২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

হাসিনের গল্প...

মিডিয়ায় যারা কাজ করেন সংসার তাদের দুটো। একটি তিনি যেখানে কাজ করেন সেই ক্ষেত্রটি আর নিজের সংসার। যেহেতু দর্শকপ্রিয় অভিনেত্রী হাসিন যেহেতু বিয়ে করেছেন তাই তারও সংসার দুটো। তবে কোনটিকেই তিনি কম গুরুত্বের চোখে দেখেন না। শূটিং শেষে গাড়িতে উঠা মাত্রই ফেলে আসা কাজ আপাতত মাথা থেকে সরিয়ে সংসারে ডুব দেন হাসিন। মুঠোফোনেই খোঁজ নিতে থাকেন স্বামী মারুফ কোথায় আছেন, বাসায় ফিরেছেন কিনা কিংবা ঘরের অন্যান্য খবর। বাসায় ফিরেই মেকাপ তুলে নেয়ার আগে কিছুটা ফ্রেশ হয়ে রান্না ঘরে প্রবেশ করেন। সেখানকার কাজ শেষে স্বামীর সঙ্গে অন্তত রাতের খাবার একসঙ্গে খেয়ে জীবনের গল্পে মেতে উঠেন মারুফ আর হাসিন। গল্পে গল্পে পৃথিবীর এই প্রান্ত থেকে এ প্রান্তে ছুটে বেড়ান দু’জন। আবার আগামী দিনের পরিকল্পনাও করেন দু’জন। পৃথিবীর সুখী মানুষদের একজন হাসিন মারুফের মতো বন্ধুসুলভ একজন স্বামী পেয়ে। রাজশাহীর মেয়ে হাসিনের সঙ্গে নারায়ণগঞ্জের ছেলে মারুফের সংসার জীবনের সুখের গল্পের কিছুটা উপস্থিতি পাঠকের কাছে তুলে ধরেছি মাত্র।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রী হাসিন। এখনও মন ছুটে যায় তার রোকেয়া হলের আনাচে-কানাচে। ইচ্ছে করে আবার ছাত্রী জীবনে ফিরে যেতে। কিন্তু তা কী আর হয়। তা না হলেও বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রিক কোন স্ক্রিপ্ট হাতে এলে হাসিন তাতে অভিনয় করার চেষ্টা করেন নিজের সর্বোচ্চ আবেগ আর ভালবাসা দিয়ে। হাসিন সবসময়ই চেষ্টা করেন ভাল গল্পের নাটকে অভিনয় করতে। প্রয়োজেন ঘরে বসে থাকবেন, সংসারের কাজ করবেন তারপরও কোনরকমের স্ক্রিপ্টে কাজ করবেন না তিনি। ২০১১ সালের ভিট চ্যাম্পিয়ন তারকার মনোভাবটা আসলে এমনই হওয়া উচিত। তাই স্যালটু টু হাসিন। যদি তিনি এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেন তবে অবশ্যই হাসিনও হবেন অন্য অনেক অভিনয়শিল্পীর মতো অনুকরণীয় একজন।

