১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

কেশবপুরে মৎস্য ঘের করার প্রতিবাদে কৃষকদের বিক্ষোভ

নিজস্ব সংবাদদাতা, কেশবপুর॥ কেশবপুরের বাগদাহ ও লক্ষীনাথকাঠি গ্রামের একটি বিলে পানি নিস্কাশনের পথ বন্ধ করে মাছ চাষ করায় কয়েকটি গ্রামের কৃষকরা প্রায় তিন বছর ধরে চাষাবাদ করতে পারছেন না। ঘের মালিদের বার বার পানি নিস্কাননের দাবি জানালেও তারা কৃষকদের কথায় কর্নপাত না করে কৃষকদের হুমকি দিচ্ছে। ফলে কৃষকরা বিক্ষুদ্ধ হয়ে উঠেছে। তারা শুক্রবার বিকেলে পানি নিস্কাশনের পথ খুলে দিয়ে ঘের মালিকদের বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী অফিসসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন ও শহরে ভিক্ষোভ মিছিল করেছেন।

জানা গেছে, বাগদাহ গ্রামের লুৎফর রহমান ও আলতাপোল গ্রামের শাহাদৎ হোসেন যৌথভাবে বাগদাহ ও লক্ষীনাথকাটি গ্রামের ভেতরে একটি বিলে মাছ চাষ করছে। আশপাশের পাঁচটি বিলের পানি ওই বিল দিয়ে নিস্কাশিত হয়ে থাকে। কিন্তু গত তিন বছর ধরে তারা পানি নিস্কাশনের যাবতীয় কালভার্ট বন্ধ করে দিয়ে মাছ চাষ করছে। এ জন্য পাঁচটি বিল পাড়ের বাগদাহ, বায়শা, লক্ষিনাথকাটি ও মজিদপুর গ্রামের কৃষকরা গত তিন বছর ধরে ফসল ফলাতে পারছেন না। বিক্ষুদ্ধ কৃষক আব্দুস সাত্তার জানান, কৃষকরা বার বার পানি নিস্কাশনের কালভার্ট বন্ধ না করার দাবি করে আসলেও ঘের মালিকরা তা শোনেনি। এ বছর অতিবৃষ্টির কারনে ও পানি নিস্কাশনের পথ বন্ধ থাকায় বিলগুলো তলিয়ে কৃষকের বীজতলা নষ্ট হয়ে গেছে ও মানুষের বাড়িতে পানি উঠে গেছে। গত বুধবার কৃষকরা বিষয়টি ঘের মালিককে জানালেও কোন পদক্ষেপ না নিয়ে উল্টো কৃষকদের হুমকি দেয়। বাধ্য হয়ে তারা আনন্দোল শুরু করেছেন বলে অনেকে জানান। শুক্রবার বিকেলে কয়েক গ্রামের শত শত কৃষক একত্রি হয়ে পানি বের করতে কালভার্টের মুখে লোহার পাটা তুলে দেয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ঘের মালিক লুৎফর রহমাম থানার পুলিশ নিয়ে গেলে কৃষকরা আরও বিক্ষুদ্ধ হয়ে উঠে। এরপর তারা মাছের ঘের উচ্ছেদের জন্য কেশবপুর শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে। বিক্ষুদ্ধ কৃষকরা এ সময় উপজেলা নির্বাহী অফিস, উপজেলা চেয়ারম্যানের বাসভবন ও থানায় অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। ঘের মালিক লুৎফর রহমান জানান, টানা বৃষ্টিতে পানির চাপ বেড়ে যায় কিন্তু পানি সরার সময় না দিয়ে কৃষকরা আমার ঘেরের বাধ কেটে দিয়েছে। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার শরীফ রায়হান কবির জানান, পানি নিস্কাশনের পথ বন্ধ করে কেউ মাছের ঘের করতে পারবে না।