১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

যৌবনের ফুলকি ঝলসাতো একসময় কলমের ডগায়

  • -আবুবকর সিদ্দিক

১৯ আগস্ট ছিল কবি ও কথাসাহিত্যিক আবুবকর সিদ্দিকের ৮২তম জন্মদিন। সম্প্রতি তার সঙ্গে কথা বলেছেন মিল্টন বিশ্বাস। তারই অংশ বিশেষ-

আপনার সাহিত্যচর্চার দীর্ঘ সময় আপনি পাড়ি দিচ্ছেন। বর্তমান শারীরিক অবস্থায় সেই চর্চা বিঘ্নিত হচ্ছে নিশ্চয়। এ অবস্থায় আপনার উপলদ্ধি সম্পর্কে কিছু বলুন।

আবুবকর সিদ্দিক : আমার প্রথম ছেলেমানুষী কবিতা ও গল্প। ছাপা হয় আজ থেকে ঊনসত্তর বছর আগে। পরে চোখ-কান ফোটার শুরুতে এসে কবি ফররুখ আহমদ, অধ্যক্ষ আবুল কাসেম, সাংবাদিক আবদুল গফুরের স্নেহস্পর্শে ‘সৈনিক’ পত্রিকার পাতায় লেখা ছাপা হতে থাকে। সেটাও বালখিল্য বেলার মকশোপর্ব। জাতপাতে ওঠার সূচনা ঘটে আজ থেকে আটান্নো বছর আগে ১৯৫৭-তে। সিকানদার আজু জাফর ও হাসান হাফিজুর রহমান সম্পাদিত ‘সমকাল’ পত্রিকায় একসঙ্গে দুটো কবিতা ছাপা হবার সুযোগ ঘটে। সে আজ হলো কতকাল! কলম চলছে খুঁড়িয়ে গড়িয়ে। আরেকটি তথ্য বাকি; প্রথম কবিতার বই বেরোয় ১৯৬৯-এ।

প্রায় ষাট বছরের এ সাহিত্য জীবনে অনেক ভাঙচুর ঘটে গেছে মন ও শরীরের ওপর দিয়ে। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধ, দাঙ্গা, দুর্ভিক্ষ, দেশভাগ, একুশের ফেব্রুয়ারি, গণআন্দোলন, নকশাল রাজনীতি, মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা... দেখে দেখে ‘ভূশণ্ডির কাক’ হয়ে গেছি মনে হয়। যৌবনের ফুলকি ঝলসাতো একসময় কলমের ডগায়। এখন অশীতিপরের রক্তে জেল্লা মরে এসেছে। তবু লিখি। লেখাই আমাকে সুস্থ রাখে। কবুল করতে দ্বিধা নেই, পড়াশোনা, লেখালেখি আর পড়ানো; এই তিনটেই আমার জীবনভর কাজের কাজ। তবে কিনা অনেক প্রিয় সাধই অপূরণ রয়ে যাবে দেখছি। আসলে দেহযন্ত্র একটা বাধ্যবাধক কাঠামো। আয়ুর কোটা পুরে আসতে থাকলে সে তো নোটিশ দিয়েই যাবে। কিছু এ্যাম্বিশাস উপন্যাস রচনার অভিলাষ ছিল মনে। মনে মনেই রয়ে গেল।

মৃত্যুভীতি কাজ করে কি? মৃত্যু আপনার কবিতা-কথাসাহিত্যে কিভাবে প্রতিফলিত হয়েছে? বিস্তারিত বলুন।

আবুবকর সিদ্দিক : মৃত্যু একটা অবশ্যম্ভাবী জৈবিক পরিণতি। আমার জীবনভর লেখালেখি তার গ্রাসের মুখে দুর্বল আঁচড় বৈ কিছু নয়। মৃত্যুকে অপছন্দ করি। তবে লাভ নেই। সখা বলি, শত্রু বলি, আমার টুঁটি তাক করে সে তার আঙুল শানাচ্ছে ঠিকই। গল্প-কবিতা অনেক লিখেছি মৃত্যু উপলক্ষে। আমার ‘চরবিনাশকাল’ গল্পগ্রন্থ ও ‘কংকালে অলংকার দিয়ো’ কাব্য দুটোরই মূল বিষয় প্রবহমান মহাকালের করতলে আত্মভোলা মানুষ পুতুলদের ধুলোখেলা। তবে আমি মূলত ভাববাদী দর্শনে সমর্পিত ভাবুক নেই। জীবন ও জগতসংসারকে ভালবেসে রোমান্টিক মেজাজের কবিতা প্রচুর লিখেছি। ষাটের দশকের শুরুতে মার্কসবাদী চেতনায় প্রভাবিত হয়ে বেশ পজিটিভ ধাঁচের কবিতা ও গণসঙ্গীত রচনা মুখ্য হয়ে ওঠে। হ্যাঁ, মানুষের যাপিত জীবনের ধারাবাহিক উত্তরণেই আমার আগ্রহ।

