১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

মৃদুলা সমাদ্দারের রবীন্দ্রসঙ্গীতের এ্যালবাম ‘প্রাণের পরে’

সংস্কৃতি ডেস্ক ॥ এটিএন তারকা প্রতিযোগিতার দ্বিতীয় রানার্স আপ প্রতিশ্রুতিশীল সঙ্গীতশিল্পী মৃদুলা সমদ্দারের কণ্ঠে ধারণকৃত রবীন্দ্রসঙ্গীতের এ্যালবাম ‘প্রাণের পরে’ সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে। কবিগুরুর জন্মদিবস উপলক্ষে লেজার ভিশনের ব্যানারে এ্যালবামটি প্রকাশ হয়। শিল্পী, সঙ্গীত পরিচালক অজয় মিত্রের সঙ্গীত পরিচালনায় এই এ্যালবামে রবীন্দ্রনাথের জনপ্রিয় ৮টি গান রয়েছে। নতুন এ এ্যালবাম নিয়ে শিল্পী মৃদুলা সমাদ্দার বেশ আশাবাদী। শ্রোতারা এ্যালবামের গানগুলো শুনলে তাদের ভাল লাগবে বলে জানান তিনি। এ্যালবাম প্রসঙ্গে মৃদুলা সমাদ্দার বলেন, প্রাতিষ্ঠানিকভাবে নজরুল সঙ্গীত শিখলেও আমি মনে করি একজন শিল্পীর সব ধরনের গান শেখা এবং গাওয়ার অভিজ্ঞতা থাকা উচিত। রবি ঠাকুরের গান বাঙালীর প্রাণের স্পন্দন। রবীন্দ্রসঙ্গীতের প্রতি ভাললাগা, ভালবাসা থেকেই এই এ্যালবামটি করা। এ্যালবামের গানগুলো শ্রোতা হৃদয়ে বিন্দুমাত্র দোলা দিলে আমাদের প্রচেষ্টা সার্থক হবে বলে তিনি মনে করেন।

শিল্পী মৃদুলা সমদ্দারের একক এ্যালবাম ‘গোধূলি সেই বিকেলে’ ২০০৮ সালে প্রকাশিত হয়। এছাড়াও গান করেছেন বিভিন্ন মিক্সড এ্যালবাম ও চলচ্চিত্রে। গত ১৬ জানুয়ারি মুক্তিপ্রাপ্ত নার্গিস আক্তার পরিচালিত ‘পুত্র এখন পয়সাওয়ালা’ চলচ্চিত্রে একটি যৌথ গান করেছেন মৃদুলা। এছাড়া তিনি বাংলাদেশ থেকে যাওয়া বিভিন্ন ডেলিগেশন ট্যুরে অংশ নিয়ে থাকেন। শিল্পী মৃদুলা সমদ্দারের জন্ম পিরোজপুরের কাউখালিতে। তার বাবা মৃণাল কান্তি সমদ্দার, মা সুনন্দা সমদ্দার। তার ছোট বোন মনিকুন্তলা সমদ্দার। তার পরিবারে প্রায় সবাই গানের সঙ্গে যুক্ত থাকায় ছোটবেলা থেকে একটি সাঙ্গীতিক পরিবেশে বেড়ে ওঠেন। পড়াশোনার পাশাপাশি গানের চর্চা ছিল। বিশেষ করে তাঁর বাবা ভাল নজরুলের গান করেন। চার বছর বয়স থেকে তাঁর গান শেখা শুরু। বাবার হাতেই গানের হাতেখড়ি। এরপর ওস্তাদ চিত্ত দাস, ওস্তাদ পবিত্র সাহা, ওস্তাদ পতিত পাবন নত্তের কাছে উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতের তালিম নিয়েছেন। বর্তমানে প্রিয়াঙ্কা গোপের কাছে উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতের তালিম নিচ্ছেন। এছাড়া ছোটবেলা থেকে খেলাঘর ও উদীচীর সঙ্গে যুক্ত। সঙ্গীত জীবনে তিনি শিশু একাডেমি, মৌসুমী প্রতিযোগিতা, শিক্ষা সপ্তাহসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে জাতীয় পুরস্কার পেয়েছেন। এছাড়া সার্ক শিশু কিশোর মৈত্রী পুরস্কার, বাবিসাস পুরস্কার পেয়েছেন। উচ্চ মাধ্যমিক পড়ার সময় এটিএন বাংলা আয়োজিত এটিএন তারকা প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে তৃতীয় স্থান লাভ করেন। তিনি দেশে ও দেশের বাইরে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গান পরিবেশন করে আসছেন। গানের প্রতি ভাল লাগা থেকেই ২০০৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সঙ্গীত বিভাগে (নজরুল) ভর্তি হন। ২০১২ সালে স্নাতক ও ২০১৩ সালে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর পাস করেন। বর্তমানে নজরুলের গান নিয়ে ড. মহসিনা আক্তার খানম লীনা তাপসীর সান্নিধ্যে এমফিল করছেন। পাশাপাশি একটি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে শিক্ষকতা করছেন তিনি। বাংলাদেশে মিতালী মুখার্জীর গানের ভক্ত মৃদুলা। এছাড়া বরেণ্য শিল্পী লতা মঙ্গেশকর, হৈমন্তী শুক্লা, মান্না দে, কিশোর কুমারের গান ও গায়কী তাকে আন্দোলিত করে। শুদ্ধ সঙ্গীতের চর্চার পাশাপাশি বাংলা গানকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চান। বাংলাদেশকে ভালবেসে, বাংলাকে হৃদয়ে ধারণ করে বাংলা গানের উত্তরোত্তর সমৃদ্ধির জন্য নিরন্তর চেষ্টা করছেন তিনি। তার জন্য শুভ কামনা।