২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

শরত নন্দনে, নজরুল বন্দনে

  • পান্থ আফজাল

প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যের আবর্তে একে একে হাজির হয় নানা ঋতু ও তার বৈচিত্র্যপূর্ণ রঙিন নিদর্শন। বিজয়ের অদ্ভুত হাসি মুখে এঁকে চলে গেছে রৌদ্রতপ্ত ও মধুর ফলাহার মাস গ্রীষ্মকাল। আর এদিকে তো সমস্ত প্রকৃতিকে বাদল বর্ষণে মনের মতো সিক্ত করে আপন রাজ্য গুটিয়ে বিদায় নিয়েছে চির যৌবনা বর্ষা। তাই বর্ষাকে বিদায় দিয়ে অপার স্নিগ্ধতা আর প্রশান্তির বার্তা নিয়ে ধরণীতে আগমন ঘটেছে শুভ্র শরতের। প্রকৃতির রূপ বদলের খেলায় শরতের এই স্নিগ্ধ-শুভ্রতা সবুজ শ্যামলিমাময় পৃথিবীকে জানান দিয়ে যায় তার শূন্যতা। এই সময়ে সবুজ বৃক্ষ হয়ে পড়ে অলঙ্কারশূন্য। পত্রঝরা বৃক্ষের পাতা ঝরে যাওয়ার ফলে প্রকৃতি রূপ নেয় শূন্যতায়। তবে মজার ব্যাপার হলো, শরতের আশীর্বাদ হিসেবে শুভ্র কাশফুলের নরম ছোঁয়ায় চারদিক ফিরে পায় এক নতুন মাত্রা। শরতের এই অপার নিদর্শন বাংলার প্রকৃতিকে করে তোলে মহিমান্বিত ও রূপময়। গাছপালার পত্রপল্লবে গুচ্ছ-গুচ্ছ অন্ধকার ফিকে হয়ে আসতেই পাখ-পাখালির দল মহাকল্লোলে মুক্ত ডানা মেলে ভেসে বেড়ায় নীলাম্বরী আকাশে। শিমুলের নরম তুলোর মতো ভেসে চলে সাদা মেঘের ভেলা। চারদিকে সতেজ বৃক্ষের মাথা ছুঁয়ে বয়ে যায় শেফালি ফুলের গন্ধেভরা ফুরফুরে মিষ্টি হাওয়া। চিত্রকরের পটে আঁকা নীল আকাশে সাদা শুভ্র মেঘপুঞ্জ, সাদা কাশফুল আর প্রাতে বিন্দু বিন্দু শিশিরভেজা শিউলিফুল-সব মিলিয়ে শরত আসে ভিন্ন আঙ্গিকে।

শরতকে উপজীব্য করে দেশের ফ্যাশান হাউসগুলোও ব্যস্ত হয়ে পড়ে নতুন নতুন সব মনোলোভা ডিজাইন নিয়ে। এই হিসেবে শরতও কবিকে প্রাধান্য দিয়ে বর্তমান সময়ে ভিন্ন টেন্ট শুর হয়েছে। হাল ফ্যাশনে কবি সাহিত্যিকের অবয়ব আর কর্ম নিয়ে পোশাক ডিজাইন অবশ্য কম যায় না। আমাদের জাতীয় কবি, মানবতার কবি, বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম ও তার কথামালা শোভা পাচ্ছে আজ দেশের সকল ফ্যাশন হাউসের পোশাক আর ফ্যাশন সামগ্রীতে। শরত আর নজরুল- যেন একই বন্ধনে আবদ্ধ। বাংলার প্রতিটি ঋতুকে এই কবি ছাড়া কল্পনা করা যায় না। এই সাম্যের কবির কথামালা আর অবয়ব ব্যবহার করে শরতের সাদা ও নীলকে পোশাকে ব্যবহার করা হচ্ছে ভিন্ন আয়োজনে। নীলকে থিম কালার হিসেবে রেখে ফ্যাশন হাউসগুলো সবধরনের পোশাকেই শরতের বৈচিত্র্য নজরুল বন্দনায় ফুটিয়ে তোলে। কবি আর নীল-সাদার বৈচিত্র্যময় শেডগুলো ব্যবহার করে ডিজাইন করা হচ্ছে শাড়ি-কামিজ, টি-শার্ট। এছাড়া শাড়ি ও ওড়নার পাড়ে থাকে উজ্জ্বল সব রঙের ব্যবহার। কুর্তা, ফ্লোর টাচ কিংবা রকমারি টি-শার্টেও বিদ্রোহী কবি ও শরতের ছোঁয়া ব্যবহার করে ডিজাইন করা হয় এবং বিভিন্ন ফ্যাশন হাউসগুলোতে শোভা পায় এসব পোশাকগুলো।

শরতের শেষলগ্নে এসে আবার হাজির হয় কোরবানির ঈদ, দুর্গাপূজা। আর সঙ্গে যদি প্রাণের কবি কাজী নজরুল ইসলাম যুক্ত হন, তাহলে তো কথাই নেই। দেশে কিছু প্রতিষ্ঠিত ফ্যাশনহাউস আছে যারা বরাবরই ভিন্ন রুচি ও আধুনিকতায় বেশি জোর দিয়ে থাকে। গণ-মানুষের কবি আর শরতকে নিয়ে কাজ নতুন নয়। আধুনিক তরুণ-তরুণীরা লিংক ইন পার্ক, কিংবা বব মালের সঙ্গে সঙ্গে টি-শার্টের ছাপায় বুকে ধারণ করে নজরুল, জীবনান্দ কিংবা রবীন্দ্র।

আধুনিক ছেলেমেয়েরা বিভিন্ন ঋতুর সঙ্গে সাজটা কতটা মানানসই হয় তা ভালভাবেই জানে। আর তাদের পছন্দের তালিকায় যে নজরুল থাকবেই তা কারও অজানা নয়। এর শুভ্র শরতের অপূর্ব মিশ্রণ ফ্যাশনের গতিকে বাড়িয়ে দেয় বহুগুণ। শুভ্রতার সঙ্গে নিজেকে সাজাতে পারলে মনের মাঝে শরতের দোলা লাগবেই সন্দেহ নেই। এ সময়ে কোন অনুষ্ঠান বা উৎসব আয়োজন হয়ে উঠে বৈচিত্র্যময়। আপনার আনন্দের ছোঁয়ায় শরত আর নজরুল জয় করে নিক পুরোটা সময়।

এসব পোশাকের খোঁজ করতে আপনাকে ঢুঁ মারতে হবে নগরীর মেঘ, বালুচর, ইজি, ফানুস, বেল, অতঃপর, বিসর্গ, লণ্ঠনসহ বিভিন্ন ফ্যাশন হাউসগুলোতে। ব্যস্ত শহর ঢাকার আজিজ সুপার মার্কেট, ওয়ারি, ধানম-ি, বসুন্ধারা কিংবা যমুনা ফিউচার পার্কে শরত ও কবিকে নিয়ে পোশাক পাবেন। দাম-দর করে কিনে নিতে পারবেন এসব ভিন্ন ধরনের পোশাক।

মডেল : এডলফ, সোহান

রিফাত ও সৌম্য

পোশাক : অটোগ্রাফ

মেকআপ : পারসোনা