মৃত্যুর আতঙ্ক প্রসঙ্গে ফের ফিরে আসা যাক। এই ভঙ্গুর দেহখানা একাধিকবার সাক্ষাত মৃত্যুর মুখোমুখি হয়েছে। একাত্তর সালে দু’পক্ষের গোলাগুলি চলার মধ্যে মাঝ রাস্তায় খানসেনাদের হাতে ধরা পড়ি। গুলি করার জন্যে রাইফেল তুলে আবার নামিয়ে নেয় আনওয়ার নামে ফৌজটি। পরে গোটাপাড়া থেকে বাগেরহাট তিন মাইল রাস্তা আমাকে দিয়ে রিক্সা ঠেলায়। সেই সঙ্গে পিঠের ওপর পেছন থেকে রাইফেলের পিটুনি। ওই বছরই আর এক মহাবিপদ। আমার লেখা ‘ব্যারিকেড বেয়নেট’ গণসঙ্গীতটি তখন রোজ স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্র থেকে বাজানো হতো। সেই অপরাধে একদিন রাজাকাররা নাগেরবাজারের এক তিনতলা বিল্ডিংয়ে নিয়ে নির্যাতন করে। বুকের পাঁজরে রাইফেল ধরে নামিয়ে নেয়। ছেচল্লিশ বছর পরে ২০১৩ সালের ডিসেম্বর মাসে ব্রেন অপারেশন হলো আমার। এবারেও কেটে যায় মৃত্যুফাঁড়া। এছাড়া দুইবার পাইলস অপারেশন, চোখের ক্যাটারাক্ট অপারেশন, এসব তো গেছেই।

সোজাসাপটা কথা, আমি ভালোবাসি জীবনের মধু। যে ক’দিনই বাঁচি না কেন।

আপনার বেড়ে ওঠা, কবি হিসেবে পরিচিতি লাভ, কথাসাহিত্যিক হয়ে ওঠার গল্প বলুন।

আবুবকর সিদ্দিক : আমার ছেলেবেলাটাই রাজনীতি ও সাহিত্যের দোমেশাল প্রাপ্তিযোগের বয়স। উত্তাল চল্লিশের দশকে বাবা নিজে ছিলেন রাজনীতি-সাহিত্য-গানবাজনা-সিনেমায় অনুরাগী মানুষ। তাঁরই হাত ধরে বর্ধমান টাউন হলে গিয়েছি পণ্ডিত নেহরুর বক্তৃতা শুনতে। আজাদ হিন্দ ফৌজের সৈনিকদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে গিয়েছি। রেলস্টেশনে ছুটেছি মহাত্মা গান্ধীজীকে দেখতে। সিনেমায় নিয়ে গিয়ে বাবা মতিলাল, খুরশীদ, দেবিকা রানী, মমতাজ শান্ত, দুর্গাদাস বাঁড়–জ্জে, প্রমথেশ বড়ুয়া, কানন বালা, সুনন্দা, সায়গলকে চিনিয়ে দিতেন। তখন আমি ফাইভ-সিক্সের পড়–য়া। বাবা মায়ের পড়ার জন্য মোটা উপন্যাস কিনে আনতেন সেগুলো আমিই পড়ে সাবাড় করতাম। বিকেলে পাড়ার বন্ধুরা মাঠে খেলতে যেত। আমি চলে যেতাম বিসি রোডে গীতুদার (গীতগোবিন্দ বসু) ‘পুস্তকালয়ে’। ওখানে বসে বই পড়তে পড়তে সাঁঝ ঘুরে গেলে বাবা কানটা ধরে বাড়ি নিয়ে আসতেন। তিনি বঙ্কিমচন্দ্র-শরৎচন্দ্রের উপন্যাস এনে পড়তেন। আমি পায়খানায় বসে বসে সেসব খতম করতাম। ক্লাসে ফাস্ট-সেকেন্ড হতে না পারলে বেদম পিটুনি দিতেন। মার খেয়ে একবার ট্রেনে চেপে বর্ধমান থেকে হুগলীতে মেঝখালার বাসায় পালিয়ে আসি। সেটা ১৯৪৬ সাল। সে বছরেই বর্ধমান জেলা কংগ্রেসের সেক্রেটারি আবদুস সাত্তার সম্পাদিত ‘বর্ধমানের কথা’ পত্রিকায় আমার জীবনের প্রথম কবিতা ও বর্ধমানের সিএমএস স্কুলের প্রধান শিক্ষক প্রদ্যোত বিশ্বাস সম্পাদিত স্কুল ম্যাগাজিনে প্রথম গল্প ছাপা হয়।

