২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ক্রসফায়ার দিয়ে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে ॥ বিএনপি

স্টাফ রিপোর্টার ॥ ক্রসফায়ারের মাধ্যমে দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। বৃহস্পতিবার দুপুরে নয়াপল্টন বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে দলের মুখপাত্র ড. আসাদুজ্জামান রিপন বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় কথিত ক্রসফায়ারের কৌশল নেয়া হয়েছে। বিএনপি ক্রসফায়ার সমর্থন করে না। তাই অবিলম্বে ক্রসফায়ার বন্ধ করার দাবি জানাচ্ছি।

রিপন বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বেসামাল হয়ে ক্রসফায়ার শুরু করেছে। সরকারী দলের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগ বলছে ক্রসফায়ারের নামে নাকি তাদের নেতাকর্মীদের হত্যা করা হচ্ছে। ছাত্রলীগ নেতাদের ক্রসফায়ারে হত্যা বিএনপিও সমর্থন করে না। কারণ, ক্রসফায়ার কোন সমাধান নয়। আমাদের ছাত্র সংগঠন ছাত্রদলও বলছে ক্রসফায়ার মানা যায় না। অপরদিকে যোগাযোগ মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, এ্যাকশন শুরু হয়েছে। মন্ত্রীর এ কথা থেকেই বোঝা যায়, সরকারের মদদেই ক্রসফায়ারের নামে দেশে মানুষ হত্যা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, বর্তমানে কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতাকে ক্রসফায়ার দিয়ে পরবর্তী সময়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের ক্রসফায়ার দেয়া হবে। তাই আমরা সকল ক্রসফায়ার বন্ধের দাবি করছি।

রিপন বলেন, জনগণের রায়ের প্রতি সরকারের কোন শ্রদ্ধা নেই। জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের বরখাস্ত করে দলীয় লোকদের বসিয়ে সরকার স্থানীয় সরকারকে দুর্বল করে দিচ্ছে। গাজীপুরের মেয়র অধ্যাপক মান্নানকে বুধবার বরখাস্ত করেছে। এর আগে রাজশাহীর মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলসহ সারাদেশের ৫৩৮ জন স্থানীয় সরকার প্রতিনিধিকে বরখাস্ত করে সরকার জনগণের রায়কে অশ্রদ্ধা করছে। এ কারণে জনগণ ভবিষ্যতে ভোট কেন্দ্রে যেতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে। তিনি বলেন, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র অধ্যাপক এম এ মান্নানকে ‘স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) আইন-২০০৯’ এর ধারা ১২-এর উপধারা (১)-এর ক্ষমতাবলে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। আইনের এই ধারা বাতিল করতে হবে। সেই সঙ্গে অবিলম্বে বরখাস্তকৃত নির্বাচিত স্থানীয় সরকার প্রতিনিধিদের অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে।

রিপন বলেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ৮৬ বছর বয়স্ক এমকে আনোয়ারকে বুধবার জেলে পাঠানো হয়েছে। তিনি উচ্চ আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন। আইনের প্রতি শ্রদ্ধা দেখিয়ে নিম্ন আদালতে হাজির হয়েছেন। তিনি থাকেন ঢাকায়। অথচ কুমিল্লার কোন এক প্রত্যন্ত এলাকায় গাড়ি ভাংচুরের ঘটনার মামলায় তাকে জেলে পাঠানো হয়েছে। আমরা এর নিন্দা জানাই। তিনি বলেন, সিনিয়র নেতা এমকে আনোয়ারসহ কয়েকজনের জামিন আবেদন বাতিল হওয়ায় প্রমাণ হয়েছে দেশে বিচারের বাণী এখন নিভৃতে নয়, প্রকাশ্যে কাঁদছে। তিনি অবিলম্বে এমকে আনোয়ার ও শওকত মাহমুদসহ গ্রেফতারকৃত নেতাকর্মীদের মুক্তি দাবি করেন।

আসাদুজ্জামান রিপন বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি খুবই খারাপ। বুধবারও ৩ জনকে ধর্ষণের খবর পাওয়া গেছে। প্রতিনিয়তই খুন, হত্যা, অপহরণ, চাঁদাবাজি চলছে। আইনশৃঙ্খলা বহিনী তা সামাল দিতে ব্যর্থ হয়েছে। আমরা সরকারকে বলব আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে জনমনে স্বস্তি ফিরিয়ে দিন।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান, চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদু, সাংগঠনিক সম্পাদক হারুনুর রশিদ, শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক খায়রুল কবির খোকন প্রমুখ।