২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ফ্যাশনে জিন্স

  • তৌফিক অপু

পরিবর্তনের হাওয়া, নতুনত্বের ছোঁয়া- এই রীতিই যেন জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে। প্রত্যেকেই চায় তাঁর জীবনের মান এবং সৌন্দর্য যেন আকর্ষণীয় হয়। অতীতের সব পুরনো ঢং ছাড়িয়ে নতুন রূপে ধরা পড়বে অন্যের চোখে। এ ধরনের নানা কৌতূহল বয়েই মানুষ জীবনের অতি মাধুর্য, সৌন্দর্য অটুট রাখতে ব্যস্ত। প্রকৃতির পালাবদল মনকে দোলা দিয়ে যায়। দিন বদলায় সময় বদলায় বদলে যায় মন। সব বদল যেন প্রকৃতির নিয়মেই ঘুরপাক খায়। যতই দিন গড়াচ্ছে মানুষ ততই ব্যস্ত হয়ে পড়ছে। কাজের পরিধি বৃদ্ধি পাওয়ায় মানুষ নিজেকে ব্যস্ত রাখছে নিজ নিজ কাজে। ঋতুর এ পরিবর্তন ব্যস্ত মানুষগুলোর যেন চোখ এড়িয়ে যায়। তারপরেও কিছু কিছু ঋতু চাইলেও চোখ এড়িয়ে যাওয়া যায় না। অপূর্ব শোভা নিয়ে ধরা দেয় নিমিষেই। আর এভাবেই জীবনের পথ এগিয়ে যায় প্রকৃতির সান্নিধ্যে। আসল কথা হচ্ছে ফ্যাশনপ্রিয় মানুষ ঘরে বা বাইরে যেখানেই হোক না কেন নিজেকে ফ্যাশন সচেতন রাখতে শতভাগ প্রস্তুত। এক ধরনের উন্মাদনা কাজ করে ভেতর থেকে। সময়ের সঙ্গে খাপ খাইয়ে চলার প্রয়াস। সেটা চলন-বলনে অথবা খাওয়া-দাওয়ায় হোক না কেন। মোটকথা বিশ্ব ফ্যাশন ট্রেন্ডের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার প্রয়াস যেন আজ সবার মধ্যে। যে কারণে প্রতিনিয়ত এক ধরনের পরিবর্তনের হাওয়া চোখে পড়ে ফ্যাশন ট্রেন্ডে। ফ্যাশন হাউস প্রতিনিয়ত পরীক্ষামূলক পোশাক বাজারে ছেড়ে থাকে ক্রেতাদের জনপ্রিয়তা যাচাই করার জন্য। চাহিদা ও পছন্দের ওপর নির্ভর করে পণ্যের যোগান। তবে কিছু কিছু ফ্যাশন ট্রেন্ডে কখনই যেন ভাটা পড়ে না। উল্টো দিন দিন বৃদ্ধি পায় চাহিদা। তেমনি একটি ফ্যাশন ট্রেন্ড জিন্স প্যান্ট। সৃষ্টি পর থেকেই জিন্সের ব্যাপক চাহিদা তৈরি হয়। জিন্সের সঠিক ইতিহাস না থাকলেও প্রচলিত রয়েছে লেভি স্ট্রস নামের এক ভদ্রলোক ১৮৫১ সালে জার্মানি থেকে নিউইয়র্কে পাড়ি জমান। সেখানে তিনি তার বড় ভাইয়ের সঙ্গে বিভিন্ন শুকনো মালামাল সাপ্লাই দিতেন। এর মধ্যে কাপড়ও রয়েছে। ১৯৫৩ সালে তিনি সানফ্রান্সিসকোতে চলে যান, ব্যবসা দাঁড় করানোর জন্য। ১৮৭২ সালে লেভি স্টসের সঙ্গে পরিচয় ঘটে জ্যাকব ডেভিসের সঙ্গে, যিনি পেশায় একজন দর্জি ছিলেন। তিনি