১৮ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

গৃহবধূ থেকে রাজনীতিবিদ

ভেবেছিলেন ঘরসংসার সামলানোর কাজ করেই গৃহবধূ হিসেবে পাড়ি দেবেন জীবন। বিয়ের পর এমনটাই মনে হয়েছিল। তবে প্রবল ইচ্ছেশক্তি আর পরিবারের অনুপ্রেরণায় সংসারের গ-ি ছাড়িয়ে জীবন বদলে ফেলেন তিনি। শুধু নিজের জীবন নয়, ভাগ্য বদলে অনুপ্রাণিত করেছেন অন্যদেরও। তার পথ ধরে অনেকে এখন স্বাবলম্বী। মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে নারীর উন্নয়নে এগিয়ে এসে সফল হয়েছেন তিনি। পেয়েছেন জনপ্রতিনিধিত্ব করার স্বাদও। এখনও সংসার সামলাচ্ছেন আর এগোচ্ছেন সামনের দিকে। তার স্বপ্ন, নারী শুধু সংসারের গ-িতেই সীমাবদ্ধ নয়, জীবন পাল্টে উন্নয়নের যাত্রায় যাতে পা ফেলতেও পারে, সে লক্ষ্যে কাজ করা। নারী হয়েও সামনে এগিয়ে যাওয়ার এ গল্পটি ফাতেমা খাতুন লতার। সবাই তাকে ‘লতাআপা’ বলেই জানে। ‘লতাআপা’ রাজশাহীর বাঘা উপজেলার নারায়নপুর গ্রামের বাসিন্দা। স্বামীর নাম মাসুদ রানা তিলু। সংসারের গ-ি পেরিয়ে নারীর উন্নয়নের পাশাপাশি গড়ে তুলেছেন ‘আশার আলো দুস্থ মহিলা সমিতি’ নামের সংগঠন। এ সংগঠনের মাধ্যমে গত ১৫ বছরে স্বাবলম্বী হয়েছেন অনেক নারী। এখন তার সমিতিতে কাজ করেন শতাধিক নারী। এসব নারী নিজেদের ঘরসংসার সামলে আলো দেখাচ্ছেন পরিবারে। অনেকে নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে এগোচ্ছেন সামনের দিকে।

লতার বিয়ে হয় ১৯৮৯ সালে। তখন বয়স ছিল ১৫ বছর ৬ মাস। স্বামী মাসুদ রানা তিলু। উপজেলায় আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। তাদের ঘরে দুটি পুত্রসন্তান। বড় ছেলে বিবিএ ও ছোটটি ক্লাস সেভেনে পড়ছে। সন্তানদের পড়ালেখা ও ঘরসংসার সামলানোর প্রাথমিক গ-ি পেরিয়ে জনপ্রতিনিধি হিসেবেও সুখ্যাতি তার। ২০০৯ সালে জেলার বাঘা উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন। রাজনীতিতেও সমান অগ্রসর হয়ে দায়িত্ব পালন করেছেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) পদেও। স্থানীয় রাজনীতিতে সুনাম অর্জন করেছেন তিনি। লতা জানান, যখন তার বিয়ে হয় তখন সবেমাত্র এসএসসি পাস করেছেন। তবে বিয়ের পর বসে থাকেননি। স্বামী-সংসার সামলানোর পাশাপাশি নিজেও পড়ালেখা করেছেন। অনেক বাধাবিপত্তি থাকলেও সেগুলোকে পেছনে ফেলে অর্জন করেছেন এলএলবি।

Ñমামুন-অর-রশিদ, রাজশাহী থেকে