২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

‘মোর পোলাডারে ওরা মাইরা পাগল বানাইয়্যা দেছে’

  • চার বছর শিকলে ‍বাঁধা জীবন

নিজস্ব সংবাদদাতা, আমতলী, বরগুনা, ২১ আগস্ট ॥ আমতলী উপজেলার উত্তর তক্তাবুনিয়া গ্রামের নুরু মাতুব্বরের ছেলে নাসির মাতুব্বর (২৫) চার বছর ধরে শিকলে বাঁধা জীবনযাপন করছে। পরিবারের অভিযোগ সম্পতির লোভে চাচাত ভাই সুলতান মাতুব্বর মারধর করায় এ অবস্থা হয়েছে।

জানা গেছে, উপজেলার উত্তর তক্তাবুনিয়া গ্রামের সুলতান মাতুব্বরের সঙ্গে জমি নিয়ে নাসির মাতুব্বরের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। ২০১০ সালে সুলতান মাতুব্বর ও তার লোকজন নাসির মাতুব্বরকে একা পেয়ে বেধড়ক পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। আহত নাসির চিকিৎসায় শারীরিকভাবে সুস্থ হলেও মানুষিকভাবে সুস্থ হয়নি। সে অসংলগ্ন কথা বলতে শুরু করে। হতদরিদ্র নাসিরকে উন্নত চিকিৎসার আশ্বাস দিলেও সুলতান চিকিৎসা খরচ দেয়নি। চিকিৎসার অভাবে নাসির বিকারগ্রস্ত হয়ে যায়। উপায়ন্ত না পেয়ে পরিবারের লোকজন কিছু টাকা সংগ্রহ করে বরিশাল মানসিক চিকিৎসক ডাক্তার সরোজ কুমার দাশের কাছে নিয়ে যান। ওখানে চিকিৎসায় কিছু দিন ভাল থাকলেও আবার বিকারগ্রস্ত হয়ে পড়ে। কিন্তু অর্থের অভাবে আর তার চিকিৎসা দেয়া হয়নি। এদিকে কর্মক্ষম নাসিরকে ভাল করে তোলার জন্য পরিবারের লোকজন বিভিন্ন ওঝা-ফকিরের কাছে নিয়ে যায় কিন্তু তার কোন উন্নতি হয়নি। চার বছর ধরে সে মানসিক রোগী হিসেবে ঘরে শিকলে বাঁধা বন্দী জীবনযাপন করছে। শুক্রবার সকালে মা তহুরা বেগম ও ভাই বসির মাতুব্বর নাসিরের চিকিৎসার জন্য শিকল দিয়ে টমটমে বেঁধে শাখারিয়া সোনা ফকিরের বাড়িতে নিয়ে যায়। সোনা ফকির ঝাড়-ফুঁক দিয়ে জানায় জিনের আঁচড় লেগেছে। এ জিন তাড়াতে ফকির তদবির হিসেবে পানি, তৈল, মিঠা পড়া আর কোমরে বাঁধার জন্য কবজ হিসেবে একটি কৈতম দেয়। অপরদিকে সুলতানের বিরুদ্ধে ওই সময় মামলা করতে চাইলেও তার হুমকিতে নাসিরের পরিবার মামলা করতে পারেনি।

নাসির মাতুব্বরের মা তহুরা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন ‘বাবা মুই কি কমু মোর পোলাডারে ওরা মাইর‌্যা পাগল বানাইয়্যা দেছে, মুই গরিব মানুষ, কি হরমু পোলাডারে ডাক্তার দ্যাহাইছিলাম হ্যাতে ভাল অইছে কিন্তু টাহার অভাবে আর ডাক্তার দ্যাহাইতে পারি নাই। ওরা টাহা দ্যাওয়ার কথা কইয়্যা আর টাহা দেয় নাই। টাহা দেলে মোর পোলাডা পাগল অইতো না।’