১৭ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ভোটার তালিকায় নারীর অন্তর্ভুক্তি বাড়াতে ৮ এনজিওর উদ্যোগ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ ইসির আহ্বানে সাড়া দিয়ে ভোটার তালিকায় নারী ভোটার বৃদ্ধি করতে এবার এনজিও সংস্থার পক্ষ থেকে বিশেষ উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। ভোটারযোগ্য নারীদের তালিকাভুক্ত হতে পারে এ জন্য তাদের পক্ষ থেকে নেয়া হয়েছে সচেতনতামূলক কর্মকা-। বিশেষ করে নারীরা যাতে হালনাগাদে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারে সেজন্য ‘নারীরা ভোটার হও’ শিরোনামে প্রচারাভিযানের উদ্বোধন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে আটটি বেসরকারী এনজিও সংস্থার পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।

গত ২৫ জুলাই থেকে সারাদেশে শুরু হয়েছে ভোটার তালিকা হালনাগাদের কাজ। গত বছর ভোটার তালিকায় নারী ভোটার তুলনামূলক কম হওয়ায় এবার শুরুতে সমালোচনার মুখে পড়ে ইসি। সুশাসনের জন্য নাগারিক সুজনের পক্ষ থেকে ইসির ভোটার তালিকায় হালনাগাদ কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। বিশেষ করে নারী ভোটার কম হওয়ার কারণে বিভিন্ন মহল থেকেও ইসি সমালোচনার মুখে পড়ে। এসব সমালোচনার মুখে নতুন করে গত ২৫ জুলাই থেকে নতুন করে শুরু হয়েছে ভোটার তালিকা হালনাগাদের কার্যক্রম। এতে ভোটার হালনাগাদে ইসির লক্ষ্যপূরণ ও নারী ভোটার বাড়ানোর লক্ষ্য সামনে রেখে নতুন করে উদ্যোগ নিয়েছে ইসি। ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন টেলিভিশন ও রেডিওর প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেছে ইসি। এছাড়াও ভোটার তালিকায় নারী ভোটার বাড়ানোর জন্য গত ১২ আগস্ট দেশের বিভিন্ন এনজিও সংস্থার সঙ্গে বৈঠকে বসে ইসি। বৈঠকে ইসির পক্ষ থেকে ভোটার তালিকায় মানুষের সম্পৃক্ততা বাড়ানোর এবং নারী ভোটার বৃদ্ধির জন্য গণমাধ্যম ও এনজিও প্রতিনিধিদের সহায়তা কামনা করা হয়।

ইসির এ উদ্যোগে সাড়া দিয়ে নারী ভোটার বাড়ানোর জন্য এবার আটটি এনজিও সংস্থার পক্ষ থেকে এই বিশেষ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। জাতীয় প্রেসক্লাবে বেসরকারী আটটি সংগঠন যৌথভাবে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ভোটার তালিকায় যুক্ত হতে পারেন দেশের এমন সব নারীকে হালনাগাদ তথ্যে অন্তর্ভুক্ত ও সচেতন করতে এই প্রচারাভিযানের উদ্বোধন হয়েছে। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ, বাংলাদেশ এলায়েন্স ফর উইমেন লিডারশিপ, ইলেকশন ওয়ার্কিং গ্রুপ, জাগো ফাউন্ডেশনসহ আটটি সংগঠনের পক্ষ থেকে নারীদের ভোটার করতে ইসির উদ্যোগে সাড়া দিয়ে তারা প্রচার চালাবে এখন থেকে। এছাড়াও নারী ভোটার বৃদ্ধিতে নারীসহ সব নাগরিককে হালনাগাদ ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে একটি ওয়েবসাইট খোলা হয়েছে এসব সংগঠনের পক্ষ থেকে। যেখানে ভোটার হওয়া সংক্রান্ত সব তথ্য পাওয়া যাবে।

