২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেল গুলিবিদ্ধ শিশু সুরাইয়া

সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেল গুলিবিদ্ধ শিশু সুরাইয়া
  • চিকিৎসকদের প্রশংসায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার ॥ সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেল মাগুরায় মায়ের পেটে গুলিবিদ্ধ শিশু সুরাইয়া। ভর্তি হওয়ার ২৫ দিন পর বৃহস্পতিবার ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়। এদিন বেলা দেড়টার দিকে স্বাস্থ্য মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম হাসপাতালে উপস্থিত হয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে মা নাজমা বেগমের কোলে তুলে দেন সুরাইয়াকে। এ ছাড়া বাবা বাচ্চু ভুঁইয়ার হাতে সুরাইয়ার হাসপাতাল ছাড়ার পত্র তুলে দেন মন্ত্রী। এর আগে মন্ত্রী সুরাইয়ার সার্বিক খোঁজখবর নেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের চিকিৎসকসহ সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন সুরাইয়ার মা নাজমা বেগম। সুরাইয়াকে বাঁচিয়ে বিশ্বে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বলে চিকিৎসকদের প্রশংসা করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম।

ছাড়পত্রের আনুষ্ঠানিকতার আগে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এক সংবাদ সম্মেলনে শিশু সুরাইয়ার মঙ্গল কামনা করে। অনুষ্ঠানে শিশুটির মা নাজমা বেগম বলেন, ডাক্তাররা আমাকে সাহায্য করেছেন। তাঁরা আমার বাচ্চাকে ভালবেসে চিকিৎসা দিয়েছেন। তাই সুরাইয়া আজ সুস্থ। হাসপাতালের সব চিকিৎসক ও নার্সকে ধন্যবাদ জানাই। তিনি বলেন, আমি বঙ্গবন্ধুকে দেখি নাই। কিন্তু তাঁর মেয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেখেছি। তাঁর জন্য আমি ও আমার সন্তান সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরতে পারছি। তিনি আমার সন্তানের দায়িত্ব নিয়েছেন, তাঁকে কী দিয়ে ধন্যবাদ জানাব বুঝতে পারছি না। আমার মা নেই তিনিই (শেখ হাসিনা) আমার মা।

এ সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, মাগুরা থেকে ঢাকা পর্যন্ত সকল চিকিৎসকের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুরাইয়া আজ বাড়ি ফিরে যাচ্ছে। এর চেয়ে আনন্দের আর কিছু হতে পারে না। তিনি বলেন, যে শিশুটির বাঁচার কোন সম্ভাবনাই ছিল না, ডাক্তারদের আন্তরিকতা ও মানবিক সেবার জন্য সে আজ জীবন ফিরে পেয়েছে। বিশ্বের মধ্যে ব্রাজিলে একটি শিশু মায়ের গর্ভে গুলিবিদ্ধ হয়েছিল, তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। কিন্তু আমাদের ডাক্তাররা সুরাইয়াকে বাঁচিয়ে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। এ জন্য চিকিৎসক টিমকে ধন্যবাদ। এটা তরুণ ডাক্তারদের কাছে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

শিশুটির বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে ডাঃ খালিদ হাসান মোল্লা বলেন, পাঁচ দিন ধরে শিশুটি নিজেই মায়ের দুধ খাচ্ছে, হজম করতে পারছে, শরীরের তাপমাত্রা ধরে রাখতে পারছে এবং ক্ষতস্থান শুকিয়ে গেছে। তার ওজন ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। জন্মের সময় শিশুটির ওজন ১৮শ’ গ্রাম ছিল; এখন প্রায় সাড়ে ২১শ’ গ্রাম।

তিনি বলেন, আমরা বোর্ডের ডাক্তাররা ২৬ দিন নিয়মিত এক বা একাধিকবার বসে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। বৃহস্পতিবার সকালেও আমরা পর্যবেক্ষণ করেছি। আমাদের মনে হয়েছে, বাকি চিকিৎসা সে বাড়িতেই নিতে পারবে। তাই আমরা তাকে ছাড়পত্র দিয়ে দিচ্ছি। অনুষ্ঠানে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের ছাত্রছাত্রীর কাছ থেকে সংগ্রহ করা ৬৫ হাজার টাকা সুরাইয়ার বাবা বাচ্চু ভুঁইয়ার হাতে তুলে দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য সচিব সৈয়দ মনজরুল ইসলাম, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিজানুর রহমান, অধ্যক্ষ ডাঃ মোহাম্মদ ইসমাইল খান, শিশু সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক আব্দুল হানিফ টাবলু, সহকারী অধ্যাপক কানিজ ফাতেমাসহ হাসপাতালের চিকিৎসক ও ঊর্ধতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত ২৩ জুলাই মাগুরা শহরের দোয়ারপাড় এলাকায় দুই গ্রুপের সংঘর্ষে মায়ের পেটে গুলিবিদ্ধ হয়ে সদর হাসপাতালে জরুরী অস্ত্রোপচারের পর সুরাইয়ার জন্ম। ২৬ জুলাই ভোর চারটার দিকে মা-বাবাকে ছাড়াই সুরাইয়াকে সঙ্কটাপন্ন অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যালে নিয়ে আসা হয়। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ১০ সদস্যের একটি মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করে। ২৮ জুলাই চিকিৎসকরা সুরাইয়াকে স্পেশাল কেয়ার বেবি ইউনিটে নিয়ে যান। ২৯ তারিখ হাসপাতালে আসেন মা। জন্মের ২৫ দিন পর প্রথমবারের মতো সুরাইয়াকে তার মায়ের কোলে দেয়া হয়।