙ্গবন্ধুকে দলীয় গণ্ডির মধ্যে রেখে অবিচার করেছি

  • পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদের আলোচনায় সৈয়দ আশরাফ

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেছেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে এতদিন দলীয় গণ্ডির মধ্যে রেখে তাঁর প্রতি আমরা (আওয়ামী লীগ) অবিচার করেছি। কেননা বঙ্গবন্ধু কেবল আওয়ামী লীগের নেতা নন, তিনি জাতির নেতা। এ উপলব্ধি গোটা জাতির মধ্যে ছড়িয়ে দিতে হবে। বঙ্গবন্ধুকে যদি কোটারির মধ্যে রাখি, তা হবে জাতির জন্য হতাশাজনক।

বুধবার সন্ধ্যায় সুপ্রীমকোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবনের শহীদ শফিউর রহমান মিলনায়তনে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদ আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বিচারপতি এ এফ এম মেসবাহউদ্দীনের সভাপতিত্বে আলোচনাসভায় আরও বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য এ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন এমপি, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী, সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. আ ফ ম রুহুল হক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, এ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, এ্যাডভোকেট সানজিদা খানম এমপি, পরিষদের মহাসচিব ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান প্রমুখ।

বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, জাতির পিতার জন্মদিনে ফুর্তি করে জন্মদিন পালন জাতিকে কখনও ঐক্যবদ্ধ করে না, বরং আরও বিভক্তির দিকে ঠেলে দেয়। যুক্তির খাতিরে যদি মেনেও নেই, ১৫ আগস্ট খালেদা জিয়ার জন্মদিন। আমরা ভেবেছিলাম জাতীয় শোক দিবসে উনি এবার জন্মদিন পালন করবেন না। তবে অন্যবারের মতো শোক দিবসের প্রথম প্রহরে খালেদা জিয়া কেক কাটেননি। কেক কেটেছেন রাতের বেলা। আমরা আশা করি, আগামীবার থেকে তিনি ১৫ আগস্ট কোন কেকই কাটবেন না।

সৈয়দ আশরাফ বলেন, এবার বঙ্গবন্ধুর শাহাদাতবার্ষিকী সর্বজনীনভাবেই পালিত হয়েছে। ওইদিন ধানম-ির স্মৃতিবিজড়িত ৩২ নম্বরে মানুষের যে ঢল নেমেছিল, গত ১০ বছরেও তা দেখা যায়নি। শুধু ঢাকায় নয়, সারাদেশেই মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর দৃঢ়চেতা ব্যক্তিত্বের উদাহরণ দিতে গিয়ে তিনি ’৭০-এর নির্বাচনের দুটি ঘটনা উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু নির্বাচনী প্রচারে নেত্রকোনা থেকে ময়মনসিংহে ফিরছিলেন। এ সময় কিছু মানুষ রাস্তায় গাছের গুঁড়ি ফেলে আগুন ধরিয়ে দিয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। বঙ্গবন্ধু এ সময় একা গাড়ি থেকে নেমে গিয়ে কিছু হয়েছে কিনা তা দেখতে যান। বঙ্গবন্ধুকে আসতে দেখে যারা আগুন লাগিয়েছিল তারা পালিয়ে যায়। এই ঘটনায় ময়মনসিংহ সার্কিট হাউসে গিয়ে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ও সামরিক বাহিনীর প্রধান জেনারেল ইয়াহিয়া খানের সঙ্গে বঙ্গবন্ধু যে ভাষায় জবাবদিহি চেয়েছিলেন, তা দেখে আমরাই ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। বঙ্গবন্ধু ন্যায়ের পক্ষে কথা বলতে গিয়ে কখনও কাউকে পরোয়া করেননি।

কোন অপরাধীই ছাড় পাবে না- ওবায়দুল কাদের ॥ সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, অবুঝ শিশু হত্যা ও অন্তঃসত্ত্বা নারীর ওপর হামলাকারীরা রেহাই পাবে না। অপরাধী যেই হোক, যে সংগঠনের হোক, এমনকি যত প্রভাবশালীই হোক, তাকে শাস্তি পেতেই হবে। শেখ হাসিনার সরকার এই বিষয়ে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে।

বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট আয়োজিত এক শোক ও প্রতিবাদ সভায় তিনি একথা বলেন। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ষড়যন্ত্রকারীদের গ্রেফতারের দাবিতে এবং শহীদদের স্মরণে এ সভার আয়োজন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন জোটের সভাপতি চিত্রনায়ক ফারুক। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জোটের সাধারণ সম্পাদক ফাল্গুনী হামিদ, অভিনেতা ড্যানি সিডাক প্রমুখ।

ওবায়দুল কাদের বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে কাউকে যেন রেহাই দেয়া না হয়। সরকার স্ট্রং (শক্তিশালী) ম্যাসেজ রাখতে চায়। হঠাৎ করে আইনশৃঙ্খলার অবনতি হয়েছে, হঠাৎ করেই উন্নতি হবে। তিনি বলেন, অন্তঃসত্ত্বা নারী ও অবুঝ শিশুদের ওপর হামলা শুধু অমানবিক ও জঘন্যই নয়, মর্মান্তিক ও ন্যক্কারজনক ঘটনাও বটে। অনেকেই এখন এসবের প্রতিবাদ করছেন। কিন্তু বঙ্গবন্ধু পরিবারের নারী ও শিশুদের ন্যক্কারজনক হত্যাকা-ের পর এদের কাউকে প্রতিবাদ করতে দেখা যায়নি।

সেতুমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন পর হলেও বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার বিচার হয়েছে। শেখ হাসিনা বেঁচে থাকলে ২১ আগস্ট রক্তাক্ত ট্র্যাজেডির বিচারও হবে। সেদিন প্রথম টার্গেটই ছিল শেখ হাসিনাকে হত্যা করা। সুতরাং শেখ হাসিনার সরকার ক্ষমতায় থাকতে এ বিষয়ে ধীরগতির কোন কারণ নেই।

প্রবীরের মামলা যতক্ষণ থাকবে, গন্ধ ছড়াবে- সুরঞ্জিত ॥ আওয়ামী লীগের উপদেষ্টাম-লীর সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত সাংবাদিক প্রবীর সিকদারের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলা অবিলম্বে তুলে নেয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, মামলাটি যতক্ষণ থাকবে ততক্ষণ শুধু গন্ধ ছড়াবে। আশা করব কেবল জামিন নয়, মামলাটি তুলে নেয়া হবে।

বুধবার রাজধানীর ইনস্টিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স মিলনায়তনে বঙ্গবন্ধু একাডেমি আয়োজিত চলমান রাজনীতি বিষয়ে এক আলোচনা সভায় তিনি আরও বলেন, মান যায় মন্ত্রীর আর মামলা করে চেরাগ আলী। মামলা করার প্রয়োজন হলে তো মন্ত্রী করবেন। পিপি আগ বাড়িয়ে মামলা করেছেন কেননা তিনি চাটুকার। এরা অতিউৎসাহী। ক্ষমতা মানে চাটুকারিতা, দম্ভ, তোষামোদি নয়।

প্রবীণ এই পার্লামেন্টারিয়ান প্রবীর সিকদারকে চোখ বেঁধে জিজ্ঞাসাবাদের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, প্রবীণ সিকদারকে চোখ বেঁধে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে এটা খুবই দুঃখজনক। এই বিষয়গুলো শত্রু পক্ষের হাতে অস্ত্র তুলে দেয়। প্রবীর তো আমাদের জন্য পা হারিয়েছেন। দ্রুতই এ বিষয়টি নিজেদের মধ্যে সুরাহা করা উচিত। আমরা বিষয়টির সমাধান চাই। ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের ক্রসফায়ারে দেয়া সম্পর্কে সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেন, সমস্ত সঙ্কটের সমাধান ক্রসফায়ার নয়, ফায়ারটা হতে হবে আদর্শের। ছাত্রলীগকে আদর্শের দিকে ধাবিত করতে হবে। কর্তৃপক্ষকে এর রাজনৈতিক সমাধান করতে হবে।

আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সহ-সম্পাদক নারায়ণ দেবনাথের সভাপতিত্বে আলোচনাসভায় আরও বক্তব্য রাখেন আবদুল হাই কানু, ইস্কান্দার মির্জা শামীম, আসাদুজ্জামান দুর্জয়, হুমায়ুন কবির মিজি, সাম্যবাদী দলের হারুন চৌধুরী প্রমুখ।

অনুপ্রবেশকারীরা বিশৃঙ্খলা করছে- হানিফ ॥ সারাদেশের বিভিন্ন স্থানে অনুপ্রবেশকারীরা বিশৃঙ্খলার চেষ্টা করছে, এদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনী ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ। রাজধানীর মহাখালী তিতুমীর সরকারী কলেজে শহীদ বরকত মিলনায়তনে বুধবার দুপুরে জাতীয় শোক দিবসের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ সব কথা বলেন। সরকারী তিতুমীর কলেজ শাখা জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে এই আলোচনা সভার আয়োজন করে।

হানিফ বলেন, বিভিন্ন জায়গায় ছাত্রলীগ, যুবলীগসহ সহযোগী সংগঠন, এমনকি আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশকারীরা প্রবেশ করেছে। তারা অনুপ্রবেশ করেই বিশৃঙ্খলা করার চেষ্টা করছে। কিছু কিছু জায়গায় তারা বিশৃঙ্খলা ঘটিয়ে সরকারের সমস্ত অর্জন ম্লান করে দেয়ার চেষ্টা করছে। এটা ষড়যন্ত্রের একটা অংশ। এ সকল ষড়যন্ত্রের বিষয়ে আমাদের ছাত্র সমাজসহ সকলকে সজাগ থাকতে হবে।

তিনি বলেন, আমরা চাই না শেখ হাসিনার এই অর্জন ম্লান হয়ে যাক কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনার জন্য। প্রধানমন্ত্রী কঠোর নির্দেশনা দিয়েছিলেন, যে কোন অন্যায় কঠোর হস্তে দমন করুন। শেখ হাসিনার নির্দেশ অনুযায়ী যারা এ ধরনের ঘটনা ঘটাচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনী ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি বলেন, আমরা চাই না ছাত্রসমাজের বিরুদ্ধে কেউ অভিযোগ করুক। ছাত্রলীগ-যুবলীগের বিরুদ্ধে কেউ কথা বলুক, পত্রিকায় লিখুক আমরা চাই না। আমরা চাই জননেত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী ছাত্রলীগও সতর্ক হয়ে তাদের অভ্যন্তরে কঠোর অবস্থান নিক। শেখ হাসিনার অর্জনকে ম্লান করার সকল ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করুক।

তিতুমীর কলেজ শাখার সভাপতি কাজী মিরাজুল ইসলাম ডলারের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মানিক হোসেনের পরিচালনায় সভায় আরও বক্তব্য রাখেন ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইসহাক আলী খান পান্না, তিতুমীর কলেজের অধ্যক্ষ আবু হায়দার আহম্দে নাছের, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ, সাধারণ সম্পাদক এসএম জাকির হোসাইন প্রমুখ।