দেশভাগের পর ১৯৪৮-এর জানুয়ারি মাসে স্বভূমি বাগেরহাটে চলে আসি। ক্লাস সেভেনে পড়ি তখন। নতুন উদ্যমে সাহিত্যচর্চার সূত্রপাত তখন। রচনা প্রতিযোগিতাগুলোয় পুরস্কার পাই প্রায়ই। ১৯৫০ সাল তখন। ক্লাস নাইনে পড়ি। অষষ চধশরংঃধহ ঊংংধু ঈড়সঢ়বঃরঃরড়হ-এ ইংরেজিতে রচনা লিখে গোল্ড মেডেল পাই। স্কুল ছুটি হয়ে যায়। আমি কিছুই জানি না। দুদিন আগে বাবার পিটুনি খেয়ে কাঁদতে কাঁদতে খুলনায় পালিয়ে এসেছি। খবর পেয়ে বাবাও গ্রামের জমিদার তাঁর বন্ধু হরিশচন্দ্র গুহকে সঙ্গে নিয়ে এসে আমাকে ফিরিয়ে নিয়ে যান। ১৯৫১ সালের কথা। ক্লাস টেনে পড়ি। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি-সপ্তাহের রচনা প্রতিযোগিতায় প্রথম হয়ে গোল্ড মেডেল পাই। আর তার পরদিনই রাশেদ মিয়া ওসি থানায় ডেকে নিয়ে রুল দিয়ে পাছায় পেটান। অপরাধÑ আমার লেখায় আপত্তিকর কথাবার্তা। অবশ্য আমার তথ্যের উৎস ছিল ১৯৪৭-এর ১৫ আগস্টে কলকাতা থেকে প্রকাশিত ‘যুগান্তর’, ‘আনন্দবাজার পত্রিকা’, ‘দৈনিক বসুমতী’ প্রভৃতি দৈনিকের বিশেষ সংখ্যা। দেশে আসার সময় আমি এগুলো সঙ্গে করে নিয়ে এসেছিলাম। রাশেদ মিয়া আমার বৈটপুরস্থ গ্রামের বাড়ি থেকে কনস্টেবল দিয়ে সিজ করে থানায় আনিয়ে সব কাগজ আগুন দিয়ে পোড়ান। গোল্ড মেডেলটাও কেড়ে নেন।

কলম চলছিল অদমিত গতিতে। বর্ধমানের উত্তর-পশ্চিমে রানীগঞ্জ-আসানসোলের কয়লা খনি মজুরদের জীবন নিয়ে ‘রক্তজমাট ইতিহাস’ গল্প লিখি ম্যাট্রিক পরীক্ষা দেয়ার পর ১৯৫২-তে। ১৯৫২-তে কলেজে এসে সিরিয়াস সাহিত্যের স্বাদ জোটে। বাংলার অধ্যাপক কালিদাস মুখোপাধ্যায়ের মাধ্যমে সুকান্ত-সুভাষ তথা প্রগতি লেখকগোষ্ঠীর রচনার সঙ্গে পরিচয় ঘটে। আর দর্শনের অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের হাতে জীবনানন্দ দাশ ও এলিয়ট-পাউল্ড-ইয়টসের কবিতায় দীক্ষা ঘটে। তার আগে, মনে পড়ছে, ১৯৪৬-৪৭-এ বর্ধমানে থাকতে বাবা বাসায় নিয়মিত কমিউনিস্ট পার্টির মুখপত্র সাপ্তাহিক ‘স্বাধীনতা’ রাখতেন বাসায়। কলেজে পড়া অবস্থায়ই মানিক-তারাশঙ্কর-বিভূতিভূষণ পাঠ চলে নিয়মিত। ১৯৫৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে এসে সিরিয়াস লেখক হয়ে ওঠা ঘটে। ‘সমকাল’ পত্রিকা দিয়েই শুরু। সেটি ১৯৫৭ সাল। সিকানদার আবু জাফর-হাসান হাফিজুর রহমানই ছিলেন অনুঘটক। এই পর্বের প্রথম গল্প ‘কান্নাদাসী’।

ষাটের দশক আমার লেখকজীবনে আসলেই একটা দানা বাঁধার সময়। খুলনায় বন্ধু খালেদ রশীদ দুরুর নেতৃত্বে আমাদের প্রিয় ‘সন্দীপন’ গোষ্ঠী গড়ে ওঠে। ওদিকে সাধন সরকারের সুরে আমার রচিত গণসঙ্গীত ব্যাপক পরিচিতি পেতে থাকে। আর আগে একদিকে বুদ্ধদেব বসু অন্যদিকে বিষ্ণু দে’র সংস্পর্শ আমার কবিতায় দ্বন্দ্বমধুর প্রভাব নিয়ে আসে। মধ্যষাটের দিকে কলকাতার নকশাল রাজনীতির সংস্পর্শ আসন্ন বিপ্লবের স্বপ্নে উদ্বেল করে তোলে আমাদের মন। সাহিত্যচর্চায়ও তার অবধারিত ছাপ পড়ে। তবে আগেই কেটে গেছে সে উত্তেজনার কাল। আর এটাও সত্যি, শোষণমুক্ত মানবসমাজের স্বপ্নই দেখে যাব আজীবন।

