২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ক্রসফায়ার নিয়ে বিএনপির শঙ্কা

স্টাফ রিপোর্টার ॥ সম্প্রতি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে সরকার সমর্থক কয়েকজন নিহত হওয়ার পর বিএনপি আশঙ্কা করছে, এরপর তাদের দলের নেতা-কর্মীদের বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যা করা হবে।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর নয়া পল্টনে এক সংবাদ সম্মেলনে এই আশঙ্কার কথা জানান দলের মুখপাত্র ড. আসাদুজ্জামান রিপন।

নয়া পল্টনে দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে রিপনের সঙ্গে ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদু, সাংগঠনিক সম্পাদক হারুনুর রশীদ, শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক খায়রুল কবীর খোকন, সহ দপ্তর সম্পাদক আবদুল লতিফ জনি, আসাদুল করীম শাহিন, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানা।

“আমরা আশঙ্কা করছি, দুই-একটা-চারটা আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগের লোককে মেরে এরপরে বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের মারা হবে,” বলেন আসাদুজ্জামান রিপন।

গত কয়েক দিনে ঢাকা, মাগুরা ও কুষ্টিয়ায় আওয়ামী লীগের তিনজন র‌্যাব ও পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন, যারা সবাই হত্যামামলার আসামি।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল ‘বন্দুকযুদ্ধ’ বললেও ক্ষমতাসীন দলের নেতারা দাবি করেছেন, পরিকল্পিতভাবে তাদের হত্যা করা হয়েছে।

রিপন বলেন, “দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির এতটাই অবনতি হয়েছে যে সরকার বেসামাল হয়ে পড়েছে। আইনি পদক্ষেপের বিপরীতে ক্রসফায়ার শুরু করেছে।

“গতকাল পত্রিকায় হেডিং ছিল- ছাত্রলীগ বলছে এটা মানা যায় না। আর মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, অ্যাকশন শুরু। প্রকারান্তরে মন্ত্রী স্বীকার করে নিয়েছেন, সরকার ক্রসফায়ার করছে।”

বিএনপি সরকার আমলে র‌্যাব গঠনের পর বাংলাদেশে ক্রসফায়ার বা বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা আলোচিত হয়ে ওঠে। এসব ঘটনাকে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড দাবি করে তা বন্ধের আহ্বান মানবাধিকার সংগঠনগুলো জানিয়ে এলেও সরকার বদলের পরও একই ধরনের ঘটনা ঘটে চলছে।

‘ক্রসফায়ার’ দিয়ে সরকার আতঙ্ক তৈরি করতে চায় মন্তব্য করে রিপন বলেন, তার দল এর বিরুদ্ধে। আওয়মী লীগের কাউকে বিচারবহির্ভূত হত্যা করা হলেও তা সমর্থন করেন না তারা।

“সারাদেশে দুর্বৃত্তপনা বেড়ে গেছে। সরকারি দলের এমপি বদি (কক্সবাজারের আব্দুর রহমান বদি) তার এলাকায় দুর্বৃত্তপনা প্রচণ্ডভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে, তার হাতে সরকারি কর্মকর্তা লাঞ্ছিত হচ্ছে।”

“এখন কি বদিসহ অন্যদের ক্রসফায়ারে দিয়ে সমস্যার সমাধান করা যাবে? নিশ্চয়ই না। আমরা মনে করি, ক্রসফায়ার সমস্যার সমাধান নয়।”

‘গণতন্ত্রহীনতার’ কারণে বর্তমানে পরিস্থিতি ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েছে দাবি করে বিএনপির মুখপাত্র বলেন, “৫ জানুয়ারির নির্বাচনের ফলে সৃষ্ট সমস্যার সমাধান যদি করা যায়, মত প্রকাশ ও মিডিয়ার স্বাধীনতা যদি থাকে, তাহলে ক্রসফায়ারের প্রয়োজন হবে না, সমাজে শান্তি ও শৃঙ্খলার ভারসাম্য থাকবে।”