২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ত্রুটিতে আবিষ্কার ৯ চমৎকার

ছিল রুমাল, হয়ে গেল বিড়ালের মতোই বলা যায়- বা, বলতে পারেন নেহায়েতই দুর্ঘটনাবশত বা মজাচ্ছলে এগুলোর জন্ম, যা আমরা দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহার করে থাকি। আলুর চিপস থেকে দেশলাইকাঠি, পেনিসিলিন থেকে মাইক্রোওভেন। এমনই কিছু আবিষ্কার একনজরে

প্লে ডাউ

প্রথম যখন প্লে ডাউ মার্কেটে আসে, এটি ছিল ওয়াল ক্লিনার। কিন্তু কাজে দেয়নি। এর মধ্যেই দেখা যায়, বাচ্চারা সেই ডাউ নিয়ে খেলছে। পুতুল থেকে শুরু করে নানা ভাস্কর্য, অনায়াসে গড়াপেটা যায়। সেই থেকেই দেওয়াল পরিষ্কারের জন্য তৈরি ক্লিনার বাচ্চাদের খেলনার সামগ্রী হয়ে ওঠে।

আলুর চিপস

অদ্ভুতভাবেই জন্ম আলুর চিপসের। রেস্তোরাঁয় ফ্রেঞ্চ ফ্রাই অর্ডার দিতে গিয়ে এক গ্রাহক আব্দার করেন, তিনি এটা চান একদম পাতলা আর মুচমুচ। শেফ জর্জ ক্রুম আলুকে পিস পিস করে কেটে মজা করেই বানিয়ে দিয়েছিলেন সেই অর্ডারি ফ্রেঞ্চ ফ্রাই। মুখে দিয়ে আপ্লুত হয়ে পড়েন সেই গ্রাহক। জন্ম নেয় আলুর চিপস।

মাইক্রোওয়েভ ওভেন

মাইক্রোওয়েভ ওভেনের আবিষ্কারও দুর্ঘটনাবশতই। পার্সি স্পেন্সার র‌্যাডারের ভ্যাকুয়াম টিউব নিয়ে কাজ করছিলেন। কাজ করতে গিয়ে দেখলেন, তার পকেটে রাখা চকোলেট হিট পেয়ে গলে যাচ্ছে। সেখান থেকেই তাঁর মাথায় খেলে যায় মাইক্রোওয়েভ ওভেন।

কর্নফ্লেক্স

জন ও উইল কেলগ অদ্ভুতভাবেই এর আবিষ্কার করে বসেন। সেদ্ধ করা ভুট্টাদানা স্টোভের ওপর কদিন ফেলে রেখেছিলেন। তা থেকেই আবিষ্কার কর্নফ্লেক্সের।

পেনিসিলিন

স্যার আলেক্সজান্ডার ফ্লেমিং তখন মেডিক্যাল এক্সপেরিমেন্ট বন্ধই করে দিয়েছিলেন। তার মধ্যেই একদিন খেয়াল করেন, পুরনো ডিশের মধ্যে সাদা ছাতার মতো কিছু পড়েছে। যেগুলো চারপাশের ব্যাকটেরিয়াকে ভেঙে দিচ্ছে। এবং এ-ও দেখলেন, আপনা থেকেই সেগুলো বাড়ছে। তা থেকেই অ্যান্টিবায়োটিক পেনিসিলিন আবিষ্কার করে ফেলেন।

নন স্টিক প্যান

রসায়নবিদ রয় প্লাংকেট ঈঋঈ-র নতুন ফর্ম নিয়ে কাজ করছিলেন। সেই গবেষণা চালাতে গিয়েই, রহস্যজনক সাদা বস্তু তৈরি হয়। সেই পিচ্ছিল উচ্চ গলনাঙ্কের পদার্থ থেকেই জন্ম নন স্টিক প্যানের।

এলএসডি

অ্যালবার্ট হফম্যান ছত্রাক আক্রান্ত কিছু উদ্ভিদ নিয়ে কাজ করতে গিয়ে আবিষ্কার করে ফেলেন এলএসডি।

দেশলাইকাঠি

ব্রিটিশ ফার্মাসিস্ট জন ওয়াকার তাঁর ল্যাবে রাসায়নিক মিশ্রণ ঘটিয়ে সেই কাঠিটা রেখে দিয়েছিলেন। ক’দিন পর কাঠির মাথায় জমে থাকা সেই শুকনো মিশ্রণটিকে ছাড়াতে গেলে তাতে আগুন জ্বলে যায়। তা থেকেই মাথায় খেলে যায় দেশলাইকাঠির ভাবনা।

সফটি গ্লাস

হ্যাঁ, এখন আপনার গাড়িতে যে কাচ ব্যবহার করছেন, সেই কাচটির কথাই বলা হচ্ছে। ভাঙে, তবু ঝুরঝুর করে ঝরে পড়ে যায় না। চিড় ধরে শুধু। কেমিস্ট এ্যাডওয়ার্ড বেনেডিক্টস অদ্ভুতভাবেই এই কাচটি আবিষ্কার করেন।

গবেষণাগারে কাজ করার সময় একদিন অসাবধানে তাঁর হাত থেকে পড়ে যায় কাচের একটি ফ্লাস্ক। দেখলেন, কাচটি টুকরো টুকরো না হয়ে চিড় পড়েছে শুধু। সেই ফ্লাস্কের মধ্যে রাখা প্লাসটিক সেলুলোজ নাইট্রেট থাকার কারণেই এটা হয়েছে। দেরি না-করে পেটেন্ট নিয়ে নেন। তৈরি হয় সফটি বা নরম কাচ। শুধু গাড়িতেই নয়, গ্যাস মাস্কেও এই কাচ লাগানো হচ্ছে।

সূত্র: এই সময়