২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বন্দুকযুদ্ধে গাজীপুরে বাড্ডার সাইদুর নিহত

নিজস্ব সংবাদদাতা, গাজীপুর, ২১ আগস্ট ॥ গাজীপুরে ডিবি পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ রাজধানী ঢাকার বাড্ডা এলাকার প্রাক্তন যুবলীগ নেতা দুর্ধর্ষ কিলার নিহত হয়েছে। নিহতের নাম সাইদুর রহমান ওরফে কিলার সাইদুর ওরফে বাড্ডা সাইদুর (৩৫)। সে রাজধানী ঢাকার দক্ষিণ বাড্ডার শিমুলতলা এলাকার মৃত মোঃ জইমত আলীর ছেলে এবং ঢাকার বাড্ডা ৯৭নং ওয়ার্ডের শিমুলতলা ইউনিট যুবলীগের প্রাক্তন সভাপতি। বন্দুকযুদ্ধের ঘটনায় ডিবি পুলিশের দু’কন্সটেবলও আহত হয়েছে।

গাজীপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি আমির হোসেন জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১১টা ২০ মিনিটের দিকে তিন হত্যা মামলার আসামি সাইদুর রহমান ওরফে কিলার সাইদুর ওরফে বাড্ডা সাইদুরকে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের দক্ষিণ সালনা এলাকা হতে গাজীপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশ গ্রেফতার করে। সে বাড্ডা থানার তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী। পরে তার বক্তব্য অনুযায়ী দক্ষিণ সালনা এলাকার সামাদের পরিত্যক্ত পোল্ট্রি খামার থেকে একটি বিদেশী পিস্তল ও ২ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। এ সময় জিজ্ঞাসাবাদে তার দেয়া তথ্য অনুযায়ী আরও অস্ত্র উদ্ধারের জন্য সাইদুরকে নিয়ে মধ্যরাতে অভিযানে বের হয় গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল। পুলিশের দলটি দক্ষিণ সালনা এলাকার জনৈক হাতেম আলীর বাড়ির পাশের একটি জঙ্গলের কাছে পৌঁছলে সেখানে ওঁত পেতে থাকা সাইদুরের সহযোগীরা তাকে ছিনিয়ে নেয়ার জন্য পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি করে। এ সময় পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। দু’পক্ষের গুলি বিনিময়কালে সন্ত্রাসীদের গুলিতে সাইদুর দু’পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়। বন্দুকযুদ্ধে দুই ডিবি পুলিশের দু’কন্সটেবল ইয়াসিন (৩০) ও উজ্জল (৩১) আহত হয়েছে। গুলিবিনিময়ের এক পর্যায়ে অন্য সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আহতদের উদ্ধার করে শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাইদুর মারা যায়। নিহত সাইদুরের বিরুদ্ধে এ্যাডভোকেট সোহেল হত্যা এবং মানিক নামের এক যুবকের হাত কেটে নেয়ার ঘটনাসহ গাজীপুরে দু’টি মামলা রয়েছে। এছাড়াও দু’টি হত্যাসহ বাড্ডা থানায় তার বিরুদ্ধে ৫টি মামলা রয়েছে। সাইদুরের বিরুদ্ধে বাড্ডার আলোচিত ‘ট্রিপল মার্ডারের’ ঘটনায় স্থানীয়দের সন্দেহভাজন হিসেবে ইতোমধ্যে সংবাদ মাধ্যমে তার নামও এসেছিল। তবে ওই ঘটনায় মামলার তদন্ত করছে ঢাকা ডিবি পুলিশ।

তবে এ ব্যাপারে নিহত সাইদুরের বড় ভাই মোঃ মিজানুর রহমান ও খালাতো ভাই সাজেদুর রহমান জানান, বুধবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকার বাড্ডার বাসা থেকে বন্ধু মোঃ শাহজাহান (৩০) ও রানাকে (১৫) সঙ্গে নিয়ে মোটরসাইকেলযোগে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার রাজাবাড়ি এলাকায় তার পোল্ট্রি খামারে যাওয়ার উদ্দেশে রওনা হয় সাইদুর। পথে বিকেলে তারা গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের দক্ষিণ সালনা এলাকায় পৌঁছলে মোটরসাইকেলটিতে যান্ত্রিক সমস্যা দেখা দেয়। তারা মোটরসাইকেলটিকে স্থানীয় একটি ওয়ার্কশপে সারাই করতে নেয়। এ সময় ডিবি পুলিশ সন্দেহজনকভাবে তাদের আটক করে। পরে ২৫ হাজার টাকার বিনিময়ে আটক রানা ও শাহজাহানকে ঘটনাস্থল থেকেই ছেড়ে দিলেও সাইদুরকে ছাড়েনি পুলিশ। পুলিশ সাইদুরের কাছে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করে। ঘটনাটি তার ছোটভাই হাবিবুর রহমানকে জানালে সে ঢাকা থেকে গাজীপুরে যায়। পরে ডিবির এক এসআইয়ের গাড়ির ড্রাইভারও সাইদুরকে ছাড়িতে নিতে টাকা নিয়ে এসআইর সঙ্গে এসপি অফিসের উত্তরে একটি চায়নিজ হোটেলে দেখা করতে বলে। পরে কথামতো রাতে হাবিবুর সেখানে গিয়ে ওই এসআইয়ের সঙ্গে ৫২ হাজার টাকায় সাইদুরকে শুক্রবার সকালে ছেড়ে দেয়ার আপোস রফা করেন। পরে শুক্রবার ভোরে খবর পান তার ভাই পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছে। তার লাশ গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে রয়েছে। পরে তারা গিয়ে সাইদুরের লাশ শনাক্ত করেন। সাইদুর বাড্ডা এলাকার আওয়ামী লীগ নেতা বললেও তার পদ পদবী বলতে পারেননি তার ভাই। তাদের বাড়ি আগে ঢাকার বনানী এলাকায় ছিল। পরে তারা বাড্ডা এলাকায় বাড়ি করে সপরিবারে বসবাস করছেন। তার পিতার নাম জৈমত উল্লাহ। বাড্ডা এলাকায় তার একটি মুদি ও লন্ড্রির দোকান রয়েছে। গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায় একটি পোল্ট্রিফার্ম ছাড়াও তাদের জমি-জমা রয়েছে।

তবে ওসি আমির টাকা নেয়ার কথা অস্বীকার করে বলেন, এখন তারা পুলিশের বিরুদ্ধে কত কথাই বলবে।

বাড্ডা থানার ওসি এম এ জলিল জানান, সাইদুর বাড্ডা থানার তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী।

গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক আব্দুস সালাম সরকার জানান, হাসপাতালে আনার পর প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়ার সময় (প্রায় ১৫ মিনিট পর) সাইদুরের মৃত্যু হয়। তার দুই পায়ের উরুতে জখমের চিহ্ন রয়েছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তার মৃত্যু হয়। এছাড়া আহত দুই পুলিশ সদস্যকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।