সংবাদ সম্মেলনে ইডব্লিউজির পরিচালক ড. আবদুল আলীম বলেন, নির্বাচন কমিশনের তালিকা হালনাগাদ ও ভোটারযোগ্য নারীদের অন্তর্ভুক্তি বিষয়ে ইসিকে কার্যক্রমে সহযোগিতা করা হবে। তিনি বলেন, ইসির ২০১৪ সালের হালনাগাদ তথ্যে নারী ভোটার ছিল ৪৪ শতাংশ। ২০১১ সালে আদমশুমারি অনুযায়ী জনসংখ্যার ৪৯ দশমিক ৯৪ শতাংশ নারী। আদমশুমারি অনুসারে দেখা যায়, নারীদের উল্লেখযোগ্য একটি অংশ ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়নি। সর্বশেষ হালনাগাদেও ৫ লাখ ৫৮ হাজারেরও বেশি নারী ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন। তিনি বলেন, এ অবস্থা চলতে থাকলেও তালিকা থেকে বিপুল সংখ্যক নারী বাদ পড়লে ভোটার তালিকার সত্যতা নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠবে। নারীর ক্ষমতায়ন ও ভোটাধিকার প্রয়োগের গণতান্ত্রিক অধিকার চর্চা থেকে বঞ্চিত হবে।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের মালেকা বানু বলেন, হালনাগাদ তথ্যে কেন এত নারী বাদ পড়ছে? তাহলে বুঝতে হবে, সঠিক নিয়মে ভোটার করা হয়নি। নারী ভোটার কমে গেলে নারীর ক্ষমতায়নের পথে বাধা তৈরি হবে, সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবে নারী। বাদ পড়ার কারণ খতিয়ে দেখে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে ইসির প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

বাংলাদেশ এলায়েন্স ফর উইমেন লিডারশিপের নাসির ফেরদৌস বলেন, ইসি সব নারীকে ভোটার করতে চায়। তবে সারাদেশে সব নারীকে এ বিষয়ে সচেতন করতে না পারলে তা সম্ভব নয়। হালনাগাদে সব বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য নিলে কোন নারী বাদ পড়বেন না। ইসি আমাদের সহযোগিতা চাইলে তা করব।

জানা গেছে ইসির ভোটার তালিকা হালনাগাদে প্রথম ধাপে ১৮৯ উপজেলার তথ্য সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও অধিকাংশ এলাকায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে পারেনি মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া, ভারি বর্ষণ ও বন্যায় বিঘœ ঘটছে প্রথম ধাপে ভোটার তালিকা হালনাগাদ করার কাজ। ফলে এবারও নারী ভোটার কম হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। প্রথম দফা কার্যক্রম শেষে জেলা ও উপজেলা পর্যায় থেকে ইসিতে পাঠানো অধিকাংশ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টানা বৃষ্টি আর বন্যার কারণে প্রথম পর্যায়ের অধিকাংশ এলাকায় বাড়ি বাড়ি যেতে পারেনি তথ্য সংগ্রহকারীরা। সেই সঙ্গে এলাকায় পর্যাপ্ত প্রচার চালানো সম্ভব হয়নি।

বিশেষ করে উপকূলীয় জেলা কক্সবাজার, বরিশাল, পটুয়াখালী, বরগুনা, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, চাঁদপুর, ভোলা, খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরায় বিরাজ করে বৈরী আবহাওয়ার কারণে তথ্য সংগ্রহে বিঘœ সৃষ্টি হয়েছে। বর্ষায় অনেক বাড়ি ঘর ডুবে যাওয়ায় অনেকেই বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছে। ফলে অনেক বাড়িতে পুরুষ মহিলা কাউকেই পাওয়া যায়নি। এ অবস্থায় তথ্য সংগ্রহের সময় বাড়ানোর আবেদন জানানো হয়েছে বিভিন্ন জেলা উপজেলা থেকে পাঠানো প্রতিবেদনে। এ অবস্থায় এবারও নারী ভোটার তুলনামূলক কম হওয়ার আশঙ্কা থাকায় বিভিন্ন এনজিও সংস্থার পক্ষ খেকে নারী ভোটার বাড়াতে সচেতনতা ও প্রচারাভিযানমূলক এ কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়েছে।

নির্বাচিত সংবাদ