১১ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

নির্ধারিত সময়ে শেষ হয়নি নৌপথ খনন

  • মংলা-ঘষিয়াখালী চ্যানেল পলি জমে ভরাট হচ্ছে

স্টাফ রিপোর্টার, বাগেরহাট ॥ নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান মংলা-ঘষিয়াখালী চ্যানেল পরিদর্শনে এসে গত ১৭ মে বলেছিলেন, জুন মাসের মধ্যে নৌ-প্রটোকলভুক্ত আন্তর্জাতিক এই নৌপথ দিয়ে জাহাজ চলাচল করবে। কিন্তু দুই শ’ চল্লিশ কোটি টাকা ব্যয় করেও নির্ধারিত সময়ে চালু করা সম্ভব হয়নি নৌপথটি। ড্রেজিং করার কয়েক দিনের মধ্যেই আবার নতুন করে পলি জমে ভরাট হয়ে যাচ্ছে। ফলে সুন্দরবনের ভেতর দিয়ে এখনও জাহাজ চলাচল করছে। বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ আশা করছেন, এখন আংশিক খুলে দেয়া হলেও সেপ্টেম্বরের মধ্যে খনন শেষ করে এ চ্যানেল পুরোপুরি খুলে দেয়া সম্ভব হবে।

জানা যায়, মংলা বন্দরের সঙ্গে সারাদেশের দূরত্ব কমানোর জন্য ১৯৭৪ সালে প্রায় সাড়ে ৬ কিলোমিটার কৃত্রিম পথ খনন করে ৩১ কি.মি দীর্ঘ ‘মংলা-ঘষিয়াখালী’ আন্তর্জাতিক নৌপথটি চালু করা হয়। এটি ‘বাংলাদেশ-ভারত’ নৌ-প্রটোকলভুক্ত ও বাংলাদেশ-ভারত ট্রানজিট পথের একটি প্রধান অংশ। চট্টগ্রাম, ঢাকা, বরিশাল, নারায়ণগঞ্জ, উত্তরাঞ্চল ও সিলেট অঞ্চল থেকে খুলনা, নোয়াপাড়া, আংটিহারা হয়ে ভারতগামী পণ্যবাহী সকল জাহাজ এ নৌপথ দিয়ে চলাচল করে থাকে। মংলা সমুদ্রবন্দর ও খুলনার সঙ্গে দেশের অন্যান্য জেলার নৌ-যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম মংলা-ঘষিয়াখালী রুটটি।

চরম নাব্য সঙ্কটের কারণে ২০১০ সাল থেকে এ নৌপথে জাহাজ চলাচলে বিঘœ সৃষ্টি হয়। চ্যানেলের ২২ কিলোমিটার অংশ পলি পড়ে নাব্য হারায়। এ সমস্যার সমাধানে ২০১০ সালের মে মাসে বিআইডাব্লিউটিএ প্রায় ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে এখানে ড্রেজিং কাজ শুরু করে কার্যকারিতা না থাকায় পনেরো দিনের মধ্যে তা বন্ধ করে দেয়। তখন খননকৃত এলাকা তিন মাসের মধ্যে পলি পড়ে ভরাট হয়ে যায়। এরপর আবারও বিআইডাব্লিউটিএ ২০১১ সালের ২৮ মার্চ থেকে মংলা-ঘষিয়াখালী চ্যানেলে ১৪ কোটি টাকা ব্যয়ে নদী খনন কাজ শুরু করে। সেবারও উপকারিতা না পাওয়ায় এক মাসের মধ্যে খনন কাজ বন্ধ করে দেয়া হয়। তখন খুলনা, মংলাসহ দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যোগাযোগের বিকল্প পথ হিসেবে সুন্দরবনের ভেতর দিয়ে নৌযান চলাচল শুরু করে। এতে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য চরম হুমকির মুখে পড়ে। গত ডিসেম্বরে শ্যালা নদীতে অয়েল ট্যাংকার দুর্ঘটনায় সুন্দরবনের পরিবেশ বিপর্যয় ঘটে। এরপর গত বছরের ২২ মে থেকে তৃতীয়বারের মতো বিআইডাব্লিউটিএ প্রায় দুই শ’ চল্লিশ কোটি টাকা ব্যয়ে এক কোটি ঘনমিটার পলি অপসারণের লক্ষ্যে এ নৌপথে খননকাজ শুরু করে। চায়না হারবার ৮৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ৩২ লাখ ঘনমিটার, বসুন্ধরা ড্রেজিং কোম্পানি লিমিটেড ৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে ১২ লাখ ঘনমিটার এবং এসএফ রহমান কোম্পানির ৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে ১২ লাখ ঘনমিটার পলি অপসারণ করার কথা। ৯৩ কোটি টাকা ব্যয়ে অবশিষ্ট ৪৬ লাখ ঘনমিটার অপসারণ করার কথা বিআইডাব্লিউটিএ’র। বিআইডাব্লিউটিএ সূত্রে জানা গেছে, গত জুন মাস পর্যন্ত ওই চ্যানেলে প্রায় ৭০ লাখ ঘনমিটার খনন করা হয়েছে। বসুন্ধরা ড্রেজিং কোম্পানি লিমিটেড ও এসএফ রহমান কোম্পানির খনন কাজ শেষ হলেও চায়না হারবার ও বিআইডাব্লিউটিএ’র খনন কাজ এখনও চলছে। ফলে ২০১৫ সালের জুন মাসের মধ্যে এ খনন কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও কার্যত এ পর্যন্ত সত্তর ভাগের মতো কাজ হয়েছে।

চ্যানেলে ঘুরে দেখা যায়, ৯টি ড্রেজার দিয়ে একযোগে খনন কাজ চালানো হচ্ছে। তবে বিভিন্ন স্থানে নদীর প্রশস্ততা বা চওড়া বিভিন্ন রকম। কোথাও ১২০ ফুট কোথাও ২০০ ফুটের কাছাকাছি। একদিকে চলছে খননের কাজ অন্যদিকে জোয়ারের পানিতে বিপুল পরিমাণ পলি এসে ভরাট হয়ে যাচ্ছে নদীর তলদেশ। ফলে এখনও এ চ্যানেলে মাত্র সাত থেকে আট ফুট গভীরতার জাহাজ চলাচল করতে পারছে। তবে স্থানীয়রা জানিয়েছেন, শুধু জোয়ারের সময় এপথ দিয়ে ছোট ছোট জাহাজ চলাচল করতে পারছে। ভাটার সময় সম্ভব হচ্ছে না।

বিআইডাব্লিউটিএ’র তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এএইচ মোঃ ফরহাদুজ্জামান বলেন, খনন দ্রুত শেষ করে চ্যানেলটি চালু করার চেষ্টা করছি। কিন্তু খননকৃত জায়গায় নতুন করে পলি জমা হওয়া ও খননকৃত পলি ডাম্পিংয়ের স্থানাভাবে কাজ বিলম্বিত হচ্ছে। মে মাসের প্রথম সপ্তাহে এ চ্যানেলটি আংশিক খুলে দেয়া হয়েছে। আশা করছি সেপ্টেম্বর মাসের শেষনাগাদ খনন কাজ শেষ করতে পারব। তবে সবখানে চ্যানেলের প্রস্থ (চওড়া) তিন শ’ ফুট করতে আরও কিছু সময় লাগবে। এ কাজটি চলমান থাকবে। আর নতুন করে পলি ভরাট হয়ে যাওয়া অংশে ড্রেজিংও চলতে থাকবে।