২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

গত ৬ বছরে ছয় হাজার দুর্ঘটনা ॥ অরক্ষিত রেললাইন

গত ৬ বছরে ছয় হাজার দুর্ঘটনা ॥ অরক্ষিত রেললাইন
  • অনুমোদনহীন লেভেল ক্রসিং, সংশ্লিষ্টদের কর্তব্যে অবহেলা ও লাইনে ত্রুটি-মূলত এই তিন কারণকে দায়ী করছেন কর্মকর্তারা

রাজন ভট্টাচার্য ॥ পণ্যবাহী-যাত্রীবাহী ট্রেন লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনা থেমে নেই। এতে প্রায়ই সাময়িকভাবে বন্ধ হচ্ছে দেশের গুরুত্বপূর্ণ রুটে রেল যোগাযোগ। বাড়ছে যাত্রী ভোগান্তি। কখনও ঝুঁকিপূর্ণ সেতু ভেঙ্গে নদীতে পড়ছে ট্রেন। আবার লাইনের দু’পাশে বাজারসহ অবৈধ স্থাপনার কারণেও দুর্ঘটনা বাড়ছে। লেভেল ক্রসিংগুলোতে দুর্ঘটনার চিত্র তো অনেক পুরনো। সব মিলিয়ে একের পর এক ট্রেন দুর্ঘটনায় নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়েছে দেশের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা। রেলওয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, অনুমোদনহীন লেভেল ক্রসিং, রেল সংশ্লিষ্টদের কর্তব্যে অবহেলা, লাইনে ত্রুটি-মূলত এই তিন কারণে দুর্ঘটনা হচ্ছে। তবে দুর্ঘটনার হার আগের চেয়ে অনেক কমেছে বলে দাবি তাদের।

ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট রুটে রেল দুর্ঘটনা সবচেয়ে বেশি। দেশে ছয় বছরে রেল দুর্ঘটনার সংখ্যা ছয় হাজারের কম নয়। অর্থাৎ বছরে প্রায় এক হাজার দুর্ঘটনা ঘটছে। চলতি বছরেই ঘটেছে ৬৪। পণ্য ও মালবাহী ট্রেন সবচেয়ে বেশি লাইনচ্যুত হচ্ছে। সারাদেশে অনুমোদনহীন লেভেল ক্রসিংয়ের সংখ্যা এক হাজার ১২৮। ঢাকা-টঙ্গী পর্যন্ত ১১ অবৈধ লেভেল ক্রসিং রয়েছে। বিভিন্ন কারণে দুর্ঘটনা ঘটলেও রেল কর্মকর্তাদের মাথাব্যথার কারণ লেবেল ক্রসিং। কারণ ক্রসিংয়ে দুর্ঘটনার কারণে জানমালের ক্ষয়ক্ষতি সবচেয়ে বেশি হয়। কর্মকর্তারা বলছেন, আন্তর্জাতিক মানদ-ে রেল লাইনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না গেলে দুর্ঘটনার লাগাম টেনে ধরা সম্ভব নয়। পাশাপাশি ট্রেনের গতিও বাড়ানো যাবে না। এজন্য একটি বিশেষ প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে রেল দুর্ঘটনা কমে আসবে বলে আশা কর্মকর্তাদের। এদিকে দুর্ঘটনা এড়াতে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ পাঁচটি লেভেল ক্রসিংয়ে ওভারপাস নির্মাণের সুপারিশ করা হলেও গত চার বছরেও তা বাস্তবায়ন হয়নি।

জানতে চাইলে রেলওয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মোঃ ফিরোজ সালাহ উদ্দিন বলেন, ছোট-বড় সকল রেল দুর্ঘটনার তদন্ত হয়। রেলওয়ের পাশাপাশি আরেকটি স্বাধীন তদন্ত সংস্থা জিআইবিআর-এর পক্ষ থেকেও দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ বের করতে তদন্ত হয়ে থাকে। তদন্তের সুপারিশ অনুযায়ী দায়ীদের বিরুদ্ধে নেয়া হয় কার্যকর ব্যবস্থা। তিনি বলেন, কারিগরি ত্রুটি, লুপ জনিত সমস্যাসহ কর্তব্যে অবহেলায়ও দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। দুর্ঘটনা রোধে প্রতিমাসে রেলওয়ের কর্তৃপক্ষ বৈঠক করে থাকে। তিনি বলেন, আগের চেয়ে ট্রেন দুর্ঘটনা অনেক কমেছে। তাছাড়া দুর্ঘটনারোধে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে রেল যোগাযোগ আরও নিরাপদ করা সম্ভব হবে বলে মনে করেন তিনি। অবৈধ লেভেল ক্রসিংয়ের কারণে ট্রেন দুর্ঘটনার যেমন বাড়ছে তেমনি নির্দিষ্ট গতিতে ট্রেন চলাচল ব্যাহত হওয়ার কথা জানান ভারপ্রাপ্ত সচিব।

