২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

গদি ছাড়তে নারাজ খাজা!

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ যা রটে, তা কিছুটা বটে। তবে খাজা রহমতউল্লাহ দাবি করতেই পারেনÑ শোনা কথা বিশ্বাস করতে নেই। গদি ছাড়ার গুজবকে তিনি উড়িয়ে দিলেন এক ফুঁয়ে। কয়েক দিন ধরেই বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছিল তথাকথিত ‘বিদ্রোহী’ চার ক্লাবকে ফেরাতে বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে পদত্যাগ করবেন তিনি। তার সঙ্গে সরে দাঁড়াবেন নির্বাহী কমিটির অন্য সদস্যরাও। তারপর এ্যাডহক কমিটি গঠন করে দেবে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ। এ সব কিছুকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিয়েছেন খাজা। বরং তিনি জানিয়েছেন, তার বর্তমান কমিটি বিদ্রোহীদের ফেরাতে নতুন উদ্যোগ নেবে। এতেও যদি সুফল না আসে তবে ছয় দল নিয়েই লীগ আয়োজিত হবে। বুধবার বাংলাদেশ অলিম্পিক এ্যাসোসিয়েশন মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি। সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে ফেডারেশনের সহসভাপতি আবদুস সাদেক, যুগ্মসম্পাদক ইউসুফ আলী ও আনভীর আদিল খান ও কোষাধ্যক্ষ কাজী মইনুজ্জামান পিলা উপস্থিত ছিলেন।

হকি ফেডারেশনের বিগত নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদকের পদে শফিউল্লাহ আল মুনিরকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছিল মোহামেডান। ভোটার তালিকায় অনিয়মের অভিযোগ এনে শেষ পর্যন্ত ওই নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ায় মোহামেডান, মেরিনার্সসহ চারটি ক্লাব। চলতি বছর যখন লীগ শুরু করার প্রক্রিয়া চলছে, তখন একই কায়দায় বিদ্রোহীরা লীগ বর্জনের ঘোষণা দেয়। তাদের সঙ্গে যোগ দেয় ফেডারেশনের বর্তমান সহসভাপতি আবদুর রশিদ শিকদারের ক্লাব ঊষা ক্রীড়াচক্র। গত ১২ আগস্ট রাজধানীর এক হোটেলে চার বিদ্রোহী ক্লাবের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সভা করেন রশিদ। ওই সভায় ফেডারেশনের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক খাজা রহমতউল্লাহর পদত্যাগ দাবির পাশাপাশি বর্তমান কমিটিকে অবৈধ আখ্যা দেয়া হয়। ওই সভায় যেসব তৎপরতা হয়েছিল তাকে ষড়যন্ত্র বলে মনে করছেন রহমতউল্লাহ। তার কথা, ‘বর্তমান কমিটির সাফল্যকে হেয় করতেই অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। অনেকেই আমার পদত্যাগ দাবি করেন। তবে আমার বিপক্ষে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ কী, তা কেউই বলতে পারেনি। আমি সারাবছর খেলা মাঠে রেখেছিÑ সেটাই কী আমার অপরাধ? আমি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলছি, হকির স্বার্থবিরোধী কোনকিছু আমার বিরুদ্ধে প্রমাণ করতে পারলে এমনিতেই সরে দাঁড়াব। প্রায় সাড়ে তিন বছরের মেয়াদে আমাদের কমিটি প্রায় ৫০টির মতো টুর্নামেন্টের আয়োজন করেছে। আন্তরিকভাবে চেষ্টা করেছি হকিকে মাঠে রাখতে।’ তিনি বলেন, ‘পদত্যাগ কোন সমাধান নয়, আমার একার পদত্যাগে কোন সমাধান হবে না। বরং আরেকটি জটিলাবস্থা তৈরি হবে। এভাবে চলতে থাকলে হকির পরিণতি আরও খারাপের দিকে যাবে। আমি আবারো বলব, হকির স্বার্থে আপনারা খেলায় আসুন। আমরা সর্বোচ্চ ছাড় দেব। সহসভাপতিসহ কয়েকটি পদ খালি আছে, তারা যদি রাজি থাকে আমরা সেই পদগুলোতে বিদ্রোহী ক্লাবগুলোর কর্মকর্তাদের বসাতে চাই।’ খাজা আরও বলেন, ‘হকি ফেডারেশনের আগামী সভায় সিদ্ধান্ত নেয়া হবে লীগের ব্যাপারে। প্রয়োজনে তাদের জন্য আমরা আরও অপেক্ষা করব। তবে কেউ যদি না আসে তাদের ছাড়াই লীগ শুরু করা হবে। শেষ পর্যন্ত না খেললে বাইলজ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।’