২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বিউটির বক্তব্য মানুষ শোনে অবাক হয়ে

সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারের গৃহিণী দীর্ঘসময় ঘরকন্না করার পর অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হয়ে পরিবারকে হতবাক করেছেন। তিনি পার্বতীপুর শহরের মর্জিনা বেগম বিউটি। দিনাজপুরের বিরামপুর শহরের মেয়ে বিউটির ১৯৮৮ সালে এইচএসসি পাসের পর পার্বতীপুর শহরে বিয়ে হয়। বিউটি দুই সন্তানের মা। স্বামী আমজাদ হোসেন রাজনীতি ও ক্লাব-সংগঠন নিয়ে ব্যস্ত। সংসারের বোঝা তাঁরই কাঁধে। ছেলেমেয়ের লেখাপড়া থেকে শুরু করে সবকিছুই তাঁকে সামাল দিতে হয়। জীবনে তিনি ভাবতেই পারেননি এই পরিম-ল থেকে বেরিয়ে সামাজিক কর্মকা-ে জড়িয়ে পড়বেন, প্রতিনিধিত্ব করবেন সাধারণ মানুষের। আলাপচারিতায় বিউটি বললেন জীবন পরিবর্তনের অজানা কথা। বললেন নির্বাচনে দাঁড়ানো তাঁর জীবনের নতুন অভিজ্ঞতা। কাকতালীয়ভাবে স্থানীয় নারী, প্রতিবেশী ও শুভাকাক্সক্ষীদের অনুরোধ ও চাপে ২০১১ সালে পৌর নির্বাচনে প্রার্থী হন। তারাই নিজ খরচে লিফলেট, পোস্টার ছাপিয়ে তাঁকে সঙ্গে নিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা চালায়। এ সময় মানুষের কথা ও অবয়ব দেখে বুঝেছিলেন ভোটে তিনি হারছেন না। হয়েছেও তাই। তিনি পার্বতীপুর পৌরসভার সংরক্ষিত আসনে বিপুল ভোটে কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। এত ভোট পাবেন তা ভাবতেই পারেননি। সেই থেকে শুরু হয় তাঁর নতুন জীবন। নির্দিষ্ট গ-ির মধ্যে আবদ্ধ পর্দানশীন বিউটির অকল্পনীয় পরিবর্তন। নির্বাচিত নারী প্রতিনিধি হিসেবে বিভিন্ন কর্মসূচী অনুষ্ঠানে যোগ দেন। আগে জনসম্মুখে কথা বলা ও অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেয়া অভ্যাস ছিল না। ঘরে লুকিং গ্লাসের সামনে দাঁড়িয়ে বক্তব্য দেয়ার অনুশীলন করেছেন। মুখের জড়তা কেটে এখন দিব্যি বক্তব্য দেন। মানুষ অবাক হয়ে যায় তাঁর গোছানো বক্তব্য শুনে।

Ñশ আ ম হায়দার

পার্বতীপুর থেকে