১৯ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

কেন শেখ হাসিনাকে হত্যা ও ভাবমূর্তি নষ্টের চেষ্টা বার বার করা হয়?

  • মুনতাসীর মামুন

শেখ হাসিনাসহ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের নেতৃত্বের ওপরই বারবার আঘাত এসেছে। অন্যদিকে মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষ শক্তির গায়ে আঁচড়ও লাগে না। কেন? গতকালের পর আজ পড়ুন শেষাংশ ...

শেখ হাসিনা কি প্রশাসনের এই মনোভাব বদলাতে পেরেছেন? পারেননি। সর্বশেষ প্রবীর সিকদারের ঘটনা দেখা যাক। প্রবীর আপত্তিকর পোস্ট দিয়েছেন পুলিশ তার জিডি না নেয়ায়। তার বিরুদ্ধে মামলা করা যেতে পারে, তারপর আদালত নির্দেশ দিলে গ্রেফতার। তারপর মামলায় যা হওয়ার হবে। কিন্তু পুলিশ আগে তাকে গ্রেফতার করে হাতকড়া পরিয়ে রিমান্ডে নিল। পঙ্গুকে হাতকড়া পরানো যার পরিবারের সবাই শহীদ, যাদের বিরুদ্ধে বলা তাদের কারও পরিবারের সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের সংশ্লিষ্টতা নেই। যার পরিবারের ১৪ জন মুক্তিযুদ্ধে শহীদ, যিনি শহীদের সন্তান, যার একটি পা উড়িয়ে দিয়েছিল কোটিপতি রাজাকার এবং যার চিকিৎসা করিয়েছিলেন তখন শেখ হাসিনা, যিনি পঙ্গু তার হাতে হাতকড়া শুধু নয়, দাঁড় করিয়ে রাখে পুলিশ ঘণ্টার পর ঘণ্টা। ৩০ লাখ খুনের সঙ্গে জড়িত গোলাম আযম, নিজামী, সাকা চৌধুরী কারও হাতে হাতকড়া তো দূরের কথা পারলে কদমবুচি করে। এরা মানুষ? এ রাষ্ট্র চেয়েছিলাম আমরা?

এই বার্তা কি শেখ হাসিনার পক্ষে যায়? পুলিশ জানিয়েছে, ওপরের নির্দেশে হাতকড়া পরানো হয়েছে। এই ওপরটা কে?

এ রাষ্ট্র ঘাতকদের রাষ্ট্রে পরিণত করছে কারা? তারাই যারা অন্তিমে শেখ হাসিনার পতন অথবা আরেকটি গ্রেনেড হামলা চায়।

অন্যদিকে দেখুন, কিছুদিন আগে ইন্টারনেটে আমার বিরুদ্ধে অকথ্য মিথ্যা প্রচার করে হত্যার হুমকি দেয়া হয়। জাফর ইকবালকে তো হরদম দেয়া হচ্ছে। আমি শাহবাগ থানায় জিডি করি। পুলিশ কি কোন ব্যবস্থা নিয়েছে? আমার পিছে কোন ‘ওপরআলা’ নেই দেখেই কি এই অবস্থা?

নিলয় নীলকে হত্যার পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং আরও কিছু কর্মকর্তা বললেন, ধর্মের বিরুদ্ধে কেউ কিছু বললে ব্যবস্থা নেয়া হবে। ঠিক আছে মানলাম। কিন্তু যেসব হেজাবি নিয়ত মুক্তচিন্তার মানুষদের হুমকি দিচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বা নেয়া হবে তা তো স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বললেন না। এসব কি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের বার্তা না হেজাবিদের বার্তা? এ বছর ক’টি মাদ্রাসাকে এমপিওভুক্ত করা হয়েছে আর ক’টি স্কুলকে? ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে মাদ্রাসায় বঙ্গবন্ধু, শেখ হাসিনা, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ এবং ইসলামের বিরুদ্ধে বই পড়ানো হচ্ছে, কই শিক্ষা মন্ত্রণালয় তো কোন ব্যবস্থা নেয়নি। আজকে যে সব এমপির অপকীর্তি পত্রিকায় প্রকাশিত হচ্ছে কই আওয়ামী লীগ বা প্রধানমন্ত্রী তো তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেননি। এমপিরা জামায়াত-বিএনপির পোড়খাওয়া নেতাকর্মীদের দলে ঢোকাচ্ছেন। দলের কোন সাংগঠনিক সম্পাদক তো এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেননি! ছাত্রলীগ বা যুবলীগের কথা নাইবা বললাম।

