২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

আজ থেকে অনুশীলন ক্যাম্প শুরু

  • ১৮ দিনের ছুটি শেষে আবার মাঠে ফিরছেন ক্রিকেটাররা, মাশরাফি ও সাকিব ছাড়া থাকছেন ডাক পাওয়া ২৫ ক্রিকেটার, প্রথমে চলবে ফিটনেস ক্যাম্প

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ একটানা ক্রিকেটের মধ্যে ছিলেন ক্রিকেটাররা। গত বছর ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ব্যস্ত থাকা বাংলাদেশ জাতীয় দলে থাকা খেলোয়াড়রা সিরিজের ফাঁকে ফাঁকে খুব কমই সময় পেয়েছেন বিশ্রাম নেয়ার। কিন্তু সর্বশেষ দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে সিরিজ শেষ হওয়ার পর দীর্ঘদিন সুযোগ পেয়েছেন তাঁরা ছুটি কাটানোর। তিন সপ্তাহের লম্বা ছুটি কাটিয়ে অবশেষে মাঠে ফিরছেন সবাই। আজ থেকে মাসব্যাপী কন্ডিশনিং ক্যাম্প শুরু হবে জাতীয় ক্রিকেট দলের। অবশ্য ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা এবং বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানকে ছাড়াই ক্যাম্পে ডাক পাওয়া বাকি ক্রিকেটারদের নিয়ে অনুশীলন শুরু হবে। কারণ মাশরাফি ছেলের চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর এবং সাকিব যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। প্রায় তিন সপ্তাহ শুধু ক্রিকেটারদের ফিটনেস নিয়েই কাজ করা হবে এ ক্যাম্পে। আর দক্ষতা বৃদ্ধির অনুশীলন শুরু হতে হতে ১৫ সেপ্টেম্বর। সবমিলিয়ে এ ক্যাম্প চলবে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। উল্লেখ্য, আগামী অক্টোবরে দুই টেস্টের সিরিজ খেলতে বাংলাদেশ সফরে আসবে অস্ট্রেলিয়া। সে কারণেই এ অনুশীলন ক্যাম্প।

শুক্রবার থেকে ছুটি শেষ হলেও অনেক ক্রিকেটারই আগেভাগে ঢাকায় ফিরেছেন। এর মধ্যে নিজ উদ্যোগে অনেকে অনুশীলনও শুরু করে দিয়েছিলেন। মাশরাফি ও টেস্ট অধিনায়ক মুশফিকুর রহীম এবং মাহমুদুল্লাহ রিয়াদরা নিজেদের ঝালিয়ে নিয়েছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) অফিসিয়াল অনুশীলন ক্যাম্প ডাকার আগেই। এছাড়া অনেক ক্রিকেটার হাই পারফর্মেন্স স্কোয়াডের অন্তর্ভুক্ত থাকায় ছিলেন অনুশীলনের মধ্যে। তবে এবার জাতীয় দলের অনুশীলন। ইতোমধ্যেই ক্যাম্পে ২৭ জনকে ডেকেছে বিসিবি। সকাল থেকেই শুরু হবে ফিটনেস ক্যাম্প। এর মধ্যে মাশরাফি ও সাকিব অনুপস্থিত থাকবেন আজ। মাশরাফি সিঙ্গাপুর থেকে ফিরবেন আরও দু’দিন পর ২৫ আগস্ট। আর সাকিবের যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফেরার কথা রয়েছে ২৭ আগস্ট। এ দু’জন বাদে বাকি ২৫ ক্রিকেটারকে নিয়ে শুরু হবে অনুশীলন ক্যাম্প। এটিকে বলা হচ্ছে বিসিবি আয়োজিত এলিট প্লেয়ার্স কন্ডিশনিং ক্যাম্প। সকাল পৌনে ১০টায় জাতীয় দলের স্ট্রেন্থ এ্যান্ড কন্ডিশনিং কোচ মারিও ভিল্লাভারায়নের কাছে রিপোর্ট করতে হবে। বিসিবির ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগ জানিয়েছে প্রথম দুদিন ফিটনেস টেস্ট অনুষ্ঠিত হবে ক্রিকেটারদের। পরে আরও প্রায় তিন সপ্তাহ শুধু ফিটনেস নিয়েই কাজ করা হবে।

দীর্ঘ প্রায় তিনটা সপ্তাহ (১৮ দিন) একেবারেই ক্রিকেটের বাইরে ছিলেন জাতীয় দলের খেলোয়াড়রা। আর নিয়মিত অনুশীলনের মধ্যে না থাকলে এবং ক্রিকেটের বাইরে থাকলে ফিটনেসে কিছুটা ব্যতিক্রম তৈরিই হয়। সে কারণে ফিটনেস সঠিক এবং ভাল অবস্থানে নিতে এ বিষয়টির ওপরই জোর দেয়া হয়। ক্রিকেটাররা ছুটি কাটিয়ে ফেরার পর এটি নিয়েই কাজ করা হবে সে কারণে। স্কিল ক্যাম্প শুরু হতে পারে ১৫ সেপ্টেম্বর কিংবা তারও পরে। ফিটনেস ক্যাম্পের পরই ক্যাম্পে ডাক পাওয়াদের মধ্যে থেকে বাংলাদেশ ‘এ’ দল ও ফিটনেস ক্যাম্প শেষেই ‘এ’ দল ও টেস্ট দল ঘোষণা করা হবে। কারণ সামনেই আছে বাংলাদেশ ‘এ’ দলের দক্ষিণ আফ্রিকা ও জিম্বাবুইয়ে সফর। আর অক্টোবরের শুরুতেই শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ঘরের মাটিতে বাংলাদেশ খেলবে দুই টেস্টের সিরিজ। আলাদা দুটি দল ঘোষণার পর ক্রিকেটারদের স্কিল ট্রেনিং শুরু হবে। তখনই মাঠে ব্যাট-বলের অনুশীলনটা পুরোদমে চলবে। উভয় দল অবশ্য আলাদা অনুশীলন করবেন।

আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের মাটিতে পা রাখবে অস্ট্রেলিয়া দল। সফরের প্রথম টেস্ট ৯ অক্টোবর শুরু হলেও পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে উঠতে আগেভাগেই আসবে অসিরা। ৩ অক্টোবর একমাত্র তিনদিনের প্রস্তুতি ম্যাচে বিসিবি একাদশের বিরুদ্ধে মাঠে নামবে তারা। বাংলাদেশ দলের স্কিল ট্রেনিং দেরিতে হওয়ার পেছনে কারণ হচ্ছে প্রধান কোচ চান্দিকা হাতুরাসিংহেসহ কোচিং স্টাফের অন্য সদস্যরা ছুটি কাটিয়ে ঢাকায় ফিরবেন সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে। এরপরই শুরু হবে স্কিল ট্রেনিং।