২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

এক রাহুলে দুই গ্রেটের ছায়া!

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ লোকেশ রাহুলের নাম নিয়ে মজার একটি ঘটনা আছে। বাবা ছিলেন লিটল মাস্টার সুনীল গাভাস্কারের পাঁড় ভক্ত। তাই গাভাস্কারের ছেলের (রোহান গাভাস্কার) সঙ্গে মিলিয়ে নিজের সন্তানের নাম রাখেন। কিন্তু ভদ্রলোক ‘রোহান’ এবং ‘রাহুল’Ñ এ গুলিয়ে ফেলতেন। মনে ভাবতেন রোহান, মুখে উচ্চারণ করতেন রাহুল! শিশু রোহান হয়ে যায় রাহুল। লোকেশ রাহুল। পুরো নাম কুমার লোকেশ রাহুল। উচ্চারণের ভুলে নাম বদলে গেলেও বাবার স্বপ্ন বদলায়নি। তিনি চান রাহুল একদিন গাভাস্কারের মতো ক্রিকেটার হবেন। বাবার চাওয়ার পূরণ হবে কিনা, সময়ই তার জবাব দেবে, তবে দারুণ কিছুর ইঙ্গিত দিচ্ছেন কর্ণাটক ওপেনার। কলম্বো টেস্টে হাঁকিয়েছেন দারুণ এক সেঞ্চুরি (১০৮), সৌজন্যে সিরিজ বাঁচিয়ে রাখার কঠিন চ্যালেঞ্জ মাথায় নিয়ে প্রথম ইনিংসে ৩৯৩ রানের বড় সংগ্রহ গড়েছে ভারত।

এই পর্যন্ত ঠিকই ছিল, সমস্যা অন্য জায়গায়! জন্মের পর থেকে লোকেশ রাহুল শুনে এসেছেন গাভাস্কার জগদ্বিখ্যাত, কিংবদন্তি ক্রিকেটার। সেটা শোনা বিষয়, দেখা নয়। তাঁর প্রিয় তাই কর্ণাটকেরই একজন। তিনিও কিংবদন্তি। যার খেলা দেখে বড় হয়েছেন সেই রাহুল দ্রাবিড়ের মতো হতে চান ২৩ বছর বয়সী ডানহাতি ওপেনার। এতে লাভটা কিন্তু ভারতেরই। বাবার স্বপ্ন সুনীল গাভাস্কারের সঙ্গে নিজের বাস্তব চাওয়া রাহুল দ্রাবিড়ের মিশেলে অন্য এক রাহুলের অপেক্ষায় ক্রিকেটপাগল জাতি। ভাবা যায়, কী পরিস্থিতিতে সেঞ্চুরিটা এলো? প্রথম টেস্ট হেরে ১-০তে পিছিয়ে ভারত। সিরিজে টিকে থাকতে জিততেই হবে। ইনজুরিতে ছিটকে গেছেন আগের ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান শিখর ধাওয়ান। রানের খাতা খোলার আগে সাজঘরে ওপেনিংয়ে নতুন সঙ্গী মুরলি বিজয়। তখনই বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে গেলেন। খেললেন ১০৮ রানের দৃষ্টিনন্দন ইনিংস। ১৯০ বলে ১৩ চারের বিপরীতে একটিমাত্র ছক্কা। ক্যারিয়ারের চতুর্থ টেস্টে তুলে নিলেন দ্বিতীয় সেঞ্চুরি!

অস্ট্রেলিয়া সফরে অভিষেক। সিডনিতে ৩ ও ১ রান করে সাজঘরে ফেরার পরের ম্যাচে সুযোগ পাওয়া নিয়ে প্রশ্ন ছিল। তখনই সিডনির প্রথম ইনিংসে ১১০ রানের দুরন্ত ইনিংস। গলে প্রথম টেস্টে ৭ ও ৫ রানে ফেরার পর কলম্বোতে ফের সেঞ্চুরি। ‘সিডনির সেঞ্চুরিটা এক রকম ছিল, এখানকারটা আরেক রকম। দুটিই ছিল কঠিন পরিস্থিতির মুখে, দুটিই চ্যালেঞ্জিং। আফসোস ইনিংসটাকে আরও বড় করার সুযোগ ছিল। তাহলে সেটা দলের জন্য আরও ভাল হতো।’ বলেন লোকেশ রাহুল। বাবা গাভাস্কারের ভক্ত হলেও নিজ রাজ্যের রাহুল দ্রাবিড়কে হৃদয়ে ধারণ করে চলেছেন। সিডনিতে অসাধারণ সেই সেঞ্চুরির পর স্বয়ং দ্রাবিড় তাঁকে ডেকে নিয়ে অভিনন্দন জানিয়েছিলেন। ‘সেটা আমার জীবনের অন্যতম স্মরণীয় ঘটনা হয়ে থাকবে। অভিষেকে দুই ইনিংসে ব্যর্থতার পর সিডনিতে যখন সেঞ্চুরি পেয়েছিলাম, তিনি ডেকে অভিনন্দন জানিয়েছিলেন, বলেছিলেন পরিশ্রম করো, নিজের ওপর ভরসা রাখো আর সুযোগ পেলে দেশের জন্য খেলে যাও।’

গলে ওভাবে ব্যর্থ হওয়ার পর ধাওয়ান ইনজুরিতে না পড়লে হয়ত কলম্বোয় সুযোগই পেতেন না। সেই লোকেশ এখন ভারতীয় ড্রেসিং রুমের মধ্যমণি। সেঞ্চুরির পর পুল মারতে গিয়ে আউট হয়েছেন। এটি তাঁর প্রিয় শট। ‘পুল আমার ভীষণ প্রিয়। এটা আমি খুব উপভোগ করি। আউট হয়েছি বলে এটা বন্ধ করব না। পুল শট খেলবই।’ টেস্ট ম্যাচে একজন ওপেনারের কাছ থেকে দলের যা প্রত্যাশা, লোকেশ রাহুলের মধ্যে তাঁর সবটাই আছে। কখনই ক্রিজে আটকে থাকেন না। চাপের মধ্যেও সিঙ্গেলস নিয়ে রানের চাকা সচল রাখতে চেষ্টা করেন। লোকেশ রাহুল সেঞ্চুরি পাওয়ায় অধিনায়ক বিরাট কোহলির সামনে দারুণ এক বিকল্প তৈরি হয়ে গেল। মুরলি বিজয় প্রথম ইনিংসে রান না পেলেও ২০১৪ সাল থেকে ভারতের অন্যতম সফল ওপেনার। ১২ ম্যাচে করেছেন ১০৮২ রান। ইনজুরির কবলে পরা ধাওয়ানও আগের ম্যাচে সেঞ্চুরি পেয়েছেন, এবার নিজের অমিয় সেই প্রতিভা নিয়ে হাজির হলেন লোকেশ রাহুল। যার অর্থ ওপেনিংয়ে তিনজন ইনফর্ম ব্যাটসম্যানকে পাচ্ছে ভারত। অবশ্য দলের প্রয়োজনে যে কোন পজিশনে খেলার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন লোকেশ রাহুল।