২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

প্রাথমিক সমাপনীর শেষ ৪০ মিনিট থেকে এক ঘণ্টা হলে অরাজক পরিস্থিতি

  • গবেষণা প্রতিবেদনে এমন চিত্রই ফুটে উঠেছে;###;গবেষণা প্রতিবেদনে তথ্য

স্টাফ রিপোর্টার ॥ প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষার শেষ ৪০ মিনিট থেকে এক ঘণ্টা পর্যন্ত হলে অরাজক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় পরীক্ষার্থীরা একে অপরের প্রশ্নের উত্তর মেলানো এবং দেখে লেখালেখি করে। এই পাবলিক পরীক্ষা নিয়ে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি তাদের অভিভাবকরাও মানসিক চাপের মধ্যে থাকেন। সমাপনী পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য কোচিং, অতিরিক্ত ক্লাসে মোটা অঙ্কের অর্থ খরচ করতে হয়।

বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা গণসাক্ষরতা অভিযানের ‘প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা কোন পথে? শিরোনামে একটি গবেষণা প্রতিবেদনে এমন চিত্রই উঠে এসেছে। গণসাক্ষরতা অভিযান, ইউকেএইড ও এডুকেশন ওয়াচ যৌথভাবে প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। প্রতিবেদনে সমাপনী পরীক্ষা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সুষ্ঠুভাবে আয়োজনের সুপারিশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে সমাপনী পরীক্ষা জাতীয়ভাবে না করে স্থানীয়ভাবে আয়োজনেরও সুপারিশ করা হয়েছে। বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এলজিইডি মিলনায়তনে এ ‘এডুকেশন ওয়াচ রিপোর্ট’ প্রকাশ করা হয়। যেখানে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা নিয়ে গবেষণা তথ্য উপস্থাপন করা হয়। বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এলজিইডি মিলনায়তেন বেসরকারী সংস্থা গণসাক্ষরতা অভিযান তাদের ২০১৪ সালের ‘এডুকেশন ওয়াচ রিপোর্ট’ প্রকাশ করে, যাতে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা নিয়েও গবেষণা তথ্য উপস্থাপন করা হয়। দেশের ১৫০টি উপজেলা, থানা, পৌরসভার ৫৭৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ওপর গবেষণা পরিচালনা করে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। পল্লী কর্মসহায়ক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ড. কাজী খলিকুজ্জমানের সভাপতিত্বে প্রতিবেদন প্রকাশের এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান। আরও বক্তব্য রাখেন গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী। অনুষ্ঠানে শিক্ষাবিদ, শিক্ষক, অভিভাবকসহ সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা নিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, ৬০-৬৫ শতাংশ শিক্ষার্থী অপরের সাহায্য ছাড়াই পরীক্ষা দিয়েছে। তবে যাদের প্রয়োজন ছিল তাদের জন্য সাহায্যের দ্বার উন্মুক্ত ছিল। পরিদর্শকরা মোবাইল ফোনে এসএমএস, ব্লাকবোর্ডে উত্তর লিখে দিয়েছিলেন। পরীক্ষার্থী নিজেরাও দেখাদেখির সুযোগ পায়। পাসের হার বাড়িয়ে দেয়ার জন্য অনেক পরীক্ষার্থীর নম্বর বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। যারা বার্ষিক পরীক্ষায় ভাল করে না তাদের অভিভাবকের কাছে কোচিং করানোর জন্য প্রতিশ্রুতি নেয়া হয়েছিল। গত বছর ৮৬ দশমিক ৩ শতাংশ বিদ্যালয়ে কোচিংয়ের আয়োজন ছিল। গণসাক্ষরতা অভিযান, শ্রেণীকক্ষে শিখনে জোরদার, সমাপনী পরীক্ষার উচ্চ প্রতিযোগিতামূলক চরিত্রে পরিবর্তন, সমাপনী পরীক্ষা জাতীয়ভাবে না করে স্থানীয়ভাবে আয়োজন, প্রশ্নপত্র প্রান্তিক যোগ্যতাভিত্তিক করার সুপারিশ করে। ড. কাজী খলিকুজ্জমান আহমেদ বলেন, সমাপনী পরীক্ষার নামে ছোট ছোট ছাত্রদের দুর্নীতি শেখানো হচ্ছে। শিক্ষানীতিতে পঞ্চম শ্রেণীর সমাপনী পরীক্ষার বিষয়টি না থাকলেও কেন নেয়া হচ্ছে তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।

নির্বাচিত সংবাদ
এই মাত্রা পাওয়া