২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

পানি ব্যবস্থাপনায় পাঁচ জেলায় প্রকল্প হচ্ছে ॥ সহায়তা দেবে এডিবি ও নেদারল্যান

হামিদ-উজ-জামান মামুন ॥ দক্ষিণাঞ্চলের পানি ব্যবস্থাপনায় সহায়তা দিচ্ছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও নেদারল্যান্ডস। এজন্য দ্বিতীয় পর্যায়ে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় সমন্বিত পানি সম্পদ পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনা শীর্ষক একটি প্রকল্প হাতে নিচ্ছে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়। এটি বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৮২ কোটি ১০ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ৭৮ কোটি ৫৮ লাখ ১৩ হাজার এবং এডিবির ঋণ ও নেদারল্যান্ডসের অনুদান থেকে ৪০৩ কোটি ৫১ লাখ ৬৭ হাজার টাকা ব্যয় করা হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে অবকাঠামো পুনর্বাসন, পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমে সুবিধাভোগীদের অংশগ্রহণ ও উন্নত সেবা বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে জনগণের জীবনমান উন্নয়ন এবং সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে পরিকল্পনা কমিশনের কৃষি, পানিসম্পদ ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভাগের সদস্য এ এন সামসুদ্দিন আজাদ চৌধুরী পরিকল্পনা কমিশনের মতামত দিতে গিয়ে এক সার সংক্ষেপে বলেছেন, প্রকল্পটি চলতি অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচীতে (এডিপি) বৈদেশিক সহায়তা প্রাপ্তির সুবিধার্থে বরাদ্দ ছাড়া প্রতিফলিত প্রকল্প তালিকায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ইতোমধ্যেই প্রকল্পটি বাস্তবায়নে এডিবির সঙ্গে সরকারের নেগোশিয়েসন সম্পন্ন হয়েছে। তাই প্রস্তাবিত প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) আগামী সভায় অনুমোদন পেলে প্রকল্পটি পাঁচ জেলার ১৫ উপজেলায় ১১ উপ-প্রকল্পের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হবে। যেসব উপজেলায় বাস্তবায়িত হবে সেগুলো হচ্ছে ফরিদপুর জেলার ফরিদপুর সদর, নগরকান্দা, আলফাডাঙ্গা, বোয়ালমারী, সদরপুর, মধুখালী ও ভাঙ্গা। রাজবাড়ী জেলার রাজজবাড়ী সদর, বালিয়াকান্দি ও কালুখালী উপজেলা। গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানী উপজেলা। যশোর জেলার ঝিকরগাছা, চৌগাছা ও শার্শা উপজেলা। উপ-প্রকল্পগুলো হচ্ছে, বিল শুকুনিয়া, কান্দর বিল, দাদুরিয়া বিল, আলফাডাঙ্গা-বোয়ালমারী, চাটলার-ফাকুরহাট, হরাই নদী, পারুলিয়া চর ভাট পাড়া, কালিদাস খালী-আড়পাড়া, বামন খালী-বর্ণালী, আড়ল বিল এবং সোনামুখী বনমান্দার।

পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ১৯৮৮ সালের বন্যা পরবর্তীতে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জন্য ফ্যাপ-৪ আঞ্চলিক সমীক্ষা প্রতিবেদনের সুপারিশসমূহ যেমন প্রকল্প সুবিধাভোগীদের সংগঠিত করে ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট গ্রুপ এবং ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট এ্যাসোসিয়েশন গঠন, সংগঠনসমূহকে প্রকল্প পরিচালনা ও বাস্তবায়নের সঙ্গে সম্পৃক্তকরণ, বাস্তবায়ন পরবর্তী প্রকল্প পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বভার পানি ব্যবস্থাপনা কমিটির কাছে হস্তান্তর প্রক্রিয়া বিবেচনা করে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) কারিগরি সহায়তায় ১৯৯৩ সালে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় সমন্বিত পানিসম্পদ পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্পটি সম্পন্ন করা হয়। ফ্যাপ-৪ এর সমীক্ষার সুপারিশের আলোকে সমন্বিত পানি পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের অধীন নড়াইল উপ-প্রকল্প ও চেঞ্চুরি বিল উপ-প্রকল্প দুটির বাস্তবায়ন ২০০৬ সালে শুরু করা হয়, যা ২০১৫ সালের ৩০ জুন সফলভাবে সমাপ্ত হয়েছে।

সূত্র জানায়, প্রকল্প কার্যক্রম গ্রহণের ফলে প্রকল্প এলাকায় কৃষি ও মৎস্যখাতে উৎপাদনের চিত্র এবং সুবিধাভোগীদের জীবনমান উন্নয়নসহ সার্বিক বিষয়ে মূল্যায়নের লক্ষ্যে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অনুরোধের প্রেক্ষিতে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) দুই দফায় বাস্তবায়নকালীন মধ্যবর্তী ও শেষ পর্যায়ের মূল্যায়ন সম্পন্ন করে প্রতিবেদন দাখিল করে। প্রকল্পটির কনসেপ্ট সুবিধাভোগীদের কাছে গ্রহণযোগ্য হওয়ায় এডিবি সমাপ্তকৃত প্রকল্পটির পূর্ণ অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে একই আদলে দক্ষিণ-পঞ্চিমাঞ্চলের ফরিদপুর, রাজবাড়ী, মাগুরা ও গোপালগঞ্জ জেলায় আরও নয়টি উপ-প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ৪ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলারের ঋণ সহায়তা প্রদানে কর্মসূচী গ্রহণ করে। পরবর্তীতে নেদারল্যান্ডস সরকার প্রকল্প বাস্তবায়নে সহযোগী সংস্থা হিসেবে ৭০ লাখ মার্কিন ডলার অনুদান দিতে সম্মতি প্রদান করে। এডিবির প্রণীত চলতি বছরের ২৫ মার্চ থেকে ৬ এপ্রিলে এইড মেমোরিতে বর্ণিত কর্মপরিকল্পনা অনুসারে প্রস্তাবিত প্রকল্পটি দ্বিতীয় পর্যায়ে গ্রহণের জন্য উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পটি ২০২২ সালের জুন মাসের মধ্যে বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড।

প্রকল্পের আওতায় প্রধান কার্যক্রম হচ্ছে ২ দশমিক ৭৫ হেক্টর ভূমি অধিগ্রহণ, ৪৩ রেগুলেটর পুনর্বাসন, পাঁচটি রেগুলেটর নির্মাণ, ৭১ ইনলেট/আউট লেট পুনর্বাসন ও ২২টি নির্মাণ, ৮ চেক ও অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণ, ১৩ ব্রিজ/কালভার্ট নির্মাণ, ৭২ দশমিক ৮ কিলোমিটার বাঁধ মেরামত ও ৫ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণ, ৩৪৪ দশমিক ৪৫ কিলোমিটার খাল পুনর্খনন, দেড় কিলোমিটার রিভার ব্যাংক প্রটেকশন, ২০ কিলোমিটার রাস্তা পাকাকরণ এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।