২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

তরুণদের সাফল্যে দায়িত্ব বাড়ল বাফুফের

  • সাফ ট্রফি নিয়ে সিলেট থেকে ঢাকায় ফিরল জিলানীর শিষ্যরা

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ আজকের শিশু আগামী দিনের ভবিষ্যত। শেকড় থেকে শিখরে। উঠন্তি মুলা পত্তনেই যায় চেনা। এই প্রবাদগুলো যেন যথার্থভাবেই ফলে যায় বাংলাদেশ অনুর্ধ-১৬ জাতীয় ফুটবল দলের কিশোরদের জন্য। তাদের নিয়েই এখন স্বপ্ন দেখতে পারে বাংলাদেশ। সিনিয়র পর্যায়ে ফুটবলে ২০০৩ সালে একমাত্র সাফ শিরোপা, ২০১০ সালে এসএ গেমসে অনুর্ধ-২৩ দলের শিরোপাÑ এরপর ২০১৫ সালে সাফ অনুর্ধ-১৬ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপে চ্যাম্পিয়ন। সময়ের নিরিখে দেখা যাচ্ছে খুব বেশি সাফল্য বা অর্জন নেই বাংলাদেশের যেকোন পর্যায়ের দলের। সাফল্যের বীজ রোপণ করা হয়েছে। এখন শুধু প্রয়োজন সঠিক পরিচর্যা। তাহলে এই অনুর্ধ-১৬ দলের কিশোররাই আগামীতে এনে দেবে জাতীয় দলের হয়ে আরও অনেক সাফল্য। বুধবার সিলেটের সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে সদ্যসমাপ্ত ‘সাফ অনুর্ধ-১৬ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ’-এ অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়েছে স্বাগতিক বাংলাদেশ। ফাইনালে তারা টাইব্রেকারে ৪-২ (১-১) গোলে হারায় গত আসরের শিরোপাধারী শক্তিশালী ভারতকে। অভাবনীয় এ সাফল্য নিয়ে কোচ সৈয়দ গোলাম জিলানীর সোনার ছেলেরা ঢাকায় পৌঁছেছে বুধবার রাতে।

রাজধানীতে পৌঁছলেও বিশ্রাম নেয়ার তেমন কোন অবকাশ পাচ্ছে না কিশোর ফুটবলাররা। কারণ তাদের সামনে আছে আরও একটি অগ্নিপরীক্ষা। তার নাম ‘এএফসি অনুর্ধ-১৬ চ্যাম্পিয়নশিপ বাছাই পর্ব।’ যা অনুষ্ঠিত হবে সেপ্টেম্বরে, ঢাকাতেই। এই আসরে ‘ডি’ গ্রুপে পড়েছে বাংলাদেশ। তাদের সঙ্গে আছে সৌদি আরব ও আরব আমিরাত। পাকিস্তান তাদের নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছে। ফলে তিন দল নিয়েই ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে ‘ডি’ গ্রুপের খেলা। বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে ওই দিন শাওনদের প্রতিপক্ষ সৌদি আরব। ১৮ সেপ্টেম্বর আরেক প্রতিপক্ষ সংযুক্ত আরব আমিরাত। এএফসি বাছাইপর্ব উপলক্ষে আপাতত বাফুফে ভবনেই রেখে দেয়া হবে কিশোর ফুটবলারদের। যেখানে তাদের প্রস্তুতির বিষয়টি ভালভাবে দেখভাল করবেন উজ্জীবিত বাফুফে কর্মকর্তারা।

কিশোর ফুটবলারদের এমন নজড়কাড়া সাফল্যে দারুণ আনন্দিত বাফুফে সভাপতি কাজী মোঃ সালাউদ্দিন। শিরোপা জয়ের রাতেই সিলেটের রোজভ্যালি হোটেলে তার উপস্থিতিতে পার্টি হয়েছে। সেখানে উদীয়মান এসব ফুটবলারদের উদ্দেশে বক্তব্যে নিজের একটি আক্ষেপ লাঘবের কথা জানান সাফ ফুটবল সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন, ‘আমার স্বপ্ন ছিল নিজের দলের হাতে সাফ ট্রফি তুলে দেয়ার। বারবার অন্য দেশকে সেটি তুলে দিতে হয়েছিল। এবার অনুর্ধ-১৬ দলের হাতে ট্রফি তুলে দেয়ার মাধ্যমে আমার স্বপ্নটা অর্ধেক পূরণ হয়েছে। বাকিটা পূরণ হবে যদি ডিসেম্বরে সিনিয়র দলের হাতে ট্রফি তুলে দিতে পারি।’ সালাউদ্দিন আরও বলেন, ‘চাইলে তাদের টাকা-পয়সা দিয়ে খুশি করতে পারতাম। তারা এত ছোট যে অর্থ পুরস্কার হিতে বিপরীত হতে পারে। বরং তাদের আগামী চার বছরের জন্য বাফুফে একাডেমিতে রেখে আরও বড় ফুটবলার হিসেবে গড়ে তোলা হবে। তাদের জন্য একাডেমিতে শ্রীঘই আনা হবে বিদেশী কোচিং স্টাফ। এটাই তাদের জন্য আমার পুরস্কার।’

বিজয়ী দলের জন্য বাফুফের আর্থিক পুরস্কার না থাকায় হতাশ নন কোচ জিলানী, বরং সালাউদ্দিনের এমন পদক্ষেপে খুশিই।

নির্বাচিত সংবাদ