২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

শেয়ারবাজার থেকে আয় বেড়েছে সরকারের

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ শেয়ারবাজার থেকে সরকারের রাজস্ব আয় বাড়ছে। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে সরকার শেয়ারবাজার থেকে মোট ৩১৮ কোটি ৩৯ লাখ টাকা কর পেয়েছে। আগের অর্থবছরের চেয়ে কর বেড়েছে ৫৯ কোটি টাকা বা ২৩ শতাংশ। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে সরকার এ খাত থেকে মোট ২৫৯ কোটি ৪২ লাখ টাকা রাজস্ব পায়।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) থেকে পাওয়া তথ্যে জানা যায়, গত পাঁচ বছরে স্টক এক্সচেঞ্জের সদস্য প্রতিষ্ঠান, তালিকাভুক্ত কোম্পানির উদ্যোক্তা-পরিচালকদের শেয়ার কেনাবেচা এবং শেয়ারবাজারসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে মোট এক হাজার ৮৬২ কোটি ২৯ লাখ টাকা রাজস্ব পেয়েছে সরকার।

স্টক এক্সচেঞ্জে শেয়ার কেনাবেচা, উদ্যোক্তা-পরিচালকদের শেয়ার বিক্রি, বিও হিসাব খোলা ও নবায়ন ফি এবং সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি কোম্পানির (সিডিবিএল) করপোরেট আয় থেকে সরকার রাজস্ব পেয়ে থাকে।

২০১০ সালে ধসের পর শেয়ারবাজার থেকে রাজস্ব আদায় ব্যাপকভাবে কমে গেলেও ২০১৩-১৪ অর্থবছর থেকে ফের বাড়তে শুরু করে।

২০১০-১১ অর্থবছরে সরকার শেয়ারবাজার থেকে মোট ৬২৫ কোটি ৪৫ লাখ টাকা কর পেয়েছিল। শেয়ারবাজারে ধস নামলে পরের দুই বছর এ খাত থেকে ধারাবাহিকভাবে রাজস্ব কমে।

২০১১-১২ অর্থবছর সরকার এ খাত থেকে ৪২৪ কোটি ৭২ লাখ এবং ২০১২-১৩ অর্থবছরে তার পরিমাণ কমে দাঁড়ায় ২৩৪ কোটি ৩১ লাখ টাকায়।

বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের শেয়ারবাজার বর্তমানে কিছুটা স্থিতিশীল রয়েছে। তা ছাড়া অনেক কোম্পানির শেয়ারদর তুলনামূলকভাবে বিনিয়োগের অনুকূলে রয়েছে। এতে এসব শেয়ারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বেড়েছে।

ফলে বাজারে লেনদেনও বাড়ছে। কিন্তু শেয়ারের দাম কম থাকায় টাকার পরিমাণে লেনদেনে কিছুটা ভাটা পড়েছে। তা না হলে সরকারের রাজস্বের পরিমাণ আরো বাড়ত।

২০১০-১১ থেকে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ডিএইর সদস্য প্রতিষ্ঠান এবং উদ্যোক্তা-পরিচালক ও প্লেসমেন্ট শেয়ারহোল্ডারদের শেয়ার বিক্রি থেকে মোট এক হাজার ১৭৫ কোটি টাকার রাজস্ব সরকারি কোষাগারে জমা পড়েছে।

ডিএসইর জমা দেওয়া রাজস্ব প্রধানত দুটি উপ-খাত থেকে সংগ্রহ করা হয়। এগুলো হচ্ছে— ডিএইর সদস্য প্রতিষ্ঠান বা ট্রেকহোল্ডার এবং উদ্যোক্তা-পরিচালক ও প্লেসমেন্ট শেয়ারহোল্ডারদের শেয়ার বিক্রি বাবদ।

ডিএসইর পর রাজস্ব প্রদানে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অবস্থানে রয়েছে সেন্ট্রাল ডিপজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিডিবিএল)। প্রতিষ্ঠানটি শেয়ার লেনদেন, নিষ্পত্তিসহ বিভিন্ন সেবা থেকে প্রাপ্ত আয়ের ওপর সরকারকে গত পাঁচ বছরে করপোরেট কর দিয়েছে ৩১৬ কোটি ২১ লাখ টাকা। বিও হিসাব খোলার ফি বাবদ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে পাঁচ বছরে জমা দিয়েছে ২৭৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা।

আর চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) ২০১৪-১৫ অর্থবছরে মোট ১২ কোটি ১৩ লাখ টাকা কর আদায় করে সরকারি কোষাগারে জমা দিয়েছে। এর মধ্যে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের শেয়ার কেনাবেচার ওপর ৯ কোটি ৬৫ লাখ টাকা এবং উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের শেয়ার বিক্রির ওপর দুই কোটি ৪৮ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে।

২০১৪-১৫ অর্থবছরে ১৭৪ কোটি ৯২ লাখ টাকা রাজস্ব দিয়েছে ডিএসই। এ ক্ষেত্রে ডিএসইর ট্রেকহোল্ডার প্রতিষ্ঠান থেকে ১১২ কোটি ৩৬ লাখ টাকা এবং উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের শেয়ার লেনদেন থেকে ৬২ কোটি ৫৫ লাখ টাকা কর দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ১৫৩ কোটি ৮৫ লাখ টাকা কর আদায় করেছিল ডিএসই।

গত পাঁচ অর্থবছরে সবচেয়ে বেশি রাজস্ব আদায় হয় ২০১০-১১ অর্থবছরে। এ সময়ে শেয়ারবাজার চাঙ্গা থাকায় ডিএসই থেকে ৪৪৭ কোটি ৩৯ লাখ টাকা রাজস্ব পায় সরকার। এর মধ্যে ট্রেকহোল্ডার প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে প্রায় ৩২৬ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হয়। তবে সে সময়ে ধসের পরিপ্রেক্ষিতে পরের বছরগুলোয় রাজস্ব আদায় কমে যায়।পরবর্তী দুই বছরের ব্যবধানে রাজস্ব আদায়ের হার প্রায় এক-তৃতীয়াংশে নেমে আসে।

সিএসই ২০১৪-১৫ অর্থবছরে সর্বমোট ১২ কোটি ১৩ লাখ টাকা কর আদায় করে সরকারি কোষাগারে জমা দিয়েছে। এর মধ্যে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের শেয়ার কেনাবেচার ওপর ৯ কোটি ৬৫ লাখ টাকা এবং উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের শেয়ার বিক্রির ওপর দুই কোটি ৪৮ লাখ টাকা কর পেয়েছে সরকার।

২০১০ সালের পর শেয়ারবাজার-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে সরকারের রাজস্ব কমলেও বিও হিসাব খোলা ও নবায়ন থেকে সরকারি অংশের পরিমাণ বেড়েছে। ২০১০-১১ অর্থবছরে শেয়ারবাজার উল্লম্ফনের সময় বিও হিসাব থেকে সরকার রাজস্ব পেয়েছিল ৫৩ কোটি ২৪ লাখ টাকা। ২০১১-১২ অর্থবছরে এ খাত থেকে রাজস্বের পরিমাণ কিছুটা বাড়লেও পরবর্তী দুই বছরে তা কমতে দেখা যায়। তবে প্রাইমারি বাজার চাঙ্গা থাকায় বিও হিসাব খোলার পরিমাণ বেড়ে যায়। এতে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে সরকার বিও হিসাব খোলা ও নবায়ন বাবদ (প্রতি হিসাবে ২০০ টাকা করে) ৮১ কোটি ২১ লাখ টাকা রাজস্ব পেয়েছে।