২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

দশম শ্রেণির পড়াশোনা

প্রিয় শিক্ষার্থীবৃন্দ,

শুভেচ্ছা রইল, আশা করি ভাল আছ। আজ তোমাদের জন্য যোজনী, পরিবর্তনশীল যোজনী, সক্রিয় যোজনী ও সুপ্ত যোজনী নিয়ে আলোচনা করব।

যোজনী/যোজ্যতা : রসায়ন শাস্ত্রে যোজনী বা যোজ্যতা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। মৌল বা মূলকের যোজনী জানা না থাকলে কোন মৌল বা যৌগের সঙ্কেত সঠিকভাবে লেখা যায় না। সংকেত সঠিক না হলে সমীকরণও সঠিক হয় না।

আমরা জানি, দুই বা ততোধিক পরমাণুর সংযোগে অণু গঠিত হয়। পরমাণুর এই সংযোগ যথেচ্ছা ঘটে না, বরং একটি নিয়মের মাধ্যমে ঘটে। দেখা যায় একটি মৌলের নির্দিষ্ট সংখ্যক পরমাণু অপর মৌল বা মৌলসমূহের নির্দিষ্ট সংখ্যক পরমাণুর সঙ্গে যুক্ত হয়ে অনুগঠন করে।

অনেক সময় দেখা যায় হাইড্রোজেনকে যোজনী পরমাপের মান হিসাবে ধরা হয়। কোন মৌল যত সংখ্যক হাইড্রোজেনের সাথে যুক্ত হতে পারে বা কোন যৌগ হতে যত সংখ্যক হাইড্রোজেনকে প্রতিস্থাপিত করতে পারে ততই তার যোজনী। যেমন ঐঈষ এ ক্লোরিনের যোজনী ১। কারণ ক্লোরিনের একটি পরমাণুর সাথে হাইড্রোজেনের একটি পরমাণু যুক্ত হয়েছে। ঐ২ঙ অক্সিজেনের যোজনী ২, কারণ একটি অক্সিজেন পরমাণু দুইটি হাইড্রোজেন পরমাণুর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। অনুরূপভাবে ঘঐ৩ তে নাইট্রোজেনের যোজনী ৩, ঈঐ৪ এ কার্বনের যোজানী ৪।

আবার এমন অনেক মৌল আছে যারা হাইড্রোজেনের সাথে যুক্ত হয় না বা কোন যৌগ হতে হাইড্রোজেনকে প্রতিস্থাপনও করতে পারে না। সেক্ষেত্রে ক্লোরিনকে যোজনী পরিমাপের মান হিসাবে ধরা হয়। যেমন অমপষ। এ সিলভারের যোজনী ১ কারণ সিলভার একটি ক্লোরিন পরমাণুর সাথে যুক্ত হয়েছে। ঈঁপষ২ এ কপারের যোজনী ২, কারণ একটি কপার পরমাণু দুইটি ক্লোরিন পরমাণুর সাথে যুক্ত হয়েছে। একই কারণে অঁপষ৩ এ অঁ এর যোজনী ৩।

আবার কিছু মৌল আছে যারা হাইড্রোজেন বা ক্লোরিনের সাথেও যুক্ত হয় না। সেক্ষেত্রে হাইড্রোজেন বা ক্লোরিনের সমতুল্য অন্য কোন মৌলকে যোজনী পরিমাপের মান হিসাবে ধরা হয়। কোন কোন ক্ষেত্রে এরও ব্যতিক্রম পরিলক্ষিত হয়।

যোজনীর সংজ্ঞা :- কোন মৌলের একটি পরমাণু হাইড্রোজেন অথবা তার সমতুল্য অন্য কোন মৌলের যতসংখ্যক পরমাণুর সাথে সংযুক্ত হয়, অথবা কোন যৌগ হতে হাইড্রোজেনের যত সংখ্যক পরমাণু প্রতিস্থাপিত করতে পারে সেই সংখ্যাকে সেই মৌলের যোজনী বলা হয়।

এছাড়া অনেক সময় সহজভাবে বলা যায়- একটি মেইলের সাথে অপর মেইলের যুক্ত হবার সামর্থ্যকে যোজনী বলা হয়।

পরিবর্তনশীল যোজনী :- কোন কোন মৌলের একাধিক যোজনী পরিলক্ষিত হয়। যেমন ঝ এর যোজনী যথাক্রমে ২, ৪ ও ৬ আয়রনের যোজনী ২ আস) ও ৩(ইক)। নাইট্রোজেনের যোজনী ১, ২, ৩ ৪ ও ৫। এ রকম আরও অনেক মৌল আছে যাদের একাধিক যোজনী রয়েছে।

যে সকল মৌলের একাধিক যোজনী আছে তাদেরকে বলা হয় পরিবর্তনশীল যোজনী মৌল, তাদের যোজনীকে বলা হয় পরিবর্তনশীল যোজনী।

সক্রিয় যোজনী :- কোন যৌগে কোন মৌলের যে যোজনী কার্যকর থাকে, অর্থাৎ যে যোজনী ব্যবহৃত হয় তাকে ঐ যৌগে ঐ মৌলের সক্রিয় যোজনী বলা হয়। যেমন ঝঙ২ যৌগে ঝ এর যোজনী। ৪ ব্যবহৃত হয়েছে। তাই ঝঙ২ যৌগ সালফারের সক্রিয়যোজী ৪। আবার ঝঙ৩ যৌগে ঝ এর যোজনী ‘৬’ ব্যবহৃত হয়েছে, তাই ঝঙ৩ যৌগে সালফারের সক্রিয় যোজনী ৬।

সুপ্তযোজনী :- কোন মৌলের সর্বোচ্চ যোজনী ও কোন যৌগে মৌলটির সক্রিয় যোজনীর মধ্যকার ব্যবধানকে সেই যৌগে সেই মৌলের সুপ্ত যোজনী বলা হয়। ঈ, চ, ঝ প্রভৃতি পরিবর্তনশীল যোজী মৌল। কার্বনের যোজনী ২, ৪, ফসফরাসের যোজনী ৩, ৫, সালফারের যোজনী ২, ৪, ৬ কার্বনের সর্বোচ্চ যোজনী ৪, ফসফরাসের সর্বোচ্চ যোজনী ৫, সালফারের সর্বোচ্চ যোজনী ৬, ঈঙ এ কার্বনের সক্রিয় যোজনী ২। অতএব ঈঙ যৌগে কার্বনের সুপ্তযোজনী ৪-২=২ আবার ঈঙ¬২ যৌগে কার্বনের সক্রিয় যোজনী ৪, তাই ঈঙ¬২ যৌগে কার্বনের সুপ্তযোজনী ৪-৪ =০, চঈষ¬৩ যৌগে চ এর সক্রিয় যোজনী ৩, সুতরাং চঈষ¬৩ যোগে চ এর সুপ্তযোজনী ৫-৩=২। চঈষ¬১৫ যৌগে চ এর সক্রিয় যোজনী-৫, তাই চঈষ¬৫ যৌগে চ এর সুপ্ত যোজনী ৫-৫=০, একই মৌলের সুপ্ত যোজনী ভিন্ন ভিন্ন যৌগে ভিন্ন ভিন্ন হয়।