২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বাড়িতে ফিরেছে সুরাইয়া, খুশির বন্যা

নিজস্ব সংবাদদাতা, মাগুরা, ২১ আগস্ট ॥ মাগুরা শহরের দোয়ারপাড় এলাকায় ছাত্রলীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষকালে মাতৃগর্ভে নবজাতক ও মা নাজমা বেগম গুলিবিদ্ধের ঘটনার পর মা নাজমা বেগম ও সন্তান সুরাইয়া সুস্থ হয়ে ঢাকা থেকে বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে মাগুরায় বাড়িতে ফেরেন। এই সময় এক আনন্দঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। চারদিকে খুশির বন্যা বইতে থাকে। শত শত মানুষ ভিড় করেন। এ সময় মাগুরা জেলা প্রশাসক মুহাঃ মাহবুবর রহমান, পুলিশ সুপার একেএম এহসান উল্লাহসহ জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তরা, চিকিৎসক, সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

গৃহবধূ নাজমা বেগম তার স্বামী বাচ্চু ভুঁইয়া শিশুকন্যা সুরাইয়াকে নিয়ে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের সরকারী এ্যাম্বুলেন্সযোগে ঢাকা থেকে রাত ১১টার দিকে মাগুরা শহরের দেয়ারপাড় বাড়িতে পৌঁছান। এ্যাম্বুলেন্সের শব্দ শুনে বহু মানুষ ভিড় করেন। বাড়িতে ফিরে নাজমা বেগম শিশু সুরাইয়াকে তার দাদি দুলারী বেগমের কোলে দেন। দাদি তাকে আদর করেন। এ সময় জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তা, চিকিৎসক, সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। নাজমা বেগম বাড়িতে ফিরে সাংবাদিকদের বলেন, আল্লাহর অশেষ রহমতে সন্তানসহ সুস্থ অবস্থায় বাড়ি ফিরেছি। এজন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, স্বাস্থ্যমন্ত্রীসহ চিকিৎসক, সাংবাদিকসহ যারা সহযোগিতা করছেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। ঘটনাস্থলে উপস্থিত পৌর আওয়ামী লীগের সম্পাদক বাকি ইমাম বলেন, এই ধরনের অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা যাতে না ঘটে সেজন্য সকলকে সর্তর্ক থাকতে হবে।

জেলা প্রশাসক মুহাঃ মাহবুবর রহমান বলেন, মা ও মেয়ে সুস্থ হয়ে বাড়িতে ফিরেছে। তারা যাতে ভাল থাকে এজন্য সকলের দায়িত্ব রয়েছে। পুলিশ সুপার একে এম এহসান উল্লাহ বলেন, পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের নিরাপত্তার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২৩ জুলাই ২০১৫ মাগুরা শহরের দোয়ারপাড় এলাকায় ছাত্রলীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষকালে মাতৃগর্ভে নবজাতক ও মা নাজমা বেগম গুলিবিদ্ধ এবং আব্দুল মোমিন নামে একজন নিহতের ঘটনায় আব্দুল মোমিনের ছেলে রুবেল মিয়া বাদী হয়ে ১৬ জনকে আসামি করে মাগুরা থানায় মামলা দায়ের করেন। পুলিশ ৯ জনকে গ্রেফতার করেছে। ৩নং আসামি মেহেদী হাসান আজিবর পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে। অন্যরা পলাতক রয়েছে।