থেমে নেই দুর্ঘটনা ॥ গত বুধবার খুলনার দৌলতপুরে একটি মালবাহী ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত হয়ে খুলনার সঙ্গে সারাদেশের ট্রেন যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনায় পড়া মালবাহী ট্রেনের সহকারী চালক হেদায়েত হোসেন বলেন, ‘এস বি কে টু ডাউন’ মালবাহী ট্রেনটি দৌলতপুর রেল স্টেশনের কাছে তিন নম্বর লাইন দিয়ে ঢোকার মুখে দুটি বগি লাইনচ্যুত হয়। চলতি বছরের ৬ এপ্রিল গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলায় চট্টগ্রামগামী মালবাহী একটি ট্রেনের দুটি বগি লাইনচ্যুত হয়।

আট আগস্ট কুমিল্লায় মালবাহী একটি ট্রেনের তিনটি বগি লাইনচ্যুতির ঘটনা ঘটে। এতে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢকা-সিলেট রুটে রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। ৫ জুন চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী একটি মালবাহী ট্রেন ফেনীর ফাজিলপুর পৌঁছলে ট্রেনের চারটি বগি লাইনচ্যুত হয়ে যায়। এতে চট্টগ্রামের সঙ্গে ঢাকা-সিলেট রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ২৫ জুলাই চাঁদপুর-চট্টগ্রাম ঈদ স্পেশাল-১ ট্রেনের দু’টি বগি লাইনচ্যুত হওয়ায় চাঁদপুর-লাকসাম ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকে। ১৭ ফেব্রুয়ারি যশোরে একটি মালবাহী ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত হওয়ায় খুলনার সঙ্গে অন্যান্য জেলার ট্রেন যোগাযোগ বন্ধ থাকে।

গত বছরের ১১ সেপ্টেম্বর কাওরানবাজারে রেল দুর্ঘটনায় ৬ জন নিহত হয়। এর পর পরই রাজধানীর ট্রেন লাইনের দু’পাশ থেকে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হলেও দুর্ঘটনার স্থানে আবারও জেঁকে বসেছে বস্তি। গত বছরের ২৮ ডিসেম্বর কমলাপুরে কাভার্ড ভ্যানের সঙ্গে ট্রেনের সংঘর্ষে নিহত হয় ৬ জন। একই বছরের এপ্রিলে কমলাপুরের টিটিপাড়া লেভেল ক্রসিংয়ে বলাকা পরিবহনের সঙ্গে ট্রেনের সংঘর্ষে চারজন নিহত হয়। চলতি বছরের ২২ জুন বোয়ালখালীর বেঙ্গুরায় রেলসেতু ভেঙ্গে তেলবাহী ওয়াগন নদীতে পড়ে যায়।

চট্টগ্রাম-দোহাজারী রুটে গত এক বছরেই তেলবাহী ট্রেন চারবার দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে। ফলে, খাল-নদীতে ছড়িয়েছে বিপুল পরিমাণ তেল। স্থানীয়দের অভিযোগ, রেল লাইন ও সেতু সংস্কারে অনিয়ম আর তদারকির অভাবে ঘন ঘন দুর্ঘটনার কবলে পড়ছে ট্রেন। দেশে প্রাচীন যে কটি রেললাইন আছে তার একটি চট্টগ্রাম-দোহাজারী রুট। একসময় দিনে ১২ জোড়া ট্রেন চললেও এখন চালু আছে মাত্র একজোড়া। পাশাপাশি এ রুটে প্রতিদিন চলে দোহাজারী পিকিং পাওয়ার প্ল্যান্টে তেল পরিবহন।

বার বার রেল দুর্ঘটনার প্রসঙ্গে জানতে চাইলে রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন) হাবিবুর রহমান জনকণ্ঠকে বলেন, মূলত তিন কারণে রেল দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। এরমধ্যে লেভেল ক্রসিংগুলোতে দুর্ঘটনার হার অনেক। এসব দুর্ঘটনায় মানুষের ক্ষয়ক্ষতি সবচেয়ে বেশি হওয়ার কথা জানান তিনি। দুর্ঘটনা মূলত সড়কে চলা বিভিন্ন পরিবহন চালকদের অসতর্কতার কারণে হয়ে থাকে। এছাড়াও পয়েন্ট সিগন্যাল লাইনে ত্রুটি ও উন্নয়ন কাজ চলা অবস্থায় ট্রেন লুপ লাইন কিংবা সাইড লাইনে গেলে অনেক সময় লাইনচ্যুতির ঘটনা ঘটে। তবে এর সংখ্যা খুবই কম। মূল লাইনে কিছু ত্রুটি দেখা দিলেও ট্রেন লাইনচ্যুত হতে পারে। তৃতীয় কারণের মধ্যে রয়েছে নিউম্যান ফেইলিওর। অর্থাৎ রেলওয়ের সিগন্যাল, গার্ডসহ নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিতদের অসতর্কতা কিংবা অবহেলার কারণেও রেল দুর্ঘটনা হচ্ছে।

