২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

কুড়িগ্রামে উত্ত্যক্ত করার প্রতিবাদ করায় হামলা

স্টাফ রিপোর্টার, কুড়িগ্রাম ॥ মধ্যরাতে ফোনে উত্ত্যক্ত করা ও শ্লীলতাহানির প্রতিবাদ ও বিচার চাওয়ার অপরাধে বখাটে ও তার সহযোগী এক গৃহবধূর উপর হামলা চালিয়ে আহত করেছে। চেষ্টা চালিয়েছে প্রাণনাশের। এ সময় ভাংচুর করা হয়েছে তার বসতঘর। আহত গৃহবধূ রাশিদা এখন সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনাটি ঘটেছে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার কাঁঠালবাড়ী ইউনিয়নের নেপারদর্গা এলাকার পাঠানপাড়া গ্রামে।

গৃহবধূর অভিযোগে জানা যায়, তার স্বামী শামছুল হক ঢাকায় গার্মেন্টসে চাকরি করেন। দুই ছেলে রাকিব (৮) ও রেদোয়ানকে (৬) নিয়ে তিনি শ^শুর বাচ্চু মিয়ার বাড়ির পাশে পৃথক বাড়িতে থাকেন। একা থাকার সুযোগে প্রতিবেশী খান মোহাম্মদ ফজলুর বখাটে যুবক জুলফিকার (২৫) তাকে রাত-বিরাতে প্রায় উত্ত্যক্ত করত। মোবাইলে অশ্লীল কথা বলত। মঙ্গলবার রাত ১২টার দিকে পরপর ৩বার মোবাইল ফোনে তাকে কুপ্রস্তাব দেয় জুলফিকার। বাড়ির বাইরে আসতে বলে। রাশিদা রাজি না হওয়ায় জুলফিকার ও তার সহযোগী নাজমুল (২৬) তার বাড়ির বেড়া কেটে ঢুকে শ্লীলতাহানির চেষ্টা চালায়। চিৎকার শুনে প্রতিবেশী লোকজন জড়ো হলে তারা পালিয়ে যায়। সকালে রাশিদা এ ব্যাপারে প্রতিবেশীদের কাছে বিচার দাবি করে। এ ঘটনায় আরও ক্ষিপ্ত হয়ে জুলফিকার বুধবার দুপুরে রাশিদার ওপর হামলা চালায়। তার গলা চিপে ধরে শ^াসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করে। কিল ঘুষিতে শরীরের নানা জায়গায় জখম হয়। এ সময় তার সঙ্গীরা বাড়িতে হামলা করে ভাংচুর চালায়। জুলফিকার এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তির ছেলে বলে কেউ এগিয়ে আসেননি।

কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায় চিকিৎসাধীন রাশিদার পাশে কেউ নেই। দুটো ছেলেকে নিয়ে একাই কাতরাচ্ছেন হাসপাতালের বিছানায়। ভয়ে তার শ^শুরও আসেনি। রাশিদা বলেন, ‘বাড়ি গেলে ওরা আবার হামলা করবে। আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমি ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই’। বুধবার সরেজমিন ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায় ভাংচুরের নানা চিহৃ রয়েছে বাড়িতে। তার সৎ মা মাবিয়া ঘটনার বর্ণনা দিয়ে জানান, তারা এখনও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তার সঙ্গে কথা বলার সময় ছুটে আসেন জুলফিকার। রাত ১২টায় ফোন করার কথা স্বীকার করে বলে, ‘রাশিদা আমার ফুপাত বোন। আমি কথা বলতেই পারি। আমার মেয়ে সংক্রান্ত কোন রিপোর্ট নেই। আমি কখনও মেয়ের উপর লোভ দেই না। আমার টাকা আছে মেয়ের অভাব নাই’।

সে দাবি করে তার উপর মিথ্যা কলঙ্ক দেয়ায় সে ক্ষিপ্ত হয়ে ভাংচুর করেছে।