২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সবিতা আজ দক্ষ কিষাণী

শ্রমের বিনিময়ে নারীরা আজ প্রত্যয়ী ও স্বনির্ভর। গ্রামে বসবাসরত অধিকাংশ নারী শ্রমের বিনিময়ে উন্নয়নের ভিত শক্ত করেছে। তবে গ্রামীণ শ্রমশক্তির সিংহভাগই নিয়োজিত কৃষি খাতে।

শুধুমাত্র কৃষি খাতেই প্রায় ২০ হাজার কৃষাণী শ্রম দিচ্ছে। সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে পুরো দক্ষিণাঞ্চলে বিভিন্ন পেশায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করছে ৪০ হাজার নারী। জেলার সদর উপজেলার সবিতারাণী বালা। ২০ বছর বয়সে তার বিয়ে হয়। স্বামী সমীর চন্দ্র কৃষক। বিয়ের পর থেকেই স্বামীর সঙ্গে নিজস্ব জমিতে তিনি কাজ শুরু করেন। বাড়িতে রান্নাবান্নার কাজ ও ছেলেমেয়েদের দেখাশোনার পরেও স্বামীর সঙ্গে প্রতিনিয়ত জমিতে কাজ করে আসছেন। জমিতে ধান বোনা, পানি দেয়া, বীজ রোপণসহ সব কাজেই সবিতা এখন অভিজ্ঞ-দক্ষ। মধ্যযুগীয় প্রথায় নারীদের ঘরে জিম্মি করে রাখার বিরুদ্ধে ঘৃণা জানিয়ে কৃষাণী সবিতারাণী বালা বলেন, স্বামীর সঙ্গে আমি জমিতে একসঙ্গে কাজ করতে পেরে নিজেকে গর্বিত মনে করছি। তিনি আরও বলেন, যখন পরিবারের সদস্যদের নিয়ে খেয়ে না খেয়ে কোনমতে বেঁচেছিলাম, তখন তো কেউ মোগো খাওন দিয়া যায় নাই। এমনকি কেউ মোগো খোঁজ পোর্যন্তও লয় নাই। আইজ যহন জমিতে কাম কাইজ কইরা ভগবানের কৃপায় পোলাপান লইয়া খাইয়া পইরা ভাল আছি, তহন একটা গোষ্ঠী মোগো ঘরে বন্দী কইরা রাখতে চায়, মোরা এই ভ-ামী মানি না। জেলার আগৈলঝাড়া, গৌরনদী, বাবুগঞ্জ ও সদর উপজেলার একাধিক নারী কৃষাণী স্বামীর সঙ্গে নিজের জমি ও অন্যের জমিতে কৃষি কাজ করেও মূল্যায়িত হচ্ছেন না। পুরুষের সমান কাজ করলেও তাদের সমপরিমাণ মজুরি দেয়া হচ্ছে না।

Ñখোকন আহম্মেদ হীরা

বরিশাল থেকে