১৯৫০-এর দিকে যখন আমি ক্লাস নাইন-টেনের ছাত্র, ঢাকার সাপ্তাহিক ‘সৈনিক’, দৈনিক ‘মিল্লাত’, ‘আজাদ’ ইত্যাদিতে আমার গল্পকবিতা ছাপা হতে থাকে। মনে হয় জাতে ওঠা যাকে বোঝায়, ঢাকার ‘সমকাল’ পত্রিকায় ১৯৫৭-তে কবিতা ও ১৯৫৮-তে গল্প ছাপানো থেকে তার শুরু। প্রথম কবিতার বই ‘ধবল দুধের স্বরগ্রাম’ বের হয় ১৯৬৯-এ। প্রথম গল্পের বই ‘ভূমিহীন দেশ’। প্রথম উপন্যাস ‘জলরাক্ষস’। এই উপন্যাস লেখার অপরাধে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট-কোর্টে আমাকে সামারিট্রায়্যালের মোকাবিলা করতে হয়। ১৯৭১-এ স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্র থেকে আমার লেখা গণসঙ্গীত প্রচারিত হওয়ার অপরাধে হানাদার বাহিনীর হাতে আমাকে শারীরিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়। ডান হাতটা মুচড়ে দেয়। যার ফলে অদ্যাবধি মুঠো বেঁকিয়েই কলম ধরে লিখে আসতে হচ্ছে। পাল্টা জিদের বশে গদ্য লেখায় তথা দীর্ঘ রচনায় বেশি করে জোর দিই। তার সরাসরি ফসল উপন্যাসÑ চারটি ও গল্পের বইগুলো।

একদিন মনে করতাম সমাজবিপ্লবে আমার লেখালিখিও ন্যূনকল্প শরীক হতে পারবে। আজ চারদিক দেখেশুনে মনে হচ্ছে বিষ্ণু দে’র ‘ঘোড়সওয়ার’ পথ হারিয়ে ফেলেছে ‘চোরাবালি’-তে।

মিল্টন বিশ্বাস : জীবনকে কেমন উপভোগ করছেন?

আবুবকর সিদ্দিক : ’১৯-এ আগস্ট আমার ৮২তম জš§দিন। (ম্যাট্রিক সার্টিফিকেট অনুযায়ী ৮০তম)। গড়ে দীর্ঘায়ু তো বটে। বেয়াল্লিশ বছরের অধ্যাপনাজীবন। ছাত্রছাত্রীদের ভালোবাসা। আকৈশোর বই পাড়ার অভ্যেস। কয়েক হাজার বই সারা জীবনের সম্পদ। আর গানের ভুবন। উপভোগের জন্যে এই-ই যথেষ্ট নয় কি? সবচেয়ে মধুর আমার পাঁচকন্যাÑ বিদিশা, মনীষা, তুষা, বিপাশা, পিয়াসা এবং পুত্র সাম্যর প্রিয় সঙ্গ। সব নিয়ে সুভালাভালি বেঁচেই আছি।

দুই দু’বার মৃত্যুর সাক্ষাৎ নখদাঁত এড়িয়ে বা উজিয়ে টিকে গেছি। একাত্তরে যুদ্ধের মাঠ থেকে আনওয়ার নামে এক খানসেনার রাইফেলের মুখে তিন মাইল রাস্তা রিক্সা ঠেলে আনতে হয়েছে আমাকে। নকশাল রফিকদের গুলিতে জখম ঠ্যাং নিয়ে রিক্সায় শুয়ে কাতরাচ্ছিল আরেক খানসেনা। দ্বিতীয় ফাঁড়াটা কাটল গত ২০১৩-তে। সাভারের এনাম হসপিটাল থেকে সম্পূর্ণ অজ্ঞান অবস্থায় কাজের বুয়া তানিয়ার কোলে মাথা রেখে রাতভর বমি করতে করতে এ্যাম্বুলেন্সে খুলনায় ভাইবোনের কাছে পৌঁছাই। ব্রেনহেমোরেজ চলছিল। সেই পরিস্থিতিতেই ব্রেন অপারেশান করেন ডা. মহসিন ফারায়জি। এটা ২০১৫। বেঁচেই আছি এখনও। হয়ত বোনাস আয়ু নিয়ে।