২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

একুশ আগস্ট ট্র্যাজেডির ঘাতকরা আজও সক্রিয়

  • শাহরিয়ার কবির

২০০৪ সালের একুশে আগস্ট বিএনপি-জামায়াত ও ফ্রিডম পার্টির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ জঙ্গী মৌলবাদী সংগঠন ‘হরকাতুল জিহাদ’ ও ‘আল মারকাজুল ইসলাম’-এর প্রশিক্ষিত জঙ্গীদের দ্বারা আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড-বোমা হামলা চালিয়ে দলের প্রধান শেখ হাসিনা ও শীর্ষ নেতৃবৃন্দকে হত্যার যে উদ্যোগ নিয়েছিল, তাতে কেন্দ্রীয় নেত্রী আইভী রহমানসহ চব্বিশজন নেতাকর্মী নিহত হলেও মৌলবাদী ঘাতকদের মূল উদ্দেশ্য সফল হয়নি। গুরুতর আহত হয়েও শেখ হাসিনাসহ সমাবেশে উপস্থিত দলের অন্য গুরুত্বপূর্ণ নেতৃবৃন্দ এক রকম অলৌকিকভাবে বেঁচে গিয়েছিলেন। এর আগে ও পরে শেখ হাসিনাকে হত্যার জন্য তারা এক ডজনের বেশি উদ্যোগ গ্রহণ করলেও লক্ষ্য অর্জিত হয়নি। ধর্মে বিশ্বাসীরা বলেন এবং শেখ হাসিনাও বিশ্বাস করেন- এতগুলো হত্যাপ্রচেষ্টার পরও তিনি বেঁচে আছেন আল্লাহর অশেষ রহমতে।

গত সাড়ে ছয় বছর ধরে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন মহাজোট ক্ষমতায়। ২০০৯ সালে দ্বিতীয়বার প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে তাঁর ব্যক্তিগত নিরাপত্তাব্যবস্থা আপাতদৃষ্টিতে যথেষ্ট শক্তিশালী বলেই মনে হবে। গত তিন বছরে পুলিশ ও র‌্যাব বিভিন্ন মৌলবাদী সন্ত্রাসী সংগঠনের যেসব জঙ্গীদের গ্রেফতার করেছে, তাদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং আস্তানা থেকে উদ্ধারকৃত বিভিন্ন নথিপত্র থেকে জানা গেছে, উল্লেখযোগ্য জঙ্গী সংগঠনের হত্যা তালিকার প্রথম নামটি হচ্ছে শেখ হাসিনার। প্রতিবেশী ভারতের অসম ও পশ্চিমবঙ্গে বিস্তৃত জামায়াতে ইসলামী এবং তাদের জঙ্গী সহযোগীদের নেটওয়ার্কের সূত্র থেকেও আমরা জেনেছি, শেখ হাসিনাকে হত্যার জন্য জঙ্গী নারী আত্মঘাতী দলের গোপন প্রশিক্ষণের তথ্য। ২০১৩-এর ফেব্রুয়ারি থেকে ২০১৪ সালের প্রথম তিন মাস পর্যন্ত জামায়াত ও বিএনপি সরকারবিরোধী আন্দোলনের নামে যে নজিরবিহীন সন্ত্রাস ঘটিয়েছে, পেট্রোলবোমা মেরে যেভাবে নিরীহ মানুষদের জ্যান্ত পুড়িয়ে মেরেছে, শত শত যানবাহনসহ সরকার ও সাধারণ মানুষের সম্পদ এবং সঞ্চয় ভস্মীভূত করেছে, সেসব বোমার কয়েকটি চালান এসেছে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমানে স্থাপিত বাংলাদেশী জামায়াতী জঙ্গীদের ঘাঁটি থেকে। ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার বরাত দিয়ে কলকাতা ও ঢাকার গণমাধ্যমে এসব তথ্য ২০১৪ সালের শেষার্ধে ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়েছে।

আওয়ামী লীগের সভাপতি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ওপর বারবার কেন মৌলবাদী জঙ্গীরা আক্রমণ করছে এবং করতে চাইছে- এ প্রশ্নের প্রকৃত উত্তর না জানলে প্রধানমন্ত্রীর জীবনই শুধু নয়, বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনাও বিপন্মুক্ত করা যাবে না। এ বছর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪০তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আওয়ামী লীগ ৪০ দিনব্যাপী কর্মসূচী পালন করছে। আওয়ামী লীগ ও দলের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠন রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে এবং বাঙালী অধ্যুষিত বিশ্বের বহু দেশে শত শত আলোচনা সভার আয়োজন করেছে। একটি সরল সত্য কোথাও স্পষ্টভাবে বলা হয়নি- ৪০ বছর আগে যারা যে উদ্দেশ্যে বঙ্গবন্ধুকে সহযোগী ও সপরিবারে হত্যা করেছে, তারা একই উদ্দেশ্যে তাঁর কন্যা শেখ হাসিনাকে হত্যা করতেও বদ্ধপরিকর।

বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার রায় প্রকাশের পর থেকে উচ্চতর আদালতের একটি পর্যবেক্ষণের বিষয়ে বারবার লিখেছি, বিভিন্ন আলোচনায় বলেছি- মামলার অভিযোগপত্রে শুধু আত্মস্বীকৃত খুনীদের কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে, এই খুনীদের গডফাদার কারা ছিল, কী উদ্দেশ্যে তাঁকে হত্যা করা হয়েছিল, এই হত্যার জাতীয় ও আন্তর্জাতিক তাৎপর্য- অভিযোগপত্রে কিছুই বলা হয়নি। এত বছর পর আইনমন্ত্রী বলেছেন, এ বিষয়ে একটি কমিশন গঠন করা হবে। আইনমন্ত্রীর আশ্বাসের ওপর কতটুকু আস্থা রাখা যায় এ নিয়ে সংশয় আছে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের আইনের সামান্য একটি সংশোধনীর কথা তিনি দেড় বছর আগে বলেছিলেন, এখনও সেটি করা হয়নি।

শুধু বাংলাদেশের নয়, পশ্চিমের গবেষকরাও জানিয়েছেন বঙ্গবন্ধুর হত্যার সঙ্গে পাকিস্তান ও আমেরিকার গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই এবং সিআইএ জড়িত। শেখ হাসিনাকে আমেরিকা ও পাকিস্তানের আস্থাভাজন মনে করার কোন কারণ নেই। বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়েছে- ১. ’৭১-এর পরাজয়ের প্রতিশোধ নেয়ার জন্য, ২. যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বন্ধ করার জন্য এবং ৩. মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও চেতনা মুছে ফেলে বাংলাদেশকে পাকিস্তানের মতো ইসলামী রাষ্ট্র বানানোর জন্য।

বঙ্গবন্ধু চেয়েছিলেন এবং বাংলাদেশের মূল সংবিধানে বলাও হয়েছিল, রাষ্ট্রের মূলনীতি হবে গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, জাতীয়তাবাদ ও ধর্মনিরপেক্ষতা। ৩০ লাখ শহীদের রক্তের মূল্যে অর্জিত বাংলাদেশে ধর্মের নামে কোন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন করা যাবে না। বঙ্গবন্ধুর এই নীতি ও আদর্শ পাকিস্তানের ধর্মীয় দ্বিজাতিতত্ত্বের আদর্শকে এ দেশের মাটিতে কবর দিয়েছিল। বঙ্গবন্ধুর নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা এবং স্বাধীন বাংলাদেশে জামায়াতে ইসলামীসহ তাবৎ ধর্মব্যবসায়ী রাজনৈতিক দলের পৃষ্ঠপোষক জেনারেল জিয়াউর রহমান যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বন্ধের পাশাপাশি বাংলাদেশকে পাকিস্তান বানানোর জন্য সংবিধান থেকে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও চেতনা মুছে পাকিস্তানী দর্শন আবার আমাদের ওপর চাপিয়ে দিয়েছিলেন। ব্রাম স্টোকারের পিশাচ উপন্যাস ‘ড্রাকুলার’ মতো কবর খুঁড়ে পাকিস্তানের মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক দর্শনকে পুনরুজ্জীবিত করেছেন তিনি প্রথমে বঙ্গবন্ধু এবং তাঁর সহযোগীদের রক্তপান করিয়ে, পরে মুক্তিযুদ্ধের অধিনায়ক ও সহ-অধিনায়কসহ সশস্ত্র বাহিনীর শত শত মুক্তিযোদ্ধার রক্তের বিনিময়ে।

বঙ্গবন্ধুর নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর গত ৪০ বছরের ভেতর জিয়াউর রহমান এবং তার সামরিক-অসামরিক মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক দোসরদের দল ও জোট ক্ষমতায় ছিল প্রায় ২৯ বছর আর বঙ্গবন্ধুর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ছিল এবং আছে মাত্র সাড়ে ১১ বছর। যার ফলে জেনারেল জিয়া যেসব মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক পাকিস্তানী পিশাচদের মুক্তিযোদ্ধাদের রক্তপান করিয়ে পুনরুজ্জীবিত করেছিলেন, তার সামরিক উত্তরাধিকারী জেনারেল এরশাদ ও সহধর্মিণী খালেদা জিয়া যাদের সযতেœ লালন করেছেন, বংশবিস্তারে সহায়তা করেছেন- তাদের উল্লম্ফন আজও আমাদের দেখতে হচ্ছে। যখনই তারা সুযোগ পাচ্ছে তখনই মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন অর্জনের গলায় দাঁত বসিয়ে দিচ্ছে, হত্যা করছে আমাদের সন্তানদের, শুষে নিচ্ছে ধর্মনিরপেক্ষ মানবতার যাবতীয় বোধ।

