২২ আগস্ট ২০১৫

দুর্ঘটনা রুখতে নিজেদের উদ্যোগে ক্রসিংবার

মামুন-অর-রশিদ, রাজশাহী ॥ রাজশাহী নগরীর ভেতর দিয়ে সমান্তরাল রেখায় বয়ে যাওয়া রেলপথের বেশিরভাগ লেভেল ক্রসিং অরক্ষিত। এ সব ক্রসিংয়ে একটু অসাবধানতা হলেই ঘটতে পারে দুর্ঘটনা। এর মধ্যে জনবহুল নগরীর কাদিরগঞ্জ গ্রেটার রোড মসজিদের বিপরীত পাশে রেলক্রসিং সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ।

অনেক দেনদরবার করেও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ও সিটি কর্পোরেশন কোন উদ্যোগ নেয়নি। গত বছরের এপ্রিল মাসে ট্রেনের ধাক্কায় ওই এ রেলক্রসিংএ মারা যান সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার রাজশাহীতে কর্মরত মোজাফফর হোসেন। এ ছাড়াও কোন ক্রসিংবার না থাকার কারণে প্রায় সেখানে ঘটে ছোট-বড় দুর্ঘটনা।

এলাকাবাসী দীর্ঘদিন রেল অথবা সিটি কর্পোরেশনের কাছে অভিযোগ দিয়ে এসেছে। কোন লাভ হয়নি। তাই আশপাশের লোকজন নিজ উদ্যোগে তৈরি করেছেন ক্রসিংবার। ট্রেন আসার সময় সেখানে উপস্থিত লোকজন নিজ দায়িত্বেই হাতল নামিয়ে সাধারণ মানুষকে সতর্ক করেন।

স্থানীয়রা জানান, কর্তৃপক্ষের কাছে অনেকবার অভিযোগ দেয়া হয়েছে। কিন্তু কোন কাজ হয়নি। অবশেষে নিজেদের অর্থায়নে ক্রসিংবার তৈরি করেন। সম্প্রতি লোহার এ ক্রসিংবারটি নির্মাণ করেন। রেলক্রসিং-এর পূর্বপাশে ওয়েল্ডিং-এর দোকানদার সূর্য নামে এক ওয়েল্ডিং মিস্ত্রি এ ক্রসিংবারটি নির্মাণ করেন। এরপর থেকে ওই রেলক্রসিংএ কোন ধরনের দুর্ঘটনা ঘটেনি।

ওয়েল্ডিং মিস্ত্রি সূর্য জানান, গত বছর এ রেলক্রসিং-এ দুর্ঘটনায় পড়ে সামরিক বাহিনীর রাজশাহীতে কর্মরত মোজাফফর হোসেন চোখের সামনে মারা যান। এ ঘটনাটি মনকে অনেক নাড়া দেয়। তখন থেকে সিদ্ধান্ত নেয়া হয় যে কর্তৃপক্ষ উদ্যোগ না নিলেও তিনি নিজেই এটি বানাবেন। এরপরেই তিনি কাজ শুরু করেন। সম্প্রতি ক্রসিংবারটি নির্মাণ করা হয়। ক্রসিংবারটি রেললাইনের উত্তর পাশে বসানো হয়েছে। খুব শীঘ্রই দক্ষিণ পাশে আরও একটি ক্রসিংবার বসানো হবে নিজেদের উদ্যোগেই।

সূর্য জানান, আশপাশের মুদিখানাসহ কয়েকটি দোকান আছে। সকাল-বিকেল সারাদিন যখন ট্রেন যায় তখন তাদের যে কেউ একজন নিজ উদ্যোগে ক্রসিংবারটি নামিয়ে দেয়। রাতে সেখানে একজন নৈশ প্রহরী থাকেন। ওই নৈশ প্রহরী নিজ দায়িত্বেই ট্রেন এলেই ক্রসিংবার নামায়। ওই এলাকার ঠিকাদার আইনাল (৪০) জানান, সবার সহযোগিতায় ক্রসিংবারটি নির্মাণ করা হয়েছে। ট্রেন যখন আসে তখন যেই জানতে পারে সেই পারাপার হওয়া মানুষকে সতর্ক করতে ক্রসিংবার নামায়।

রেলক্রসিং-এর পাশে ওয়েল্ডিং দোকানদার বদি, চা বিক্রেতা কটা, সুইট পান স্টোরের মালিক সুইট জানান, অরক্ষিত রেলক্রসিং-এ কারণে চোখের সামনে ঘটে যায় দুর্ঘটনা। এ থেকে সমাধানের জন্য ক্রসিংবারটি নির্মাণ করা হয়েছে। এর সুফল এখন পাওয়া যাচ্ছে। সাধারণ পথচারীরা এখন আর কোন দুর্ঘটনায় পড়েন না।