এগুলো কি শেখ হাসিনার ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করে? করে না, এগুলো তাঁর দুর্বলতা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। যাঁর জন্য আজ বিশ্বে বাংলাদেশের উজ্জ্বল অবস্থান তাঁর পিঠে এগুলো বোঝা। এই বোঝার বিরুদ্ধে কেউ কথা বললেই বলা হয়, এরা শেখ হাসিনা/আওয়ামী লীগ বিরোধী। এরা জামায়াতের পক্ষের। এগুলো কি তামাশা? এরাই শেখ হাসিনাকে আজ বিপন্ন করে তুলছে। শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে হত্যা মামলার বিচারগুলো দ্রুত নিষ্পন্ন করা উচিত। বিশেষ করে গ্রেনেড হামলার। কারণ এর দায় বর্তায় শেখ হাসিনার ওপর। এ কারণে, তাঁর অনেক কর্মী মারা গেছেন। তারাও তো বিচারপ্রার্থী। এসব হত্যা প্রচেষ্টার বিচার হলে এসব অপকীর্তি অনেক কমে যেত। খালেদা বা জামায়াতকে মাথা তুলে কথা বলতে হতো না।

আমরা শেখ হাসিনার পক্ষে এ কারণে যে, তিনি অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্রের ভিত্তি স্থাপন করতে চান, তিনি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমুন্নত রাখতে চান। তিনি জঙ্গীবাদ নির্মূল করতে চান। তিনি গরিবের জন্য কিছু করতে চান। বাংলাদেশের কেউ বলতে পারবেন না, এ কারণে আমরা কোন কিছু চেয়েছি বা পেয়েছি। আমরা খুশি যে, তিনি মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার করছেন। হ্যাঁ, কাজ করেন দেখে হয়ত কখনও কখনও ভুল করেন। তারপরও আমরা তাঁর পক্ষে। কিন্তু, যারা লিপ সার্ভিস দিচ্ছে, বঙ্গবন্ধুর নাম ভাঙ্গিয়ে, টুপাইস করছে, খালি নিচ্ছে আর নিচ্ছে এবং বিভিন্ন কর্মকা-ে তাঁর ভাবমূর্তি বিনষ্ট করছে এখন সময় এসেছে সে বা তিনি যত বিত্তের মালিকই হোন না কেন, যত প্রভাবশালী হোন না কেন বিভিন্ন সম্পর্কের কারণে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া। এখন এসব বোঝা নামিয়ে ফেলা দরকার। আমরা এই বোঝা নামিয়ে ফেলার পক্ষে সব সময়ই বলব। কেননা, আমরা চাই শেখ হাসিনা বেঁচে থাকুন, তিনি তাঁর লক্ষ্যে পৌঁছান। তিনি যদি লক্ষ্যে পৌঁছতে না পারেন, তাঁকে হত্যা প্রচেষ্টার সঙ্গে যারা জড়িত তাদের গায়ে যদি আঁচড়টি না লাগে, তাঁর দলের একটি অংশ যদি বারবার তাঁর ভাবমূর্তি বিনষ্টে সচেষ্ট থাকে তাহলে তাঁকে বারবার হত্যার এবং ক্ষমতাচ্যুত করার চেষ্টা করা হবে। তিনি পাকিস্তানীকরণ প্রতিরোধ করছেন দেখেই গ্রেনেড হামলা। তাঁর মৃত্যু হলে, তাঁকে ক্ষমতাচ্যুত করার চেষ্টা সফল হলে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ বিপন্ন হবে। এ কথাটি যেন আমরা মনে রাখি এবং বারবার যেন জানতে চাই কেন গ্রেনেড হামলা মামলার নিষ্পত্তি এক দশকেও সম্পন্ন হবে না?

