১০ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

উবাচ

মান যায় মন্ত্রীর, মামলা করে চেরাগ আলী ॥ সুরঞ্জিত

স্টাফ রিপোর্টার ॥ মান যায় মন্ত্রীর আর মামলা করে চেরাগ আলী। ফরিদপুরের জনৈক আইনজীবীই এই চেরাগ আলী। শহীদের সন্তান সাংবাদিক প্রবীর সিকদার নিরাপত্তাহীনতার জন্য পুলিশের কাছে সাধারণ ডায়েরি করতে গেলে তাকে কারাগারে ঢুকিয়ে দেয়া হয়। এজন্য একটি মামলার প্রয়োজন ছিল। প্রবীর সিকদার গ্রেফতারের পর এই চেরাগ আলী মামলাটি দায়ের করেন। তিনি ফরিদপুরের একজন এপিপি। তিনি নিজেকে একজন মন্ত্রীর কর্মী-সমর্থক দাবি করছেন। যদিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘুরে বেড়ানো ছবিতে দেখা যাচ্ছে তিনি অতীতে একজন বিএনপি নেতার আস্থাভাজন হিসেবে তার আশপাশে থাকতেন। সারাক্ষণ সরকারী দলের এই সমর্থক এই আইনজীবীর ভূমিকার সমালোচনা করেছেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টাম-লীর সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। তিনি বলেন, সাংবাদিক প্রবীর সিকদারের প্রাণ সংশয় বলে পুলিশের কাছে সাধারণ ডায়েরি করতে গিয়েছিলেন। কিন্তু পুলিশের যখন কোন সহায়তা প্রবীর সিকদার পাননি, তখনই তিনি ফেসবুকে একটা স্ট্যাটাস দিয়েছেন। এতে নাকি একজন মন্ত্রীর মান গিয়েছে। মান যায় মন্ত্রীর আর মামলা করে চেরাগ আলী। আরে চেরাগ আলী তুমিতো সরকারের লোক, তুমি কেন যাবে। আর তার বিরুদ্ধে মামলা হলো রাত ১১টায়। তাকে ধরে নিয়ে যাওয়া হলো সন্ধ্যা ৬টায়। এর মানে শত্রুদের হাতে অস্ত্র তুলে দেয়া। আমরা এটা আশা করিনি।

সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেন, স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন অত্যন্ত উচ্চশিক্ষিত ও সম্ভ্রান্ত পরিবারের। আর তার প্রতিপক্ষ হলেন পা হারানো সাংবাদিক প্রবীর সিকদার। যারা প্রবীর সিকদারের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন তারা অতি উৎসাহের দল। কাউকে ধরে আনতে বললে বাইন্ধা নিয়া আসে। একজন প্রবীণ সাংবাদিক তাকে চোখ বেঁধে নিয়ে যাবে তার নিজের সরকার! সে তো আমাদের জন্যই পা হারিয়েছেন। তাকে দমানো যাবে না। কারণ একাত্তরে তার পরিবারের ১৪ জন লোক হারিয়েছেন। একে আটকানো যাবে না।

প্রবীর সিকদার পাগল ॥ খন্দকার মোশাররফ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ জীবনের নিরাপত্তাহীনতার জন্য ফরিদপুরের সাংবাদিক প্রবীর সিকদার স্থানীয় সরকারমন্ত্রীর বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তুলেছেন সেটিতে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন। স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, যে অভিযোগ আনতেছে এটাকে পাগলের পাগলামি ছাড়া আমি আর কিছুই মনে করি না। তার সঙ্গে আমার কনফ্লিক্টের কোন ইস্যুই নাই। স্থানীয় সরকারমন্ত্রী পাল্টা প্রশ্ন তোলেন, আমরা রাজনীতি করি। আমরা কাউকে খুন করতে যাব এটা কোন বাস্তব কথা? এটা কোন বক্তব্য হতে পারে? তিনি বলেন ‘সুস্থ মস্তিষ্কের’ কোন মানুষ এ ধরনের কথা বলতে পারে না। প্রবীর সিকদারের বক্তব্যকে একটি পাগলামি বলে বর্ণনা করেছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী। এ বিষয়টিকে ফরিদপুরের বিষয় বলে উল্লেখ করে মন্ত্রী দাবি করেন এর সঙ্গে তার কোন সম্পর্ক নেই। এর আগে নিজের জীবন নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ এবং সম্ভাব্য পরিণতির জন্য স্থানীয় সরকারমন্ত্রীসহ তিনজনকে দায়ী করে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেয়ায় সাংবাদিক প্রবীর সিকদারকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে ফরিদপুরে তার বিরুদ্ধে তথ্যপ্রযুক্তি আইনে মামলা করা হয়। প্রবীর সিকদারের পরিবার এবং ফরিদপুরের কয়েক সাংবাদিক বলেছেন, হিন্দু সম্পত্তি দখল নিয়ে এবং যুদ্ধাপরাধের বিচার নিয়ে ফেসবুকে লেখার কারণে তিনি এক ধরনের নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছিলেন।

এ্যাকশন শুরু হয়ে গেছে ॥ ও কাদের

স্টাফ রিপোর্টার ॥ পর পর দুই বার ক্ষমতায় থাকায় ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় পর্যায়ের কোন কোন নেতাকর্মী ধরাকে সরাজ্ঞান করছেন। চাঁদাবাজি এদের কাছে অতি সাধারণ বিষয় মায়ের গর্ভের শিশুও এদের হাত থেকে নিরাপদ নয়। আর কেউ কেউ তো পিটিয়ে শিশুদেরও খুন করছেন। কিন্তু সরকার এবার আর হাত গুটিয়ে চুপটি করে বসে নেই। তারা আর সন্ত্রসীদের আশ্রয় দিতে চায় না। এর ফলশ্রুতিতে সপ্তাহে ক্ষমতাসীন দলের দুইজন কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে। এ্যাকশন শুরু হয়ে গেছে। রাজধানীর হাজারীবাগে মঙ্গলবার ভোর সাড়ে চারটার দিকে র‌্যাবের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে মারা যান হাজারীবাগ থানা ছাত্রলীগের সভাপতি আরজু মিয়া (২৮)। রাজা মিয়া (১৬) নামে এক কিশোরকে চুরির অভিযোগে পিটিয়ে হত্যার প্রধান আসামি ছিলেন আরজু মিয়া। অন্যদিকে মাগুরায় ছাত্রলীগের গোলাগুলিতে মায়ের জঠরে শিশু গুলিবিদ্ধ ও একজন বৃদ্ধ নিহত হওয়ার মামলার তিন নম্বর আসামি মেহেদী হাসান ওরফে আজিবর শেখ (৩৪) সোমবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে মাগুরার পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছেন। আজিবর মাগুরা পৌর ছাত্রলীগের আগের কমিটির নেতা ছিলেন, এরপর আর কোন পদ পাননি। যদিও তিনি দাপটেই ছিলেন।