২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ভারতের কঠিন পরীক্ষা

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ কলম্বোতে আজ থেকে শুরু শ্রীলঙ্কা-ভারত দ্বিতীয় টেস্ট। গলের প্রথম ম্যাচে ভরাডুবির পর তিন টেস্টের সিরিজে টিকে থাকতে জিততেই হবে ক্রিকেট মোড়ল ভারতীয়দের। পি সারা ওভালে বিদায়ী গ্রেট কুমার সাঙ্গাকারাকে ম্যাচের সঙ্গে সিরিজ জয় উপহার দিতে এ্যাঞ্জেলো ম্যাথুসের দল যেখানে আত্মবিশ্বাসী, সেখানে অতিথি বিরাট কোহলিদের জন্য অগ্নিপরীক্ষার লড়াই এটি। তার ওপর ইনজুরিতে শেষ মুহূর্তে ছিটকে গেছেন প্রথম টেস্টের সেঞ্চুরিয়ান শিখর ধাওয়ান। পরিবর্তে দলে ডাকা হয়েছে অলরাউন্ডার স্টুয়ার্ট বিনিকে। গলে শুরুতে বেশ ভাল অবস্থায় থেকেও দ্বিতীয় ইনিংসের ব্যাটিং ব্যর্থতায় শেষ পর্যন্ত হার মানে ভারত। অনেকে প্রশ্ন তুললেও যথারীতি আক্রমণাত্মক ক্রিকেটের হুঙ্কার ছুড়েছেন অন্তর্বর্তী কোচ রবি শাস্ত্রী।

প্রথম টেস্টে ভারতের হারের ধরন নিয়েই বেশি আলোচনা হচ্ছে। শ্রীলঙ্কাকে ১৮৩ রানে গুটিয়ে দেয়ার পর প্রথম ইনিংসে ৩৭৫ রান করে ১৯২ রানে এগিয়ে যায় ভারত। দ্বিতীয় ইনিংসে এক পর্যায়ে ৯৫ রানে লঙ্কানদের ৫ উইকেট তুলে নিয়ে ইনিংস ব্যবধানে জয়ের আশা জাগায় অতিথিরা। সেখান থেকে অবিশ্বাস্য ব্যাটিংয়ে ৩৬৭ রান করে উল্টো ১৭৫ রানের লিড পেয়ে যায় শ্রীলঙ্কা! জবাবে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ১১২ রানে অলআউট হয়ে ৬৩ রানের বড় ব্যবধানে হারে কোহলির দল। ব্যাট হাতে চরম ভরাডুবি হয় ক্রিকেটের মোড়লদের। লঙ্কান স্পিনার রঙ্গনা হেরাথের ঘূর্ণিবিষে (৭/৪৮) নীল হয়ে একে একে মাথা নিচু করে সাজঘরে ফেরেন শিখর ধাওয়ান, রোহিত শর্মা, অজিঙ্কা রাহানেরা। যেটিকে ‘ভয়াবহ বিপর্যয়’ এবং আক্রমণাত্মক খেলার মাসুল বলে অভিহিত করেন সাবেকরা।

তবে মেন্টর ও অন্তর্বর্তী কোচ শাস্ত্রী দমে যাওয়ার পাত্র নন। তিনি বলেন, ‘মাঠে ছেলেদের মানসিকতায় কোন সমস্যা দেখছি না। আমাদের উদ্দেশ্য ভয়ডরহীন ক্রিকেট খেলা। প্রতিভা নিয়েও প্রশ্ন নেই। প্রয়োজন কেবল শেষ পর্যন্ত মেজাজ ধরে রাখা। কলম্বোয় ঘুরে দাঁড়াতে আত্মবিশ্বাসী আমরা।’ গলে ডান হাতের আঙুলে চোট পাওয়ায় শেষ মুহূর্তে ছিটকে গেছেন তারকা ব্যাটসম্যান শিখর ধাওয়ান। আগেই ইনজুরিতে ভোগা মুরলি বিজয়ও নিশ্চিত নন। প্রথম টেস্টে পুরোপুরি ব্যর্থ লোকেশ রাহুলের সঙ্গে তাই ওপেনিংয়ে দেখা যেতে পারে চেতেশ্বর পূজারাকে। রেসে থাকছেন রোহিত শর্মা। হরভজন সিংয়ের পরিবর্তে একাদশে ঢুকে পড়তে পারেন স্টুয়ার্ট বিনিও। অধিনায়ক কোহলি আশ্বিন এবং হরভজনকে অলরাউন্ডারের ভূমিকায় দেখতে চাইলেও দু’জনই মূলত স্পিন বোলার। প্রথম ইনিংসে উইকেটশূন্য হরভজন দ্বিতীয় ইনিংসে নিয়েছেন মোট ১ উইকেট। ব্যাট হাতে প্রথম ইনিংসে ১৫ এবং দ্বিতীয় ইনিংসে সাজঘরে ফিরেছেন মাত্র ১ রানে! লঙ্কানদের গল্পটা পুরোপুরি ভিন্ন। ঘরের মাটিতে পাকিস্তানের কাছে নাস্তানাবুদ হয়ে এ সিরিজ শুরু করে এ্যাঞ্জেলো ম্যাথুসের দল। প্রথম ইনিংসে ১৯২ রানে পিছিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত অসাধারণ জয় তুলে নেয় তারা। যেখানে পুরো কৃতিত্ব দ্বিতীয় ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান দিনেশ চান্দিমাল (১৬২*) ও স্পিনার রঙ্গনা হেরাথের। নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসের ব্যাটিং-বোলিং কারিশমায় মাত করে শ্রীলঙ্কা। তবে সমস্যা তাদেরও কম নয়। বিশেষ করে প্রথম ইনিংসে ১৮৩ রানে অলআউট হওয়া। ইনজুরির কারণে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে পেসার নুয়ান প্রদীপকে নিয়ে। ৩ উইকেট শিকারে গল টেস্ট জয়ে ভূমিকা ছিল ডানহাতি এই পেসারের। বল করার পর কয়েকবার পিচে বিপজ্জনক জায়গায় দাঁড়ানোয় আম্পায়ার তাকে সতর্ক করেছিলেন, শেষ পর্যন্ত ইনজুরিতে পড়তে হয়। ‘প্রদীপের যা অবস্থা তাতে শেষ পর্যন্ত হয়ত মাঠে নামতে পারছে না তিনি’Ñ সংবাদমাধ্যমকে বলেন অধিনায়ক ম্যাথুস।

চামিন্দা ভাসের বিদায়ের পর টেস্টে ডমিনেট করার মতো পেসার পায়নি শ্রীলঙ্কা। দীর্ঘ পরিসরে সাফল্যে ভূমিকা রেখে চলেছেন স্পিনার রঙ্গনা হেরাথ। প্রথম টেস্টে দুই ইনিংস মিলিয়ে ৮ উইকেট নিয়ে জ্বলে উঠেছেন তরুণ স্পিনার থারিন্ডু কুশলও। লঙ্কানদের মূল সমস্যা ব্যাটিংয়ে। দিমুথ করুনারতেœ, লাহিরু থিরিমান্নে প্রত্যাশা পূরণ করতে পারছেন না। কলম্বো টেস্টই কুমার সাঙ্গাকারার জীবনের শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ। বিদায়ের হতাশাতেই কি না গলে ৫ ও ৪০ রান করে সাজঘরে ফেরেন আধুনিক ক্রিকেটের অন্যতম সেরা এই ব্যাটসম্যান!