২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

স্বেচ্ছাসেবক লীগের ৩ নেতাকে র‌্যাব ধরে নিয়ে গেছে

  • কুষ্টিয়ায় সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের অভিযোগ

নিজস্ব সংবাদদাতা, কুষ্টিয়া, ২১ আগস্ট ॥ বৃহস্পতিবার গভীর রাতে গাজীপুরের একটি রিসোর্ট থেকে কুষ্টিয়া জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আক্তারুজ্জামান লাবু ও সাধারণ সম্পাদক শেখ সাজ্জাদ হোসেন সবুজসহ তিনজনকে র‌্যাব সদস্যরা ধরে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। শুক্রবার সকালে কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের হল রুমে এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন সাজ্জাদ হোসেন সবুজের মা শাহিদা খাতুন ও স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস জিনিয়া। এসময় তারা দাবি জানান, কোন অপরাধ করে থাকলে তাদের আইনের হাতে সোপর্দ করা হোক। তবে র‌্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে ওই দুই নেতাকে গ্রেফতারের কথা স্বীকার করা হয়নি। গত ১৫ আগস্ট কুষ্টিয়ায় জাতীয় শোক দিবসের র‌্যালি শেষে আওয়ামী লীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের সংঘর্ষে যুবলীগকর্মী সবুজ হোসেন নিহত হন। ওই মামলায় সাজ্জাদ হোসেন সবুজ প্রধান আসামি।

সংবাদ সম্মেলনে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা সবুজের মা শাহিদা খাতুন অভিযোগ করেন, বৃহস্পতিবার রাত আড়াইটার দিকে র‌্যাব অভিযান চালিয়ে গাজীপুরের ড্রিম স্কয়ার রিসোর্ট থেকে কুষ্টিয়া স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা সবুজ ও লাবুসহ তিনজনকে আটক করে গাড়িতে উঠিয়ে নিয়ে যায়। এরপর থেকে তার আর কোন সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে সবুজ ও লাবু নেই বলে গাজীপুর ও কুষ্টিয়া র‌্যাব জানায়। ফলে ওই দুই নেতার পরিবারের সদস্যরা রয়েছেন চরম উদ্বিগ্ন ও উৎকণ্ঠার মধ্যে। স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা সবুজের স্ত্রী ফেরদৌস জিনিয়া স্বামীকে নির্দোষ দাবি করে জানান, ‘সবুজ কুষ্টিয়া জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং কুষ্টিয়া চেম্বার অব কমার্স এ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সহসভাপতি। সবুজ যদি প্রকৃতই কোন অপরাধ করে থাকে তবে তাকে বিচারের মুখোমুখি করা হোক। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যেদের মাধ্যমে আদালতে পাঠানো হোক। আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে এই আকুতি জানাচ্ছি।’ সবুজ রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার বলেও দাবি করেন স্ত্রী জিনিয়া।

সংবাদ সম্মেলনে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা সবুজের মা শাহিদা খাতুন, পিতা শেখ কাইজার হোসেন, স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস জিনিয়াসহ পরিবারের অন্যরা উপস্থিত ছিলেন। এদিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী লাবু ও সবুজকে গ্রেফতারের বিষয়টি স্বীকার না করলেও গাজীপুর জেলার মাওনা এলাকার ড্রিম স্কয়ার রিসোর্টের ম্যানেজার শিমুল ওই দুই নেতাকে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। উল্লেখ্য, জাতীয় শোক দিবসে কুষ্টিয়ায় আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত নেতা মোমিনুর রহমান মোমিজ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের বিবদমান দুই গ্রুপের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে যুবলীগকর্মী সবুজ হোসেন (২২) নিহত হয়। ওই হত্যা মামলায় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা সবুজসহ ২০ জনকে আসামি করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে লাবু, সবুজ ও নৈতিক স্খলনের দায়ে বহিষ্কৃত আওয়ামী লীগ নেতা মোমিনুর রহমান আত্মগোপন করেন। কুষ্টিয়া র‌্যাব-১২ ইউনিটের কমান্ডার জানান, সবুজ ও লাবুকে আটকের কোন খবর তার জানা নেই।