২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

স্থবির সিলেট নগরীর উন্নয়ন কাজ

  • মেয়রবিহীন সিলেট সিটি কর্পোরেশন ;###;জনগণ জানে না বাজেটের খবর

স্টাফ রিপোর্টার সিলেট অফিস ॥ মেয়রবিহীন সিলেট সিটি কর্পোরেশন। আইনী জটিলতায় ভারপ্রাপ্ত মেয়র হিসেবেও দায়িত্ব নিতে পারছেন না কেউ। প্রায় ৮ মাস যাবত নানান বিড়ম্ববনার মধ্য দিয়ে চলছে সিটি কর্পোরেশনের কার্যক্রম। নগরীর উন্নয়ন কাজ স্থবির হয়ে আছে। বেদখল হয়ে আছে সবগুলো ফুটপাথ। সংস্কারবিহীন অধিকাংশ রাস্তাঘাট বেহাল আকার ধারণ করেছে। নগরীর প্রধান সড়ক পোস্ট অফিসের সম্মুখ থেকে কীন ব্রিজের মুখ পর্যন্ত রিক্সা চলাচলের জন্য ডিভাইডার স্থাপন করা হলেও বাস্তবে সেটা যানবাহন ও পথচারীদের ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভুক্তভোগীরা বলছেন ছোট্ট পরিসরের রাস্তায় ডিভাইডার স্থাপন করে অর্থের অপচয় করা হয়েছে। সুষ্ঠুভাবে চলাচলের স্বার্থে এগুলো অপসারণের দাবি উঠেছে। এ অবস্থায় অনেকটা গোপনেই সিলেট সিটি কর্পোরেশনের চলতি অর্থবছরের বাজেট প্রণয়নও হয়ে গেছে। সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলররা যেমন চূড়ান্ত বাজেট তৈরির খবর জানেন না তেমনি সচেতন নাগরিকরাও সুচিন্তিত মতামত দেয়ার সুযোগ পাননি বাজেট আলোচনায়। প্রতিবছর মেয়র ও কাউন্সিলর পরিষদের পক্ষ থেকে নাগরিকদের উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে বাজেট পেশ করা হতো এবং এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সকলের মতামত গ্রহণ করা হতো। বাজেট অনুষ্ঠানেই রাস্তাঘাটসহ নগরীর উন্নয়ন সম্পর্কে একটা চিত্র পাওয়া যেতো। কিন্তু চলতি বছর অর্থ ও সংস্থাপন কমিটি কর্তৃক বাজেট প্রণয়নের পর তা আর কর্পোরেশনের অনুমোদন নেয়া হয়নি। অনেক কাউন্সিলর বাজেট হয়েছে কি-না, তাও জানেন না বলে জানিয়েছেন। মেয়রের অনুপস্থিতিতে মাসিক সভা হচ্ছে না বলে নিয়ম অনুযায়ী আনুষ্ঠানিকভাবে বাজেট অনুমোদন করা হয়নি। শুধু নিয়ম রক্ষার জন্য বাজেট প্রণয়নের পর তা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে দেয়া হয় বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

সাবেক অর্থমন্ত্রী কিবরিয়া হত্যা মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি হয়ে মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী কারাগারে যাওয়ার পর আর কোন মাসিক সাধারণ সভাই হয়নি।

গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর আদালতে আত্মসমর্পণের পর আরিফকে মেয়র পদ থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়। মেয়রের অনুপস্থিতিতে একজন প্যানেল মেয়রের ভারপ্রাপ্ত মেয়রের দায়িত্ব পালনের নিয়ম রয়েছে। এক্ষেত্রে মন্ত্রণালয় থেকে ৪ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর রেজাউল হাসান লোদী কয়েসকে দায়িত্ব নিতে বলা হয়। কিন্তু অন্য কাউন্সিলরদের বাধায় তিনিও দায়িত্ব নিতে পারেননি। আরেক প্যানেল মেয়র ও ১০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর এ্যাডভোকেট সালেহ আহমদ চৌধুরীর সঙ্গে তার আইনী লড়াইয়ের জন্য তিনিও দায়িত্ব নিতে পারছেন না। এ অবস্থায় মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে সিসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এনামুল হাবীব কর্পোরেশনের প্রশাসনিক ও আর্থিক দায়িত্ব পালন করছেন। চলতি বছরের বাজেট প্রণয়নের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, কর্পোরেশনের অর্থ ও সংস্থাপন কমিটি বাজেট তৈরি করে দিয়েছে এবং তাদের অনুমোদন নিয়েই চলতি অর্থবছরের বাজেট নিয়মমত মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। নগরবাসীর অবগতির জন্য বাজেট উপস্থাপন প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সাধারণত মেয়র সাহেবরা জাকজমকভাবে প্রতিবছর বাজেট উপস্থাপন করে থাকেন। অনেক ক্ষেত্রে প্রাক-বাজেট আলোচনাও হয়ে থাকে। কিন্তু আমাদের এখানে মেয়র নেই, ভারপ্রাপ্ত মেয়র নিয়েও জটিলতা রয়েছে। তাই কর্পোরেশনের সংশ্লিষ্ট কমিটি বাজেট তৈরি ও অনুমোদন করে দেয়ার পর তা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে দেয়া হয়। কি রয়েছে বাজেটে? কোথায় কি উন্নয়ন হবে? বাজেট নিয়ে সচেতন মহলে এমন প্রশ্ন উচ্চারিত হচ্ছে।

জানা যায়, চলতি অর্থবছরের জন্য ৩শ’ ১৯ কোটি ৮৪ লাখ টাকার বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে যাতে যথারীতি আয়-ব্যয় সমান ধরা হয়েছে। বাজেটে রাজস্ব আয় ধরা হয়েছে ৭৬ কোটি ২৮ লাখ ৫ হাজার এবং রাজস্ব ব্যয় ৩৯ কোটি ৬২ লাখ ৫০ হাজার টাকা।