১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

অসি বধের ছক তৈরি হচ্ছে!

অসি বধের ছক তৈরি হচ্ছে!
  • বাংলাদেশ সফর অস্ট্রেলিয়ার

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ এ্যাসেজে যাচ্ছেতাই অবস্থা অস্ট্রেলিয়ার আবার দলেও এসেছে পরিবর্তন। অধিনায়ক, সহ অধিনায়ক পরিবর্তন হয়েছে। এমন অবস্থাতেই অক্টোবরে বাংলাদেশের বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলবে অস্ট্রেলিয়া। সেই সিরিজটি হবে আবার বাংলাদেশের মাটিতে। যেখানে বাংলাদেশ নিজেদের শক্তিশালী প্রতিপক্ষ হিসেবেই গড়ে তুলেছে। আর তাই এবার অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষেও ভাল কিছুর আশাই করা হচ্ছে। বাংলাদেশ দলের সাবেক অধিনায়ক, বিসিবির জাতীয় নির্বাচক কমিটির সদস্য মিনহাজুল আবেদীন নান্নুই যেমন বলেছেন, ‘অনেকদিন পর আমরা অস্ট্রেলিয়াকে পাচ্ছি। টেস্ট ক্রিকেটে অস্ট্রেলিয়া অনেক শক্তিশালী দল। আমরাও হোমে খুব ভাল ক্রিকেট খেলে আসছি বেশ কিছুদিন ধরে। সেই হিসেবে আমি মনেকরি অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে ভাল একটা টেস্ট সিরিজ হবে।’

কথা ঠিক। ২০০৬ সালের পর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আর কোন টেস্টই খেলেনি বাংলাদেশ। সেই টেস্টও আবার বাংলাদেশের মাটিতেই হয়েছিল। ২০০০ সালে টেস্ট ক্রিকেটে পা রাখার পর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে মাত্র দুইবার টেস্ট সিরিজ খেলতে পেরেছে বাংলাদেশ। একবার ২০০৩ সালে অস্ট্রেলিয়াতে। আরেকবার ২০০৬ সালে বাংলাদেশে। দুইবারই দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ হয়েছে। তিনটি ম্যাচেই বাংলাদেশ হেরেছে ইনিংস ব্যবধানে। ২০০৬ সালে সিরিজের প্রথম টেস্টে অবশ্য বাংলাদেশ দুর্দান্ত নৈপুণ্য দেখায়। শেষপর্যন্ত ৩ উইকেটে হার হয়। সেই বাংলাদেশ আর এই বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের মধ্যে বিস্তর পার্থক্য। এই বাংলাদেশ দেশের মাটিতে টানা চার সিরিজ খেলে সবকটি সিরিজেই জিতে। জিম্বাবুইয়ের পর পাকিস্তান, ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকার মতো শক্তিশালী দলকে উড়িয়ে দেয় আবার টানা চার টেস্ট সিরিজে খেলে মাত্র একটি ম্যাচে হারে। এমন দলের বিপক্ষে এবার খেলতে হবে অস্ট্রেলিয়াকে। তাতে বাংলাদেশ দল ভাল করবে, সেই আশা করাই যায়। এ আশাতেই শনিবার থেকে ‘এলিট প্লেয়ারস কন্ডিশনিং ক্যাম্প’ শুরু হচ্ছে। যেখানে টানা ১ মাস ফিটনেস ধরে রাখার ক্যাম্প হবে। ২২ আগস্ট শুরু হয়ে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে ক্যাম্প। এরপর ২৭ ক্রিকেটারকে দুই ভাগে ভাগ করে দেয়া হবে। একটি জাতীয় দল। আরেকটি ‘এ’ দল। জাতীয় দলটিই খেলবে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে। মিনহাজুল আবেদীন নান্নু এ নিয়ে বলেছেন, ‘আমরা এক মাসের জন্য এই ক্যাম্পটা শুরু করছি। এখানে ওয়ানডে- টেস্ট সব ফরম্যাটের ক্রিকেটার আছে। সামনে ‘এ’ দলের বড় একটি সফর রয়েছে। ৪৫ দিনের সফরে দক্ষিণ আফ্রিকা ও জিম্বাবুইয়ের সঙ্গে কয়েকটি ম্যাচ খেলবে ‘এ’ দল। সেখানে কিছু ক্রিকেটার প্রয়োজন হবে। এ ছাড়া সামনে জাতীয় দলের অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে খেলা রয়েছে। আমার কাছে মনে হয়, এই ক্যাম্প থেকে ক্রিকেটাররা উপকৃত হবে। কন্ডিশনিং ক্যাম্পের ২ সপ্তাহ পরেই ‘এ’ দল নিয়ে আমাদের চিন্তা ভাবনা শুরু করতে হবে। তখন দুটি দলকে আমরা আলাদা কওে দেব। আমাদের হাই পারফর্মেন্স স্কোয়াডে (এইচপি) অনেক খেলোয়াড় আছে। সেখান থেকে কিছু ট্যালেন্ট ক্রিকেটার পাচ্ছি। এইচপির খেলোয়াড়রা যদি খেলার সুযোগ পায়, সেক্ষেত্রে আমরা ব্যাকআপ হিসেব কিছু খেলোয়াড় পাব।’

জাতীয় দল ও ‘এ’ দল বিভক্ত হয়ে যাওয়ার পর জাতীয় দলের আসল মিশন শুরু হয়ে যাবে। তখন অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের জন্য পুরোদমে মিশন শুরু করবে মুশফিকবাহিনী। তবে অস্ট্রেলিয়া সিরিজের আগে আছে জাতীয় ক্রিকেট লীগও (এনসিএল)। সেখানেও জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা খেলে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্টে খেলতে নামার আগে নিজেদের দীর্ঘ পরিসরের খেলার সঙ্গে মানিয়ে নেবেন।

অস্ট্রেলিয়া সিরিজের আগে ফ্যাঞ্চাইজিভিত্তিক লংগার ভার্সন বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগ (বিসিএল) আয়োজন করার কথা ছিল। সেটি আপাতত হচ্ছে না। এর পরিবর্তে এনসিএল আয়োজন করাকেই ঠিক মনে করছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে মাঠে গড়াবে এনসিএল। এনসিএল আয়োজন নিয়ে টুর্নামেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান আকরাম খান জানান, ‘যেহেতু সামনে অস্ট্রেলিয়া সিরিজ। সেই বিষয়টি মাথায় রেখেই আমরা ঈদের আগেই এনসিএল শুরু করতে যাচ্ছি। বিসিএলের কথা চিন্তা করা হয়েছে। কিন্তু এই মুহূর্তে সেটি করা কঠিন হবে। তাই আমরা চাচ্ছি এনসিএল ১৫ অথবা ১৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে শুরু করতে।’ এনসিএলে খেলে জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজে ভাল খেলার উদ্যম পাবে। এমনটিই মনে করা হচ্ছে।