১৬ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ভিলিয়ার্স ও উইলিয়ামসনের ব্যতিক্রম অনুভূতি

ভিলিয়ার্স ও উইলিয়ামসনের ব্যতিক্রম অনুভূতি

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ দীর্ঘদিন পর রানে ফিরেছেন নির্ভরযোগ্য ওপেনার হাশিম আমলা। পেয়েছেন ক্যারিয়ারের ২১তম সেঞ্চুরি। সেঞ্চুরিয়ানে তাঁর সেঞ্চুরি দক্ষিণ আফ্রিকাকে ২০ রানে জয় পাওয়ার ক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা রেখেছে। তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেছে স্বাগতিকরা। ব্যাটিং ভাল হলেও পরবর্তীতে দলের ফিল্ডিং তেমন ভাল হয়নি। এ কারণে জিতলেও অসন্তোষ ঝরেছে প্রোটিয়া অধিনায়ক এবি ডি ভিলিয়ার্স। তিনি মনে করেন আরও বড় ব্যবধানে জেতা উচিত ছিল দক্ষিণ আফ্রিকার। অপরদিকে, প্রথম ম্যাচে হারলেও দলের ক্রিকেটারদের নৈপুণ্যে স্বস্তি জানিয়েছেন নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন। তিনি মনে করেন প্রোটিয়া স্পিনার ইমরান তাহিরের মিতব্যয়ী বোলিংটাই পরাজয়ের কারণ ছিল।

প্রথমে ব্যাট করে ৭ উইকেটে ৩০৪ রান তোলে দক্ষিণ আফ্রিকা। কুইন্টন ডি কক কিংবা ফাফ ডু প্লেসিসের কেউ একাদশে নেই। কিন্তু বেশ ভাল শুরুই এনে দিয়েছিলেন মরনে ভ্যান উইক এবং পরবর্তীতে আমলাকে দারুণ সঙ্গ দেন রিলি রুশো। দ্বিতীয় উইকেটে আমলা-রুশো ১৮৫ রানের জুটি গড়ে দলকে বড় সংগ্রহ পাওয়ার ভিত্তি দেন। আমলা চলতি বছর বিশ্বকাপে ক্যানবেরায় ৩ মার্চ ১৫৯ রানের একটি ইনিংস খেলেছিলেন। এরপর টানা ১০টি ওয়ানডেতে কোন ফিফটির দেখা পাননি। এর মধ্যে ৭ ইনিংসে ২০ রানেও পৌঁছুতে ব্যর্থ হয়েছেন। এবার শতক পেয়ে গেলেন। ১২৬ বলে ১৩ চার ও ৩ ছক্কায় ১২৪ রান করেন আমলা। আর রুশো ১১২ বলে ১২ চার ও ৩ ছক্কায় ৮৯ রান করে ফিরে যান। দুটি করে উইকেট শিকার করেন নিউজিল্যান্ডের দুই পেসার এডাম মিলনে ও মিচেল ম্যাক্লেনাঘান। জবাব দিতে নেমে দলীয় ৩ রানেই প্রথম উইকেট খোয়ালেও টম লাথাম ৬০ রানের দারুণ এক ইনিংস খেলেন। লুক রনকি উদ্বোধন করলেও সুবিধা করতে পারেননি। অধিনায়ক উইলিয়ামসন করেন ৪৭। আর চার ধাপ নিচে নেমে ওপেনার মার্টিন গাপটিল ২৫ রান করতে পেরেছেন। জিমি নিশাম ৪১ বলে ৪১ ও কলিন মুনরো ৩২ বলে ৩৩ রানের দুটি ছোট্ট ইনিংস উপহার দিলেও শেষ পর্যন্ত ৪৮.১ ওভারে ২৮৪ রানে থেমে যায় নিউজিল্যান্ডের ইনিংস। দুটি করে উইকেট নেন ডেল স্টেইন, ভারনন ফিল্যান্ডার, ইমরান তাহির ও ডেভিড উইস। ২০ রানে পরাজিত হয় নিউজিল্যান্ড।

দুই উইকেটে ১৪৮ রান তুলে ফেলেছিল সফরকারীরা। কিন্তু দ্রুত তিন উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে। আর সেজন্যই ম্যাচ জয় সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে অধিনায়ক উইলিয়ামসন বলেন, ‘ছেলেরা যেভাবে লেগেছিল তাতে আমি সন্তুষ্ট। বিশেষ করে হাশিম ও রুশো যেভাবে ব্যাট চালিয়েছেন এরপর এভাবে খেলা কঠিন। তাছাড়া স্বল্প সময়ে তিন উইকেট হারিয়ে ফেললে জয়ের ক্ষেত্রে সেটা সহায়ক হয় না। ব্যাট করাটা চ্যালেঞ্জের ছিল বড় একটি সংগ্রহ সামনে থাকায়। তবু আমরা সঠিক পথেই ছিলাম। কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকা খুব ভাল বল করেছে এবং তাহির এদিন তাঁর সামর্থ্যটা বুঝিয়ে দিয়েছেন।’ তবে দলের ফিল্ডিংয়ে একেবারেই নাখোশ প্রোটিয়া অধিনায়ক ভিলিয়ার্স। তিনি বলেন, ‘আমাদের আরও বড় ব্যবধানে জেতা উচিত ছিল। ফিল্ডিংয়ে আমরা সবাই যেভাবে নৈপুণ্য দেখিয়েছি সেটা হতাশার। আমাদের আরও শক্তি প্রয়োগ করা উচিত ভাল করার জন্য। হয়ত পরবর্তী খেলার আগে অনুশীলনে আমাদের বেশ কয়েকটা সেশন ফিল্ডিং করে প্রস্তুত হতে হবে।’