২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

‘ষোড়শ সংশোধনী মৌলিক কাঠামোর পরিপন্থি’

অনলাইন রিপোর্টার ॥ সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী এর মৌলিক কাঠামোর পরিপন্থি গণ্য করা যেতে পারে বলে মত দিয়েছেন সংবিধান প্রণয়ন কমিটির অন্যতম সদস্য ড. কামাল হোসেন।

বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে ন্যস্ত করে আনা সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনীর বৈধতা নিয়ে করা রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে রুলের ওপর শুনানিতে অ্যামিকাস কিউরি হিসেবে কামাল হোসেন এই বক্তব্য দেন।

বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী, বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি মোঃ আশরাফুল কামালের বিশেষ বেঞ্চে বুধবার এই শুনানি হয়। বৃহস্পতিবারও শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।

ড. কামাল হোসেন বলেছেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর অন্যতম অংশ। জাতীয় সংসদের হাতে বিচারপতিদের অপসারণ ক্ষমতা সংক্রান্ত সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বিচার বিভাগের স্বাধীনতাকে খর্ব করতে পারে। তাই এই সংশোধনী সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর পরিপন্থি গণ্য করা যেতে পারে।

শুনানিকালে আদালতে রিট আবেদনকারী পক্ষে আইনজীবী মনজিল মোরসেদ এবং রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যার্টনি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু উপস্থিত ছিলেন।

শুনানিতে ড. কামাল বলেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে বিচারকদের চাকরির মেয়াদকাল। তারা যেন নির্বিঘ্নে ন্যায়বিচার করতে পারেন সেজন্য তার চাকরিকাল নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

“তবে ষোড়শ সংশোধনীর ফলে সংসদের দুই-তৃতীয়াংশ সংসদ সদস্যদের ভোটে একজন বিচারক অপসারণ করা যাবে। এই পরিস্থিতিতে একজন বিচারকের ভয়ভীতির ঊর্ধ্বে উঠে বিচার কাজ করা কি সম্ভব?”

১৯৭২ সালের যে সংবিধান প্রণয়নে যুক্ত ছিলেন ড. কামাল, তাতে বিচারক অপসারণের ক্ষমতা সংসদের উপর ন্যস্ত ছিল। ১৯৭৫ সালের ২৪ জানুয়ারি সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে এই ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির হাতে ন্যস্ত হয়। পরে সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে জিয়াউর রহমানের শাসনামলে বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের কাছে ন্যস্ত হয়। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার তা প্রথম অবস্থায় ফিরিয়ে নেয়।

ড. কামাল বলেন, বিচারপতিদের অপসারণে সংবিধানে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনী মামলায় আপিল বিভাগের রায়ে তা বহাল থাকে। কিন্তু সর্বোচ্চ আদালতের ওই রায় উপেক্ষা করে কোনো ধরনের আলোচনা ছাড়াই বিচারপতিদের অপসারণ ক্ষমতা সংসদের হাতে ন্যস্ত করা হল।

“আমাদের দেশের ৪০-৪২ বছরের অভিজ্ঞতা আমলে নিলে এত তড়িঘড়ি করে এই সংশোধনী আনা হত না। বিচারক অপসারণের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রভাব ও দলীয় পক্ষপাতিত্বের সম্ভাবনা থাকায় এ বিষয়ক সংশোধনী নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।”

গত বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর উচ্চ আদালতের বিচারপতি অপসারণের ক্ষমতা সংসদের কাছে ফিরিয়ে নিতে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী আনা হয়। বিলটি পাসের পর একই বছরের ২২ সেপ্টেম্বর তা গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়।

এই সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে গত বছরের ৫ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্টের নয় আইনজীবী হাই কোর্টে একটি রিট আবেদন করেন। প্রাথমিক শুনানির পর হাই কোর্ট রুল দেয়। রুলে ওই সংশোধনী কেন অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চাওয়া হয়।

এই রুলের ওপর চলতি বছরের ২১ মে শুনানি শুরু হয়। ওইদিন আদালত মতামত দিতে অ্যামিকাস কিউরি হিসেবে জ্যেষ্ঠ পাঁচ আইনজীবীর নাম ঘোষণা করেন।

তারা হলেন- ড. কামাল হোসেন, ব্যারিস্টার এম আমীর-উল ইসলাম, মাহমুদুল ইসলাম, ব্যারিস্টার রোকনউদ্দিন মাহমুদ ও আজমালুল হোসেন কিউসি।

গত ৩০ জুলাই আজমালুল হোসেন কিউসি মতামত উপস্থাপন করেন।