এই কর্মকর্তার দাবি, ট্রেন দুর্ঘটনা আগের চেয়ে অনেক কমেছে।

ট্রেন দুর্ঘটনা রোধে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে কি ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে হাবিবুর রহমান বলেন, এই সমস্যা সমাধানে রেল মন্ত্রণালয় কাজ করে যাচ্ছে। সংবাদ মাধ্যমে সচেতনতামূলক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ, যেখানে যেখানে বড় দুর্ঘটনা হচ্ছে সেসব এলাকায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধির সহযোগিতায় মানুষকে সচেতন করা, সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানসমূহের লেভেল ক্রসিংগুলোতে ঝুঁকি এড়াতে তাদের পক্ষ থেকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সুপারিশ করা, এছাড়া একেবারেই দুর্ঘটনা কমিয়ে আনতে সরকারের কাছে নতুন একটি প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল। তা অনুমোদন হয়েছে। এই প্রকল্প চূড়ান্ত হয়ে বাস্তবায়নে আলোর মুখ দেখলে দুর্ঘটনা নিরসন হবে।

ছয় বছরে ছয় হাজারেরও বেশি রেল দুর্ঘটনা ॥ গত ছয় বছরে প্রায় ছয় হাজার রেল দুর্ঘটনা হয়েছে। তবে ২০০৯-১৪ সাল পর্যন্ত ৫ বছরে ১ হাজার ৯৩টি রেল দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব দুর্ঘটনায় আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১৬ কোটি ৫৫ লাখ ৪৮ হাজার ৮শ’ ৬৪ টাকা বলে সংসদে জানিয়েছেন রেলপথমন্ত্রী মুজিবুল হক। গত ১৮ নবেম্বর দশম জাতীয় সংসদের চতুর্থ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে চট্টগ্রাম-১১ আসনের সংসদ সদস্য এম আবদুল লতিফের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী সংসদকে এ তথ্য জানান। রেলপথমন্ত্রী জানান, সমগ্র দেশে রেলওয়েতে লাইনচ্যুতিসহ মেইন লাইন ও শাখা লাইনে ২০০৯-১০ সালে ৩০৮, ২০১০-১১ সালে ২২৪, ২০১১-১২ সালে ১৮২, ২০১২-১৩ সালে ১৭৬ এবং ২০১৩-১৪ সালে মোট ২০৩ দুর্ঘটনা ঘটে। এসব দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১৫২ এবং আহত হয়েছেন ৩৮৬ জন। এসব দুর্ঘটনায় আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১৬ কোটি ৫৫ লাখ ৪৮ হাজার ৮শ’ ৬৪ টাকা বলে জানান মন্ত্রী।

লেভেল ক্রসিংয়ের মান উন্নয়ন ॥ বাংলাদেশ রেলওয়ের ৪৪০ লেভেল ক্রসিংয়ের মানোন্নয়ন ও ৩৮৪ অবৈধ লেভেল ক্রসিং বৈধকরণের লক্ষ্যে ১৮৪ কোটি ৯৫ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি ডিপিপি পরিকল্পনা কশিমনে পাঠানো হয়েছে। সম্প্রতি পরিকল্পনা কমিশনের প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভায় একটি পাইলট প্রকল্প গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এ ব্যাপারে সমীক্ষা চলছে।

ঢাকা-টঙ্গীর চিত্র ॥ যানবাহন চলাচলের দিক বিবেচনা করে গুরুত্বপূর্ণ লেভেলক্রসিংগুলোর মধ্যে রয়েছে ঢাকা-গাজীপুর। কিন্তু বাস্তবতা হলো, এই স্থানে বেশকিছু অনুমোদনহীন ক্রসিং রয়েছে। কমলাপুর থেকে টঙ্গী পর্যন্ত ৩৫ লেভেল ক্রসিং (রেলওয়ে গেট) রয়েছে। এর মধ্যে ২৪ অনুমোদিত এবং ১১ অননুমোদিত। এ সকল রেলওয়ে লেভেল ক্রসিং গেটে ওভারপাস বা আন্ডার পাস না থাকায় পূর্ণগতিতে ট্রেন চলাচল বিঘিœত হচ্ছে। ফলে ট্রেনের যাত্রার সময় বেড়ে যাচ্ছে ও অপারেশন ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে।