এদিকে জাতিসংঘের একটি বিশেষ প্রকল্পের কাজে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। জাতিসংঘের অর্থায়নে পরিচালিত এ প্রকল্পের নাম হচ্ছে ‘জেসিআই ঢাকা আপ টাউন’। এ প্রকল্পে তিনি পরিচালক হিসেবে কাজ করছেন। সম্প্রতি তিনি নারায়ণগঞ্জের পরমেশ্বর গ্রামে কাজ করেছেন। ‘জেসিআই ঢাকা আপ টাউন’ প্রকল্পের কার্যক্রমের মাধ্যমে এ গ্রামকে তিনি তথ্যপ্রযুক্তির আওতায় এনে ডিজিটাল গ্রামে রূপ দিয়েছেন। তারই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি এ গ্রামকে ডিজিটাল গ্রাম হিসেবেও ঘোষণা করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে হাসিন রওশন জাহান বলেন, ‘জাতিসংঘের এ বিশেষ প্রকল্পে কাজ করতে পেরে আমি ভীষণ আনন্দিত। অনেকটা সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে এ কার্যক্রমে নিজেকে সম্পৃক্ত করেছি। এখানে কাজ করার সুবাদে আমি গ্রামের প্রান্তিক মানুষের কাছে যাওয়ার সুযোগ লাভ করেছি। গ্রামের দরিদ্র নারী ও শিশুদের জীবনযাপনকে খুব কাছ থেকে উপলব্ধি করতে পেরেছি। বিশেষ করে এ প্রকল্পের মাধ্যমে আমি গ্রামের অশিক্ষিত ও অর্ধশিক্ষিত নারীদের স্বাস্থ্যসচেতন করছি। তাদের প্রজননস্বাস্থ্য বিষয়ে জ্ঞান, হাত ধোয়ায় উদ্বুদ্ধ করা, শিশুদের বিশেষ যতœ নেয়া সর্বোপরি নারীদের স্বাবলম্বী হওয়ার বিষয়েও গুরুত্ব আরোপ করছি। এ ধরনের একটি ভাল কাজে অর্থায়ন করায় জাতিসংঘকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাচ্ছি।’ পরমেশ্বর গ্রামের কার্যক্রমের পর হাসিন তার আশপাশের গ্রামেও এ প্রকল্পের কাজ শুরু করবেন। মিডিয়ায় হাসিনের সবচেয়ে প্রিয় বন্ধু মডেল কাম অভিনেত্রী মেহ্জাবিন চৌধুরী। পরিবারের বাইরের নয় কিংবা মিডিয়ায়র কেউ নয় এমন সম্পর্কের উর্ধে একজন মানুষ হিসেবেই বিবেচনা করেন মেহ্জাবিনকে। সুখে দুঃখে মেহ্জাবিনকে হাসিন যেমন কাছে পান, ঠিক তেমনি মেহ্জাবিনের পাশেও থাকার চেষ্টা করেন। হাসিন বলেন, ‘আমার চেয়ে বয়সে ছোট হলেও মিডিয়াতে কাজ করতে এসেই মূলত তার সঙ্গে আমার বন্ধুত্ব। অনেকেই আমাদের বন্ধুত্বের সম্পর্কটা হিংসে করে। কিন্তু আমরা দু’জনই বিষয়টা বেশ উপভোগ করি।’ চ্যানেল আইতে কাল শুক্রবার দুপুর ২টার সংবাদের পর প্রচারের লক্ষ্যে সজল ও হাসিনকে নিয়ে নির্মিত হয়েছে টেলিছবি ‘আমার বুক ভেঙ্গে যায়’। টেলিছবিটি রচনা করেছেন মহিদুর রহমান এবং নির্দেশনা দিয়েছেন রুমান রুনি। গত ঈদে একই পরিচালকের নির্দেশনায় সজল ও হাসিন একসঙ্গে অভিনয় করেছিলেন এশিয়ান টিভিতে প্রচারিত ঈদ ধারাবাহিক নাটক ‘টার্গেট ০০৭’-এ। নাটকটি বেশ দর্শকপ্রিয়তা পেয়েছিল। ‘আমার বুক ভেঙ্গে যায়’ টেলিছবিতে সজল অভিনয় করেছেন মারুফ চরিত্রে এবং হাসিন অভিনয় করেছেন রাইসা চরিত্রে। হাসিন বলেন, ‘এই টেলিছবিতে আমার চরিত্রটির উপস্থিতি খুব কম হলেও নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্র মূলত আমি। আমাকে ঘিরেই মূলত নাটকের গল্প। আমি চেষ্টা করেছি নিজেকে ভালভাবে উপস্থাপন করার। দর্শকের কাছে ভাললাগলেই আমি খুশি।’ এই টেলিছবিতে দুটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন রাইসুল ইসলাম আসাদ ও শবনম পারভীন। এদিক চ্যানেল আইতে গত সপ্তাহে প্রচার শুরু হয়েছে হাসিন অভিনীত নতুন ধারাবাহিক নাটক ‘ভৈরব’। এ ছাড়াও বর্তমানে বেশ কয়েকটি ধারাবাহিকে নিয়মিত অভিনয় করছেন হাসিন। এর মধ্যে রয়েছে দীপঙ্কর দীপনের ‘গ্র্যান্ড মাস্টার’ (চ্যানেল নাইন), মারুফ মিঠুর ‘তিনি আসবেন’ (বাংলাভিশন), জাহিদ হাসানের ‘উড়া মন’ (আরটিভি) ও এস হক অলিকের ‘সোনার সুতো’ (আরটিভি)। আসছে ঈদ উপলক্ষেও হাসিনকেও বেশ ক’টি ভাল গল্পের নাটকে অভিনয় করতে দেখা যাবে। দেশের চ্যানেলে চ্যানেলে হাসিমাখা হাসিনের মুখ ঘুরে ফিরে আসুক বারবার এমনটাই প্রত্যাশা করেন তার ভক্ত দর্শকরা। হাসিনের জন্য শুভ কামনা।