যিনি এ রাষ্ট্রের সৃষ্টি করলেন, জাতির জনক যিনি, যাঁর কারণে, আমরা সবাই করে খাচ্ছি তিনি জাতির শত্রু আর যারা ঘাতকদের সমর্থন করছে তারা জাতির বন্ধুÑ এই ধারণা কি মানসিক বিকার? নাকি সুস্থ মানসিকতা? তাঁর কন্যা যিনি পিতার স্বপ্নের বাস্তবায়ন চান তিনি কি রাষ্ট্রের শত্রু? না হলে কেন তাঁকে বারবার হত্যার প্রচেষ্টা? এটি কি মানসিক বিকৃতি? নাকি এটিই গ্রহণযোগ্য? যারা এসব কর্মকা-ে লিপ্ত তাদের রাজনীতি করার অধিকার আছে কি নেই এসব প্রশ্ন নিজেকে বারবার জিজ্ঞেস করা জরুরী। তাদের সমব্যথী হওয়া বা সমর্থন করা কি মানসিক সুস্থতা? অন্তত সভ্য সমাজ, শুদ্ধ বিবেক এটি স্বীকার করবে না এবং যারা এ ধরনের মানসিকতার অধিকারী তাদের প্রতিরোধই মুক্তিযুদ্ধের রাষ্ট্রকে রক্ষা করবে।

এ বিষয়টিও উপলব্ধিতে আনার সময় হয়েছে যে, বর্তমানে বিরোধী দল হিসেবে খ্যাত বিএনপি-জামায়াতের প্রকৃত রূপটি কী? শেখ হাসিনাকে হত্যার প্রায় সব ক’টি প্রচেষ্টার সঙ্গে জড়িত বিএনপি-জামায়াত বা হুজি। শুধু তাই নয়, ক্ষমতায় থাকার সময় সরকারীভাবে তাঁকে হত্যার চেষ্টা করা হয় যার সঙ্গে জড়িত তার পুত্র তারেক রহমান। বঙ্গবন্ধু হত্যায় আনন্দ প্রকাশ করেন তিনি ১৫ আগস্ট কেক কেটে। ২০১২-১৩ সালে তার নির্দেশে মানুষ পুড়িয়ে মারার মহোৎসব শুরু হয়। ২০০১-০৬ সালে তার ও নিজামীর নেতৃত্বে অস্ত্র চোরাচালান, হিন্দু দলন, গ্রাম কি গ্রাম থেকে আওয়ামী লীগ কর্মীদের হত্যা ও বিতাড়ন শুরু হয়। ১৯৭১ সালের খুনীদের তিনিই ক্ষমতায় আনেন। লেডি ম্যাকবেথ খালেদার তুলনায় নস্যি। তার দলের প্রায় প্রতিটি সদস্যের মনোভাব একই রকম। আদালত তো জামায়াতকে বলেছে ক্রিমিনাল অর্গানাইজেশন। একমাত্র বিবেকশূন্য, সংস্কৃতিবর্জিত মানুষ এ ধরনের দলের সমর্থক হতে পারে। এ লেখা যখন লিখছি তখন দেখছি বিএনপি সমর্থক এক মহিলা ব্যারিস্টার হামজা ব্রিগেড নামে এক জঙ্গী মৌলবাদী গ্রুপকে এক কোটি টাকা দিয়েছেন [তার সহকর্মীসহ]; তার পিতাও চট্টগ্রামে বিএনপির নেতা। এরকম উদাহরণ অসংখ্য দেয়া যাবে। খালেদা যেমন হাসিনা হত্যার প্রেরণা যুগিয়েছেন, তার স্বামী জিয়াউর রহমানও বঙ্গবন্ধু হত্যায় প্রেরণা দিয়েছেন। এরা উত্তরাধিকার সূত্রে একই চরিত্রের। এরা ক্ষমতায় এলে পূর্ব অভিজ্ঞতা বলে, দেশে রক্তের বন্যা বয়ে যাবে। সুতরাং, রক্তস্নাত দেশে থাকবেন না বর্তমানে বিশ্বে নিজের জায়গা করে নিচ্ছে সে বাংলাদেশে থাকবেন? ইচ্ছা আপনার।