সূত্র জানায়, ট্রেনগুলো যাত্রার সময় লেভেল ক্রসিংগুলো বন্ধ থাকলেও যানবাহনগুলো তাড়াহুড়ো করে লেভেল ক্রসিং অতিক্রম এবং রং সাইড দিয়ে রেল লাইন পার হওয়ার কারণে দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, বিভিন্ন সময়ে রেল দুর্ঘটনার পর ঢাকা মহানগরীতে যে রেলওয়ে লেভেল ক্রসিং গেটে ওভারপাস নির্মাণ করা প্রয়োজন সেগুলো চিহ্নিত করতে একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি পাঁচটি লেভেল ক্রসিং গেটে ওভারপাস নির্মাণের সুপারিশ করে। এগুলো হলো ই/২২, স্টাফ রোড, ই/২৩ প্রগতি সরণি, ই/১৬ মগবাজার, ই/১৬ এফডিসি এবং ই/১৩ মালিবাগ।

সারাদেশে অনুমোদনহীন ক্রসিং ॥ শুধু রাজধানী ঢাকাতেই নয়, দেশের বিভিন্ন স্থানে অনুমোদনহীন লেভেল ক্রসিংয়ের অভাব নেই। রেল সূত্র জানায়, বর্তমানে রেলওয়ে নেটওয়ার্কে মোট এক হাজার ৪১৩ অনুমোদিত এবং এক হাজার ১২৮ অননুমোদিত রেলওয়ে লেভেল ক্রসিং গেট রয়েছে। অনুমোদিত এক হাজার ৪০৩ গেটের মধ্যে ৩৭১ ম্যান্ড এবং এক হাজার ৪২ আনম্যান্ড। এ সকল অননুমোদিত এবং আনম্যান্ড লেভেল ক্রসিং গেটের কারণে দুর্ঘটনার হার বৃদ্ধি পাচ্ছে। অননুমোদিত লেভেল ক্রসিং ও বিভিন্ন সংস্থা কর্তৃক নির্মাণ করা যেমন এলজিইডি ৪৭০, সড়ক ও জনপথ ১২, ইউনিয়ন পরিষদ ৫০৫, পৌরসভা ৮৪, সিটি কর্পোরেশন ৩৬, চট্টগ্রাম পোর্ট ৩, বেনাপোল স্থলবন্দর একটি এবং প্রাইভেট ১৭টি লেভেল ক্রসিং রয়েছে।

দুই রুটে দুর্ঘটনা বেশি ॥ ঢাকা-চট্টগ্রাম ও সিলেট-চট্টগ্রাম প্রধান রুটে মাত্র ৫০০ কিলোমিটার রেলপথে দুর্ঘটনার হার বেশি। এক পরিসংখ্যানে জানা যায়, গত আড়াই বছরে ৩৫ যাত্রীবাহী, ১১৫ মালবাহী ট্রেনসহ ১৫০টির অধিক ছোট-বড় ট্রেন দুর্ঘটনা ঘটেছে। বাংলাদেশে ট্রেন দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করে অকার্যকর সিগন্যাল ব্যবস্থা, লেভেল ক্রসিংয়ের অব্যবস্থা এবং চালকের সিগন্যাল অমান্যকে দায়ী করা হয়। এছাড়া দায়িত্বহীন গেটম্যান লেভেল ক্রসিংয়ের গেট বন্ধ না করার কারণে রাস্তায় চলাচলকারী যানবাহনের সঙ্গে ট্রেনের সংঘর্ষ হয়। এসব ট্রেন দুর্ঘটনায় অনেক যাত্রী হতাহত হয়। অনেকে পঙ্গুত্ব বরণ করেন।

রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলের ৩২৬ রেলক্রসিংয়ে কোন গেটকিপার ও সিগন্যালিং ব্যবস্থা নেই। এসব রেলক্রসিং অবৈধ ও অনুমোদন ছাড়াই চলছে। ফলে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। বাংলাদেশ রেলওয়ে সূত্র জানায়, রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলের ১ হাজার ২৪৯ লেভেল ক্রসিং গেটের মধ্যে ৩২৬ ক্রসিংয়ে কোন গেটকিপার নেই, এমনকি সিগন্যালিং ব্যবস্থাও নেই। সূত্র বলছে, অনুমোদনহীন রেলক্রসিং চিহ্নিত করে একটি প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে রেলওয়ে। ২০১৭ সালের জুন নাগাদ প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হবে। এর আওতায় গেটকিপার নিয়োগসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

নির্বাচিত সংবাদ