২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

শেখ জামাল-আবাহনী মুখোমুখি আজ

  • লীগের পর্দা নামছে

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ আজ শনিবার পর্দা নামতে যাচ্ছে ঘরোয়া ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসর ‘মান্যবর বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগ’ ফুটবল। দলবদল শুরুর কারণে লীগও শুরু হয় বিলম্বে। এজন্য মৌসুম শেষ হওয়ার প্রায় দুই মাস পর শেষ হচ্ছে লীগের খেলা। শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে শেখ জামাল ধানম-ি ক্লাব লিমিটেড মুখোমুখি হবে ঢাকা আবাহনী লিমিটেডের। দুই দলের মধ্যে প্রথম লেগের খেলায় আবাহনী ২-০ গোলে পরাভূত করেছিল জামালকে। লীগে জামাল এই একটি ম্যাচেই হেরেছে। ফলে আজকের খেলায় ‘দ্য স্কাই ব্লু ব্রিগেড’ আবাহনীকে হারিয়ে প্রতিশোধ নেয়ার সুযোগ থাকছে ‘বেঙ্গল ইয়োলাস’ খ্যাত শেখ জামালের।

দলবদলে দেরি, বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ, এএফসি অনুর্ধ-২৩ বাছাইয়ের কারণে দফায় দফায় পিছিয়ে লীগের খেলা শুরু হয়েছিল ৭ এপ্রিল। মে’র শেষ সপ্তাহে প্রথম লেগের খেলা শেষ হয়। এরপর বিশ্বকাপ বাছাইয়ে বাংলাদেশ জাতীয় দলের দুটি ম্যাচ ছিল ঘরের মাটিতে। সেসব দিক বিবেচনায় একাধিক ক্লাবের সুবিধা-অসুবিধা বিবেচনায় নিয়ে ২৮ জুন শুরু হয় দ্বিতীয় লেগের খেলা। বর্ষা মৌসুমে খেলা হওয়ায় বৃষ্টির কারণে পিছিয়ে যায় বেশ কটি ম্যাচ। ফলে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে ১০ দিন দেরিতে যবনিকাপাত হতে যাচ্ছে দ্বিতীয় লেগের খেলা।

উল্লেখ্য, নিজেদের দুই ম্যাচ হাতে রেখেই ইতোমধ্যেই লীগ শিরোপা অক্ষুণœ রেখেছে শেখ জামাল। তাই লীগের আকর্ষণ শেষ হয়ে গেছে আগেভাগেই। তবে আজকের খেলায় কিছুটা হলেও আগ্রহ থাকবে। কেননা, আবাহনীকে হারিয়ে জামাল প্রতিশোধ নিতে পারে কিনা, সেটাই এখন দেখার বিষয়। লীগ শিরোপা জিতলেও এই ম্যাচটি জামালের কাছে স্রেফ নিয়ম রক্ষার ম্যাচ নয়।

বর্তমান চ্যাম্পিয়ন শেখ জামাল ধানম-ি ক্লাব ৪৮ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে রয়েছে। ৪২ পয়েন্ট নিয়ে লীগের রানার্সআপ হয়েছে শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্র লিমিটেড। ৩৮ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে মোহামেডান। তবে তাদের সেই স্থানটি দখলে নেয়ার একমাত্র দাবিদার ঢাকা আবাহনী। যাদের ১৯ ম্যাচে সংগ্রহ ৩৫ পয়েন্ট। আজকের ম্যাচে জয় পেলে ঢাকা আবাহনীরও মোট ৩৮ পয়েন্ট হবে। সেক্ষেত্রে হিসেব করা হবে গোলগড়ে কোন্ দল এগিয়ে। দুই ঐতিহ্যবাহীর গোল পার্থক্যটাও খুব বেশি নয়। মোহামেডান ২০ ম্যাচে গোল গড় +২১ যেখানে ঢাকা আবাহনীর ১৯ ম্যাচে গোলগড় +২০। তাই ঢাকা আবাহনীকে তৃতীয় স্থানটা দখল করতে হলে জামালের বিপক্ষে জিততে হবে অন্তত ২ গোলের ব্যবধানে। কেননা গোলগড় যদি সমান হয় সেক্ষেত্রে স্থান নির্ধারণ করা হবে কোন্ দল কয়টি গোল দিয়েছে সেটি দেখে। সেক্ষেত্রে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে মোহামেডান। ২০ ম্যাচে তারা মোট গোল হজম করেছে ১৭টি, দিয়েছে ৩৮টি। পক্ষান্তরে আবাহনী করেছে ৩১ গোল আর হজম করেছে ১১ গোল। তাই আবাহনীর জন্যও এ ম্যাচটা কিছুটা হলেও গুরুত্বপূর্ণ।

গত মৌসুমে আবাহনী রানার্সআপ হয়েছিল আর মোহামেডান হয়েছিল চতুর্থ। চলতি মৌসুমে বড় বাজেটের দল গড়লেও আবাহনী এবার সুবিধা করতে পারেনি। তবে দেশীয় তারুণ্যনির্ভর দল নিয়ে খেলেও মোহামেডান যথেষ্ট নৈপুণ্য দেখিয়েছে।

বৃহস্পতিবারই বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগ চ্যাম্পিয়ন শেখ জামালের সঙ্গে মুখোমুখি হবার কথা ছিল আবাহনীর। কিন্তু ম্যাচটি ওইদিন মাঠে গড়ায়নি। দু’দিন পিছিয়ে দেয়া হয়। এএফসি কাপে অংশ নিয়ে দেশে ফেরায় জামালের খেলোয়াড়দের মধ্যে ভ্রমণক্লান্তি রয়ে গেছে। তাই আবাহনীর সঙ্গে আলোচনা করে এবং বাফুফে পেশাদার লীগ কমিটির কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে তাদের ম্যাচটি দু’দিন পিছিয়ে দেয়া হয়। এখন দেখার বিষয়, আজ লীগের শেষ ম্যাচের ফল কী হয়।