২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

দুই বছর পর থাই কারাগার থেকে ফিরে এলো আবছার

  • মানবপাচারের শিকার

স্টাফ রিপোর্টার, কক্সবাজার ॥ দালাল চক্রের প্রলোভনে মালয়েশিয়া যাত্রা। পরবর্তীতে প্রায় ২ বছর কোন সন্ধান নেই। নিশ্চিত মৃত্যু হয়েছে জেনে তার মাগফেরাতের জন্য ফাতেহাও করা হয়েছে। দালাল চক্রের অত্যাচারে থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ার গণকবরে অনেকের করুণ মৃত্যু হয়েছে শুনে তাদের ছেলেও সেই তালিকায় রয়েছে ধারণায় মা-বাবার কান্নায় বাতাস ভারি হয়ে ওঠে। প্রবাদ আছে ‘রাখে আল্লাহ্ মারে কে’। দীর্ঘদিন থাইল্যান্ডের কারাগারে আটক থাকার পর বাংলাদেশ সরকারের প্রচেষ্টায় মায়ের বুকে ফিরে এসেছে ২২ মাস ধরে নিখোঁজ থাকা সেন্টমার্টিনের আবছার (১৭)। তার কাছ থেকে এতদিন দূরে সরে যাওয়া কিশোর ছেলেকে ফিরে পেয়ে আনন্দাশ্রুতে বুক ভাসিয়ে দিলেন মা ও পুরো-পরিবার। অথচ ইতোপূর্বে তার মৃত্যু হয়েছে ধারণায় চেহলাম ও ফাতেহা শরীফ ইত্যাদি সম্পন্ন করেছে স্বজনরা। তবে মায়ের বিশ্বাস ছিল তার ছেলে মরেনি, নিশ্চয় একদিন তার বুকে ফিরে আসবেই। ছেলে জেলার সেন্টমার্টিন পশ্চিম পাড়ার আব্দুল করিমের পুত্র আবছার উদ্দিন দীর্ঘদিন থাইল্যান্ডের কারাগারে আটক থাকার পর সরকারের প্রচেষ্টায় গত ১০ আগস্ট ফিরে আসতে সক্ষম হয়।

আবছার উদ্দিন জানান, ২০১৩ সালের অক্টোবরে আমার বন্ধু শাহরুখ খান এবং শাহজাহানসহ জোছনার আলোতে রাত ৮টায় হা-ডু-ডু খেলতে বের হই। পথিমধ্যে গডফাদার সর হোছনের (বর্তমানে কারাগারে) সহচর মিয়ানমারের বাসিন্দা দালাল আজিম উল্লাহ আমাদের ধরে ফেলে। সাব্বির মাঝির গামবোট দিয়ে গভীর সাগরের মধ্যে অপেক্ষমাণ মালেশিয়াগামী জাহাজে উঠিয়ে দিয়ে আসে। জাহাজে উঠিয়ে দেয়ার জন্য সাব্বির মাঝিকে জনপ্রতি ২০ হাজার টাকা এবং মুক্তিপণের জন্য দালালকে ৭০ হাজার টাকা দেয়া হয়। অনাহারে-অর্ধাহারে জাহাজে করে ১৫ দিন পর নামিয়ে দেয় থাইল্যান্ডে তাদের বন্দীশালায়। আরও ১ লাখ ১০ হাজার টাকার জন্য আমাকে সীমাহীন নির্যাতন চালানো হয় থাই জঙ্গলে। মুক্তিপণ পেতে যত দেরি হয় নির্যাতনের মাত্রা তত বেড়ে যায়। দালালদের অমানুষিক নির্যাতন সইতে না পেরে পালাতে গিয়ে ধরা পড়ি থাই পুলিশের কাছে। পরবর্তীতে সরকারের সহায়তায় নিজ দেশে মা-বার কাছে ফিরে আসতে পেরে আমি সরকারের কাছে চির কৃতজ্ঞ। তার পিতা আব্দুল করিম বলেন, মুক্তিপণ দিয়েছি ৭০ হাজার টাকা। এতে আমার দুঃখ নেই। তবে কষ্ট পাব তখনই- যখন দালালদের উপযুক্ত বিচার না হয়।