জেনারেল জিয়ার ড্রাকুলারা জানে, শেখ হাসিনাকে বাঁচিয়ে রাখলে যে চেতনার অমোঘাস্ত্র মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক পিশাচবধের কারণ হবে বাংলাদেশে, তার প্রসার প্রতিহত করা যাবে না। ২০১৩ সালে শাহবাগের মহাজাগরণে তার লক্ষণ বুঝতে পেরেছে তারা। শহীদ জননী জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে সূচিত মুক্তিযুদ্ধের চেতনার আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় যে প্রজন্ম বেড়ে উঠেছে, যারা শাহবাগের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দিয়েছে, আন্দোলনের বিস্তার ঘটিয়েছে- তালিকা তৈরি করে তাদের হত্যা করছে মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক পিশাচরা।

শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর আমি বাংলাদেশে জঙ্গী মৌলবাদের উত্থানের ওপর একটি প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণ করেছিলাম ‘জিহাদের প্রতিকৃতি’ নামে। এই প্রামাণ্যচিত্রটি শুরু হয়েছে ২১ আগস্টের নৃশংস গ্রেনেড-বোমা হামলা এবং এর মূল লক্ষ্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাক্ষাতকারের মাধ্যমে। হামলার অন্যতম আসামি হরকাতুল জিহাদের শীর্ষ নেতা মুফতি হান্নানের একটি সাক্ষাতকারও রয়েছে এই প্রামাণ্যচিত্রে। হরকাতুল জিহাদ বা সমগোত্রীয় জঙ্গী সংগঠন এ ধরনের কোন হামলা করলে তা গোপন করে না। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসবিরোধী শান্তি সমাবেশে এই ভয়ঙ্কর হামলার পর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এবং তার সহযোগীরা কোরাসে বলেছেন- এর জন্য ভারত ও আওয়ামী লীগ দায়ী। এটি প্রমাণের জন্য তখন ভারতফেরত ছাত্র পার্থ সাহা এবং আওয়ামী লীগের এক অখ্যাত কর্মী জজ মিয়াকে গ্রেফতার করে রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন করা হয়েছিল। আমার প্রামাণ্যচিত্রে মুফতি হান্নান বলেছেন, কিভাবে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং দলের অন্য শীর্ষ নেতারা হাওয়া ভবনে বসে জামায়াত, ফ্রিডম পার্টি, হরকাতুল জিহাদ ও আল মারকাজুল ইসলামের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে হামলার পরিকল্পনা করেছেন এবং হামলাকারীদের অর্থ ও রসদের যোগান দিয়েছেন। এই বৈঠকে উপস্থিত সবাই এই মর্মে ঐকমত্য পোষণ করেছিলেন- শেখ হাসিনাকে বাঁচিয়ে রেখে বাংলাদেশে তাদের ইসলাম অর্থাৎ মওদুদীবাদী ওয়াহাবী ইসলাম কায়েম করা যাবে না।

বাইরে থেকে হামলা করতে গিয়ে বারবার ব্যর্থ হয়ে জামায়াত-বিএনপি জঙ্গী জোট এখন দলে দলে আওয়ামী লীগে এবং এর বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনে অনুপ্রবেশ করছে। যুদ্ধজয়ের এটি অতি প্রাচীন কৌশল। বাইরে থেকে আক্রমণ করে প্রতিপক্ষের দুর্গ জয় করতে না পারলে ভেতর থেকে হামলা করে তা করতে হয়। গ্রীক পুরাণে ট্রয়ের যুদ্ধ থেকে শুরু করে হালজমানার বহু যুদ্ধে এই দৃশ্য আমরা অবলোকন করেছি। প্রশাসনের রন্ধ্রে রন্ধ্রে জামায়াতের অবস্থান সম্পর্কে দুই যুগ ধরে বারবার বলে আর লিখে ক্লান্ত হয়ে পড়েছি। গোদের উপর বিষফোঁড়ার মতো ড্রাকুলারা এখন আওয়ামী লীগে ঢুকছে। গত কয়েক বছর ধরে দলের ভেতর এবং দলের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের ভেতর বিভিন্ন অজুহাতে যেসব সংঘাত ও হত্যার ঘটনা ঘটছে, তদন্ত করলে প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই জামায়াতের পরিকল্পনা ও ইন্ধনের প্রমাণ পাওয়া যাবে।

