২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

দেশ প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় এখন অনেক বেশি সক্ষম

  • দাতা গোষ্ঠীর সহায়তাও বাড়ছে

তৌহিদুর রহমান ॥ প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় অতীতের চেয়ে এখন অনেক বেশি সক্ষমতা অর্জন করেছে বাংলাদেশ। বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ সফলতার সঙ্গে মোকাবেলা করতে পারায় প্রাণহানি অনেক কমে আসছে। জনসচেতনতা বৃদ্ধি, আধুনিক যন্ত্রপাতি ক্রয়, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের তৎপরতা, আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণ, আগাম সতর্কবাতা, গণমাধ্যমের প্রচার ইত্যাদির কারণে প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় সফলতা এসেছে। এদিকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় দাতাগোষ্ঠীর সহযোগিতাও বাড়ছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় সূত্র এ তথ্য জানায়।

সূত্র জানায়, ঝড়, বন্যা, জলোচ্ছ্বাস, খরা ইত্যাদি প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় সরকার আগের চেয়ে অনেক বেশি সক্ষম। তবে ভূমিকম্পের মতো দুর্যোগ মোকাবেলায় এখনও পিছিয়ে রয়েছে। কেননা ভূমিকম্পের আগাম বার্তা থাকে না। আর ঢাকা শহরে ভূমিকম্পের ঝুঁকি অনেক বেশি। তাই সরকার থেকে এখন ভূমিকম্প মোকাবেলায় জোর দেয়া হচ্ছে। আর ভূমিকম্প মোকাবেলায় জাপান সহায়তা দিচ্ছে।

সম্প্রতি নেপালের ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর এই ধরনের দুর্যোগ মোকাবেলায় সরকার নানা উদ্যোগ নিয়েছে। ভূমিকম্পে অধিকতর ঝুঁকিপ্রবণ এলাকা চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য জোর দেয়া হচ্ছে। এরই মধ্যে ঢাকা ও সিলেটে ভূমিকম্প মোকাবেলায় এক হাজার ৩৮১ কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া ভূমিকম্প মোকাবেলায় জাপান বিভিন্ন প্রযুক্তি দিয়ে সহায়তা করেছে। শহরের বিভিন্ন ভবনের পাশাপাশি এখন পোশাক কারখানাকেও ভূমিকম্প সহনীয় করা হচ্ছে। গত জুলাই মাসে দেশে প্রথমবারের মতো একটি পোশাক কারখানাকে ভূমিকম্প সহনশীল করা হয়েছে। জাপানের সহযোগিতায় রেট্রোফিট প্রযুক্তি ব্যবহার করে আশুলিয়ার ডি কে নিটওয়্যার লিমিটেডকে ভূমিকম্প সহনশীল করা হয়। পর্যায়ক্রমে দেশের ২১৪টি পোশাক কারখানাকে ভূমিকম্প সহনশীল করতে সহায়তা করবে জাপান।

এদিকে ঘূর্ণিঝড় ও বন্যার পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করে দেখা গেছে এসব প্রাকৃতিক দুর্যোগে জীবন ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি কমে আসছে। ১৯৭০ সালের ভয়াল ঘূর্ণিঝড়ে মানুষ মারা যায় ৫ লাখেরও বেশি, তখন বাংলাদেশের জনসংখ্যা ছিল সাড়ে সাত কোটি। সে সময় বিশ হাজার জেলের সলিল সমাধি ঘটে সাগরে। ৪ লাখ বসতবাড়ি নিশ্চিন্ন হয়ে যায়। ১০ লাখ গবাদি পশুর মৃত্যু হয়। সে সময় সাড়ে তিন হাজার বিদ্যালয় ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ১৯৭০ সালের পরে আরেকটি ভয়াল ঘূণিঝড় মোকাবেলা করতে হয় ১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিল। এই ভয়াল ঘূর্ণিঝড়ে মারা যান দেড় লাখেরও বেশি লোক। প্রায় ৭০ হাজার গবাদি পশু মারা যায়। এছাড়া ১৯৮৫ সালের ২৪ মে ঘূর্ণিঝড়ে মারা যায় প্রায় ১২ হাজার লোক। ২০০৭ সালের ১৫ নবেম্বর সিডরে মারা যায় দুই হাজার লোক। ২০০৯ সালের ২১ মে আইলায় প্রাণ হারান ১৯৩ জন। ২০১৪ সালে মহাসেনের আঘাতে মারা যান ১৪ জন। ১৯৭০ সাল থেকে সর্বশেষ মহাসেন ঘূর্ণিঝড়ের ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানির পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করলে দেখা যায় প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলা করতে সক্ষমতা অর্জন করেছে বাংলাদেশ।

সূত্র জানায়, অতীতে প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলার সময় দেখা গেছে জনসচেতনতা ছিল না। তবে এখন সবার মাঝে জনসচেনতা বেড়েছে। একই সঙ্গে একে অপরের মধ্যে যোগাযোগ বেড়েছে। ঘূর্ণিঝড়ের খবর মুহূর্তের মধ্যেই সবার মধ্যে পৌঁছে দেয়া হচ্ছে। এছাড়া গণমাধ্যমও বিশাল ভূমিকা পালন করছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ বিষয়ক জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য উপকূলীয় জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে। এছাড়া সরকারের উদ্যোগে স্বেচ্ছাসেবী তৈরি করা হয়েছে। এসব স্বেচ্ছাসেবী প্রাকৃতিক দুর্যোগে ভূমিকা পালন করছে। সে কারণে এখন প্রাণহানি কমে আসছে।

দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় দেশের ১৩টি উপকূলীয় জেলার ৩৭টি উপজেলার ৩২১টি ইউনিয়নে প্রায় ৫০ হাজার স্বেচ্ছাসেবী রয়েছে। এসব স্বেচ্ছাসেবী দুর্যোগের আগাম বার্তা প্রচার করে আশ্রয় কেন্দ্রে লোকজনকে সরিয়ে নিয়ে আসে। এছাড়া সেলফোনের মাধ্যমে জেলেদের কাছেও আগাম বার্তা পৌঁছে দেয়া হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে জেলে সমিতিগুলোকে কাজে লাগানো হচ্ছে।

নির্বাচিত সংবাদ