২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বায়ান্ন বাজার তিপ্পান্ন গলি

বায়ান্ন বাজার তিপ্পান্ন গলি

মোরসালিন মিজান ॥ আগস্ট যেন শেষ হয় না। শোকের আগস্ট দীর্ঘ হয়। ১৫ আগস্টের শোক ভুলতে না ভুলতে আজ শুক্রবার ২১ আগস্ট। ২০০৪ সালের এই দিনে দ্বিতীয়বারের মতো আক্রান্ত হয় মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ। এমন বর্বর আক্রমণ আগে কখনও দেখেনি কেউ। একাত্তরের চেতনা ধ্বংস করতে সর্বশক্তি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পরেছিল পাকিস্তানের প্রেতাত্মারা। হায়েনার দল প্রকাশ্য জনসভায় গ্রেনেড হামলা চালায়। অজোপাড়া গাঁয়ে নয়, রাজধানী শহর ঢাকায়, সরকারী মদদে। প্রধান টার্গেট ছিলেন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা। তাঁর বক্তৃতা মঞ্চের ওপর থেকে গ্রেনেড ছোঁড়া হয়। গ্রেনেড ছোঁড়া হয় সমাবেশে যোগ দেয়া সাধারণ নেতাকর্মীদের ওপর। মুহূর্তেই মৃত্যুপুরী! কয়েক সেকেন্ড আগে যেখানে ভরপুর প্রাণ ছিল সেখানেই বয়ে যায় রক্তনদী। শেখ হাসিনাকে মানববর্ম তৈরি করে রক্ষা করা যায় বটে, নির্মম মৃত্যু হয় ২৪ জনের। আজ সেই কলঙ্কিত ২১ আগস্ট। এদিন যে ক্ষত সৃষ্টি হয়েছিল ঢাকার বুকে, আজও তা শুকোয় নি। বায়ান্ন বাজার তিপ্পান্ন গলির শহর আজও ব্যথিত। আজও জানাচ্ছে বিচারের দাবি। এই শহরকে যারা খুন করেছিল, কলঙ্কিত করেছিল, তাদের বিচার কি হবে না? প্রশ্নটি তোলার দিন আজ। আজ মরতে মরতে বেঁচে যাওয়া ২১ আগস্ট।

কিছু ঘটনা সিনেমায়ও ঘটে না। এই দেশে ঘটে। তেমন একটি দুঃখজনক ঘটনা ঘটেছিল মাগুরায়। গত কিছুদিন আগে। তারপর থেকে আলোচনায় ছোট্ট শিশু সুরাইয়া। এ শিশুটি পৃথিবীতে আসার আগেই পৃথিবীর নিষ্ঠুরতার সঙ্গে পরিচিত হয়েছে। গত ২৩ জুলাই মায়ের জঠরে থাকা অবস্থায় গুলিবিদ্ধ হয়েছে সে। তারপর থেকে রাজধানী শহরে। ঢাকা মেডিক্যালের চিকিৎসকরা যেন চ্যালেঞ্জ হিসেবে নেন। তাঁদের আন্তরিক চেষ্টায় ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠতে থাকে শিশুটি। কিন্তু ভূমিষ্ট হওয়ার আগে গুলিবিদ্ধ এই শিশু সত্যি সত্যি বাঁচবে? বাঁচবে তো? শেষ দেখার অপেক্ষায় ছিলেন রাজধানীবাসী। শিশুর মা নাজমা খাতুন ঢাকা মেডিক্যালে আসার আগেই এই শহুরের অনেক মা সেখানে চলে এসেছিলেন। এমনকি শিশুর জন্য বুকের দুধ কৌটোয় করে নিয়ে এসেছিলেন কোন কোন মা। হাসপাতালের চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীরা দু’বার রক্ত দিয়ে মা ও মেয়ের পাশে দাঁড়িয়েছেন। আর তারপর বৃহস্পতিবার শিশুটিকে সম্পূর্ন সুস্থ ঘোষণা করে তুলে দিয়েছে তাঁর মায়ের কোলে। এদিন মা মেয়েকে আনুষ্ঠানিকভাবে ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে। ২৯ দিন বয়সী শিশু ২৬ দিন কাটিয়ে গেছে হাসপাতালে। দুপুরে হাসপাতালের প্রশাসনিক ব্লকের সভাকক্ষে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম সুরাইয়াকে মা নাজমা খাতুনের কোলে তুলে দেন। এ সময় দারুণ আবেগঘন হয়ে ওঠে পরিবেশ। মায়ের চোখে আনন্দধারা। উপস্থিত সবাই এই মাকে মেয়েকে নতুন জীবনের শুরুতে স্বাগত জানান করতালির মাধ্যমে। এর আগে ব্রাজিলে এ রকম একটি ঘটনা ঘটেছিলো জানিয়ে অনুষ্ঠানে সুরাইয়ার চিকিৎসকেরা বলেন, সেই মা ও শিশুকে বাঁচানো যায়নি। কিন্তু আমরা সফল হয়েছি।

এবার প্রকৃতির কথা। একটা ছোট্ট পরিবর্তন ঘটে গেছে প্রকৃতিতে। আষাঢ় ও শ্রাবণ বিদায় নিয়েছে। গত হয়েছে বর্ষার কাল। তবে বৃষ্টি থেমে নেই। ভিজে একাবার শহর ঢাকা। ভারি হালকা সব ধরনের বর্ষণ অব্যাহত রয়েছে। কড়া রোদ, গা জ্বালা করা গরম আছে। আবার ফের মেঘলা আকাশ। যখন তখন। বৃহস্পতিবার তো দুপুর বেলাটিকে বিকেল মনে হয়েছে। আর বিকেলে নেমে এসেছিল সন্ধ্যা। খুব বেশি দিন অবশ্য এ অবস্থা চলমান থাকবে না। ষড়ঋতুর দেশ যে! কান্না থেমে যাবে আকাশের। দেখতে দেখতে থেমে যাবে। কারণ এরই মাঝে শুরু হয়ে গেছে শরত। ১ ভাদ্র থেকে শুরু। চলবে আশ্বিনের শেষ দিন পর্যন্ত। বৃষ্টির দাপটের মাঝেও বায়ান্ন বাজার তিপ্পান্ন গলির শহর ঢাকায় অল্প অল্প করে দৃশ্যমান হচ্ছে শরত। আকাশ নীলে সাজছে। তার ওপর ভেসে বেড়াচ্ছে সাদা মেঘের ভেলা। দেখে মনে হয় প্রতিথযশা শিল্পীর ক্যানভাস। রং তুলিতে এঁকে নিয়েছেন। মাথা তুলে ওপরের দিকে তাকালে মন ভাল হয়ে যায়!