২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বাট, আসিফ ও আমির ফের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে

  • পহেলা সেপ্টেম্বর নিষেধাজ্ঞা শেষে খেলতে পারবেন সবধরনের আসরে

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ অপেক্ষার প্রহর শেষ হয়ে যাচ্ছে। আর মাত্র ১০ দিন। এরপরই ক্রিকেট খেলার জন্য স্বাধীন হয়ে যাবেন তিন পাকিস্তানী ক্রিকেটার। ২০১০ সালে ইংল্যান্ড সফরে স্পট ফিক্সিংয়ে জড়িত থাকার অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার পর ক্রিকেট ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোন ক্রিকেটার নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি কারাবরণ করেছিলেন। তবে সাবেক পাক অধিনায়ক সালমান বাট, দুই পেসার মোহাম্মদ আসিফ ও মোহাম্মদ আমিরের ওপর থেকে সব শাস্তি শেষ হয়ে যাচ্ছে ১ সেপ্টেম্বর। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) তা নিশ্চিত করেছে। এর অর্থ এ পাক ক্রিকেটার ত্রয়ী সবধরনের প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটসহ আন্তর্জাতিক আসরেও ফিরতে পারবেন ২ সেপ্টেম্বর থেকে। বুধবার আইসিসি এক বার্তায় এ কথা নিশ্চিত করে। অবশ্য সবার আগে আমিরের ওপর থেকে গত জানুয়ারি মাসেই ঘরোয়া ক্রিকেট খেলার নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়েছিল। এবার বাট, আসিফের সঙ্গে তঁাঁর ওপর থেকেও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলার নিষেধাজ্ঞা উঠে যাচ্ছে।

পাঁচ বছর পেরিয়ে গেছে। এই দীর্ঘ সময় ক্রিকেট থেকে বাইরে ছিলেন বাট, আসিফ ও আমির। কারণ ৫ বছরের নিষেধাজ্ঞা ছিল সকলের ওপরেই। ২০১০ সালের জুলাইয়ে ইংল্যান্ড সফরে লর্ডস টেস্টে পাকিস্তানের এ তিন ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে স্পট ফিক্সিংয়ের অভিযোগ উঠেছিল। এরপর দোষী প্রমাণিত হলে অধিনায়ক বাটকে ৭ মাস, আসিফকে ৬ মাসের কারাদ- দেয় ইংল্যান্ডের একটি আদালত। পরে ক্রীড়া অপরাধের সালিশ নিষ্পত্তি আদালতে আপীল করলেও শাস্তি বহাল থাকে। আর সে সময় আমির অপ্রাপ্তবয়স্ক থাকায় এবং অপরাধ স্বীকার করার কারণে ৩ মাসের জন্য কিশোর অপরাধ সংশোধনী কেন্দ্রে আটকা ছিলেন। বিভিন্ন মেয়াদে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটসহ যে কোন ধরনের প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেট খেলা থেকে নিষিদ্ধ ছিলেন এ তিন পাকিস্তানী ক্রিকেটার। কিন্তু এবার সেই যন্ত্রণাময় অধ্যায়ের শেষ হতে যাচ্ছে বাট, আসিফ ও আমিরের। এ বিষয়ে বুধবার আইসিসি এক বার্তায় বলে, ‘২ সেপ্টেম্বও থেকে ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরতে পারবেন সালমান বাট এবং মোহাম্মদ আসিফ।’ সঙ্গে মোহাম্মদ আমিরও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরতে পারবেন ওই একই তারিখে। অবশ্য ইতোমধ্যেই আমির ঘরোয়া ক্রিকেট খেলার অনুমতি নিয়ে মাঠে ফেরার চেষ্টা করছেন। বেশ কিছুদিন ধরে তিনি প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটও খেলছেন।

আমিরের ওপর ৫ বছরের নিষেধাজ্ঞা এ বছর জানুয়ারিতে শিথিল করা হয়। তিনি আইসিসি ও আদালতের কাছ থেকে সুদৃষ্টি লাভ করেছেন মূলত দোষ স্বীকার করা এবং ভুলক্রমে অপরাধে জড়িয়ে পড়ার জন্য ক্ষমাপ্রার্থনার কারণে। এছাড়া আইসিসির হয়ে ক্রিকেট দুর্নীতি ও আইনসংক্রান্ত বিভিন্ন প্রচারণায় নিয়মিত বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে কাজ করেছেন এ পেসার। সে কারণে আগেভাগেই তাঁকে ঘরোয়া ক্রিকেট খেলার অনুমোদন দিয়েছিল। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডও (পিসিবি) শুরু থেকে আমিরের সমর্থন করে গেছে। আইসিসির বার্তার পর উচ্ছ্বাস জানিয়েছেন বাট। তিনি এবার ঘরোয়া টি২০ আসরে লাহোর ব্লুজের হয়ে খেলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তিনি এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘আমি আইসিসির সিদ্ধান্তকে অভিবাদন জানাই। যাঁরা আমাকে খারাপ এ সময়টাকে সর্বক্ষণ সমর্থন দিয়ে গেছেন সবাইকে ধন্যবাদ। মনে হচ্ছে নতুন করে জীবনযাত্রা শুরু হচ্ছে আমার। শুধু আমিই বুঝতে পারছি এটা আমার জন্য কত মূল্যবান। আমি যথেষ্ট ভুগে এখন বদলে গেছি এবং উপযুক্ত শিক্ষাটা লাভ করেছি। আমি অবশ্যই পূর্ণোদ্যমে ক্রিকেট খেলা শুরু করব।’

অবশ্য দোষী প্রমাণের পর বাট দুই বছর ৬ মাস, আসিফ ১ বছর ৬ মাস কারাদ- পেয়েছিলেন। বাট ও আসিফ নিজেদের দোষ স্বীকার করেননি এখন পর্যন্ত। তবে বিদেশী অপরাধীদের জন্য ব্রিটিশ সরকারের আগাম মুক্তির আইন থাকার কারণে আসিফ ও আমির তাঁদের শাস্তির অর্ধেক এবং বাট ৭ মাস কারাভোগ করেছিলেন। আর পিসিবি চেয়ারম্যান শাহরিয়ার খান জানিয়েছেন, তিনি অপেক্ষায় আছেন আইসিসি থেকে এখন লিখিতভাবে এ সিদ্ধান্ত হাতে পাওয়ার জন্য।