নিয়মিত লেভির কাছ থেকে কাপড় সংগ্রহ করতেন। একদিন জ্যাকব অফার করেন লেভি পার্টনারশিপ ব্যবসা শুরু করার জন্য। এবং ভিন্ন কিছু প্রোডাক্ট তৈরির জন্য। প্রথমেই মনযোগী হন প্যান্টের দিকে। মোটা কটনের কাপড় ব্যবহার করা হবে প্যান্টে যা হবে দীর্ঘস্থায়ী। এবং এই কটন কাপড় জার্মানি ভাষায় বলা হয় জিনিয়া, যা বর্তমানে জিন্স হিসেবেই পরিচিত। এই জিন্স প্যান্টের বাটন হুক এবং ব্যাক পকেট ডিজাইন লেভির করা। এবং তার দু’জনে মিলে প্যাটেন্ট কিনে ছিলেন জিন্স প্যান্ট ব্যবসার। জিন্সের পেছনে লেভেল লাগান লেভি স্ট্রস এ্যান্ড কোং। জিন্সের সেই আদি রূপ হয় যুগে যুগে পরিবর্তিত হয়েছে ঠিকই কিন্তু জনপ্রিয়তা কমেনি এতটুকু। বর্তমান সময়ে বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের কাছে জিন্স প্যান্ট খুবই জনপ্রিয় একটি পোশাক। ক্যাম্পাস কিংবা আড্ডায় জিন্স প্যান্টের যেন বিকল্প নেই। অবশ্য বিভিন্ন পার্টিতেই আজকাল জিন্সের আধিক্যতা চোখে পড়ার মতো। রুচি এবং চাহিদার প্রেক্ষিতে জিন্স প্যান্টের রয়েছে রকম ভেদ। যেমন ব্যাগি জিন্স, ন্যারো শেপ, স্ট্রেট, স্টিচ ইত্যাদি। ফ্যাশন ট্রেন্ডের অন্যতম সঙ্গী এখন জিন্স প্যান্ট। গলির মোড় থেকে শুরু করে বড় বড় শপিং কমপ্লেক্সগুলোতে যেন জিন্সের বাহারি সমাহার। যে যার সাধ্যমতো সংগ্রহ করছে। ছেলেমেয়ে উভয়ের কাছে জিন্স প্যান্ট যেন প্রথম পছন্দের পোশাক। একটা সময় ছিল যখন জিন্স প্যান্ট মানেই শুধু তরুণ প্রজন্মের পোশাক। কিন্তু দিন যত গড়াচ্ছে ততই বদল হচ্ছে ফ্যাশন ট্রেন্ড। এখন প্রয়োজন অনুসারে ছেলে বুড়ো সবাই ব্যবহার করছে জিন্স প্যান্ট। দোকানিরাও এ কারণে বিভিন্ন বয়সের এবং বিভিন্ন ডিজাইনের জিন্সের পসরা সাজিয়ে বসেছেন। আগে জিন্স প্যান্ট মানেই নীল রঙকে বোঝানো হতো। কিন্তু এখন জিন্সের যে কত রকমের কালার রয়েছে তা বোধহয় গুণে শেষ করা যাবে না। এখন আমাদের দেশেও প্রস্তুত হচ্ছে উন্নতমানের জিন্স প্যান্ট। আর পর্যাপ্ততার কারণে দামও হাতের নাগালে। বিভিন্ন দামে মিলবে জিন্সের প্যান্ট। যেমন ৫০০ টাকা থেকে ৮৫০ টাকায় যেমন পাওয়া যাবে তেমনি ১২০০ থেকে ১২০০০ টাকার জিন্সের প্যান্টও মিলবে এই শহরে। যে কোন শপিং মলে দেখা মিলবে নিত্যনতুন ডিজাইনের জিন্স প্যান্ট। প্রয়োজন শুধু নিজের পছন্দের জিন্সটি সংগ্রহ করা।

ছবি : আরিফ আহমেদ

মডেল : সুজানা ও দীপ