এগারো বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পরও একুশ আগস্টের নৃশংস গ্রেনেড-বোমা হামলা মামলার কোন সুরাহা হয়নি। গত কয়েক বছরে জামায়াতের লক্ষাধিক জঙ্গীকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। দু’বছর আগে জামায়াতের ভাষ্যমতেই পঁচানব্বই হাজার জামিন পেয়ে বেরিয়ে এসেছে, বাকিরা জামিনের প্রক্রিয়ায় আছে। জঙ্গীরা জামিনে বেরিয়ে এসে নাম পাল্টে আবার জঙ্গী তৎপরতায় লিপ্ত হচ্ছে, আবার গ্রেফতার হচ্ছে, আবার বেরিয়ে আসছে। টেলিভিশনের কার্টুন ছবি ‘টম এ্যান্ড জেরি’র এই ক্লান্তিকর দৃশ্য দেখতে দেখতে এখন বিরক্ত বোধ করছি। বেকেটের নাটকের মতো অপেক্ষায় আছি, কবে ’৭১-এর গণহত্যা ও মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের দায়ে জামায়াতের বিচার ও শাস্তি হবে, বঙ্গবন্ধুর সংবিধানের মতো কবে ধর্মের নামে রাজনীতি নিষিদ্ধ হবে, কবে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও চেতনা সর্বস্তরে পাঠ্যসূচীর অন্তর্ভুক্ত হবে, কবে আমরা সভ্য মানুষ হিসেবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের পরিচয় দিতে পারব। মুক্তচিন্তার লেখক-সাংবাদিকদের হত্যা-গ্রেফতার-নির্যাতন কোন সভ্য দেশে কল্পনা করা যায় না।

জামায়াত-হেফাজত সরকারের অনুগ্রহ লাভের জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে। সরকারের নীতিনির্ধারকদের অনেকেই মনে করেন জামায়াত-হেফাজত-বিএনপিকে মুনতাসীর মামুনের মতো ব্র্যাকেটবন্দী (হেজাবি) করা যাবে না। বিএনপিকে শায়েস্তা করতে হলে জামায়াতকে বিএনপির খপ্পর থেকে এবং হেফাজতকে জামায়াতের খপ্পর থেকে বের করে আনতে হবে। গত এক বছর দলগতভাবে তাদের কোন তাণ্ডব দৃশ্যমান না হওয়ায় সরকারের নীতিনির্ধারকরা ভাবছেন তারা তাদের কৌশলে সফল হয়েছেন। তারা উপেক্ষা করছেন তালিকা প্রস্তুত করে মুক্তচিন্তার লেখক ব্লগারদের হত্যার বিষয়টি। উপেক্ষা করছেন আওয়ামী লীগে জামায়াতের অনুপ্রবেশের বিষয়টি। উপেক্ষা করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিরাপত্তা এবং জাতীয় নিরাপত্তার মূল সমস্যাটি। মৌলবাদের সঙ্গে সহবাস করে খালেদা জিয়ার কী পরিণতি হয়েছে, তা দেখেও যদি আমাদের শিক্ষা না হয় আরেকটি একুশে আগস্টের আশঙ্কা থেকেই যাবে।

কৌশলগত কারণেই মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক পিশাচরা কখনও দলবদ্ধভাবে দৃশ্যমান হয়, কখনও অদৃশ্য হয়। দলগত নৃত্য অদৃশ্য থাকলেও একক নৃত্য এখানে-সেখানে এখনও চলছে। সে নৃত্য প্রত্যক্ষ করছি সরকার ও দলের বিভিন্ন স্তরে, প্রশাসনে, শিক্ষাঙ্গনে, বিচার বিভাগে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে- কোথায় নয়?

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বারবার জঙ্গী মৌলবাদী সন্ত্রাস সম্পর্কে ‘জিরো টলারেন্স’-এর কথা বলছেন। প্রশাসনের রন্ধ্রে রন্ধ্রে যদি জামায়াত-হেফাজতপ্রেমীরা অবস্থান করে সন্ত্রাসমুক্ত বাংলাদেশ- সৈয়দ মুজতবা আলীর ভাষায় ‘বন্ধ্যাগমনের মতো নিষ্ফল’ হতে বাধ্য। সবশেষে স্বামী বিবেকানন্দের কাছে ক্ষমা চেয়ে বলছি- ‘বহুরূপে সম্মুখে তোমার, কোথা তুমি খুঁজিছ সন্ত্রাস/ জামায়াত-হেফাজতপ্রেম করে যেই জন, সেই জন সেবিছে সন্ত্রাস।’

২০ আগস্ট ২০১৫