২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

কবতিা

তোমার পায়ের শব্দে

সোহরাব পাশা

তোমার পায়ের শব্দে জেগে ওঠে ঘুমন্ত নগরী

ভোরগুলো খুলে দেয় মর্চেপড়া রাত্রির জানালা।

উৎফুল্ল ডানায় উড়াল দেয় বিষণœ পাখিরা

ভুলে যায় ঘরে ফেরা সন্ধের বিষাদ;

তোমার পায়ের শব্দে বাড়িগুলো রঙিন পোশাক

পরে হেসে ওঠে স্বপ্নপায়,

জয়বাংলা শব্দে বাংলাদেশ খুঁজে পায়

এক আশ্চর্য নীলিমা,

মেঘ ছিঁড়ে আলো এসে পড়ে ঘাসে আর

মানুষের হারানো বিশ্বাসে;

ঘৃণ্য বন্য অনাচারে থেমে গেলো সেই-

পায়ের উজ্জ্বল শব্দ

নিঃস্ব-স্তব্ধ শোকে অবাক নির্বাক হলো

বাংলাদেশ;

তোমার ধ্রুপদি সেই শব্দের ছায়ায়

দোল খায় আমাদের সুবর্ণ পতাকা।

আছি নির্বিকার

নাসরীন নঈম

শরীরে এখন বয়সের বাড়াবাড়ি

তোমারও দেখি দু’গালে কাঁচাপাকা দাড়ি

মাঝে মধ্যে দেখা হয় বেইলি রোডের মাথায়

অনমনস্ক হয়ে হেঁটে যাও তাড়াতাড়ি।

ভয় কি বল আমি তো আর আগের মতো

ফাগুনের শাড়ি পরে দাঁড়াবো না তোমার পাশে

অস্তগামী সূর্য দেখার বায়না যদি করি অবশেষে

তুমি কিন্তু এড়িয়ে যেতেই পার অনিচ্ছায় অনায়াসে।

আকাশজুড়ে মেঘ ঘনালে

ঝির ঝিরিয়ে বিষ্টি এলো

এখন কি আর উঠতে পারি ছাদে?

হাঁটুর ব্যথায় নুব্জ থাকি গভীর অবসাদে ।

আমার দু’চোখ পাখির বাসা দীঘির মতো মায়া

সেই চোখের এখন যে আর পড়ে না কারও ছায়া

এই আমি যে সেই আমি নই কেউ তো জানায় না

চশমা ছাড়া চোখ দু’টো যে একটু মানায় না।

বয়স এখন বুঝতে পারি সাপের ছোবল

বিষেয় বাঁশি আকন্দ ঝাড়

অশ্রু নদীর তীরে বসে আজ মনে পড়ে না

অতীত স্মৃতি তোমার আমার।

একটি শাদাকালো ছবি

ফারুখ সিদ্ধার্থ

তোমাদের নিবাসের নীলাভ দেয়ালের শাদাকালো আলোকচিত্রটি কার?- এমন বুক- চিতানো উন্নতশির!

যে-শিশু এখনো মাতৃস্তন্য পান করে সে-ও জানে, আর তুমি...!

কিন্তু কতটা...?

যতটা সরানো যায় দু-হাতে পাথর- পেরনো যায় ধু-ধু অন্তরাল- নীল সমুদ্রসীমা- অথৈ জলরাশি...

একটু খুলেই বলো না- প্লিজ;- কে এই দুর্দান্ত চিত্রের নায়ক?

সে এক আশ্চর্য জাদুকর, যাঁর হাতে একটি নতুন পৃথিবীর জন্ম-; যে- পৃথিবী তার সূর্যকে চারবারও প্রদক্ষিণ করেনি;- করতে পারেনি।

কেন! কেন!- কী হয়েছিল তার?

নিজস্ব উপগ্রহই তাকে সংহার করেছিল; ঝাড়ে-বংশে নিপাত চেয়ে তার সেভাবেই চালিয়েছিল তা-ব- মহাতা-ব!

মহাজাতিক সূত্রে তা কী করে সম্ভব!

জানি না, তবে তা-ই করেছে সেই ভুল উপগ্রহ; আর সেই থেকেই তো এই পৃথিবী হয়েছে সব সম্ভবের...।

হায় সেলুকাস! কী বিচিত্র- কী নির্মম- কী ভয়ঙ্কর ট্রাজেডি!

ইডিপাসের ট্রাজেডিকেও হার মানায়-

তবুও জীবাশ্বে জন্ম নেয় সবুজ ঘাস- পুরাণ-পাখিটা ফেরে আপন আকাশে-

ফেরে, ইতিহাসের অনেক পথ ঘুরে তবে ফেরে।

সব ইতিহাস আমি খুঁজে নেব, তুমি শুধু বলো, এ- ঝুলন্ত অধ্যায়টি কার ক্যামেরায় ধরা?- কে বেঁধেছে এমন কুচকালো কাঠের ফ্রেমে? একটা দাফতরিক প্রামাণ্যচিত্র কীভাবেইবা এখানে এলো? সে-তো অনেক কথা, আমিও জানি না সব, শুধু জানি: গত শতকের বাহাত্তরে ধারণকৃত চিত্রটি সরকারিভাবে জেলা-পরিষদেই সংরক্ষিত ছিল-; কিন্তু পঁচাত্তরেই পাল্টে যায় পট- শুরু হয় গ্রহণের কাল; একে-একে নিভে আসে চারপাশের বাতিগুলো- গাঢ় হয় আরও অন্ধকার; তার অতলে হারায় আমাদের যাবতীয় শুভ অর্জন; নিষিদ্ধ হয় জাদুকরের যা-কিছু, এমনকি এই জড়পদার্থ চিত্রটি; তাই আঁধারেই হুলোবিড়ালের ভয়ে ছানামুখে-এক মায়ের মতো একে আগলে রাখেন আমার অগ্রজ; অতঃপর অনেক দেয়াল পেরিয়ে চিত্রটি এই দেয়ালেই প্রদর্শিত হচ্ছে; যুগান্তরকারী- এইভাবে-উজ্জ্বল আলোকের বাইরে জ্বলছে এক জোনাকি-আলো।... কিন্তু তোমাকে কেন বলছি এসব?- তুমি কে?- কোন গ্রহের?

আমি সফোক্লিস-ইডিপাসের নির্মাতা; তোমাদের ট্রাজেডি নিয়ে এবার ‘একটি শাদাকালো ছবি’ নির্মাণ করব।...

নির্বাচিত সংবাদ