২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সন্ত্রাস দমনে কঠোর পদক্ষেপ

সরকার সন্ত্রাস দমনে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের পর কেবল সন্ত্রাসী ছাড়া আর কারও শঙ্কিত হওয়ার কোন কারণ নেই। বরং কঠোর নীতি গ্রহণের ফলে জনমনে আশা ও স্বস্তির উদ্রেক হওয়ারই কথা। একজন সন্ত্রাসীর সবচেয়ে বড় পরিচয় সে সন্ত্রাসী, তার দ্বারা মানুষের জীবন বিপন্ন হয়, সমাজের স্থিতিশীলতা ভেঙ্গে পড়ে। আর সেই সন্ত্রাসীর যদি কোন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধা থাকে তা হলে সেই দলের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়। আসলে একজন সন্ত্রাসী আত্মরক্ষার্থেই রাজনৈতিক দলে নিজের নাম লেখায়। তার রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রয়োজন পড়ে সন্ত্রাসী কর্মকা- অব্যাহতভাবে চালিয়ে যাওয়ার জন্যই। এতে বিন্দুমাত্র সংশয় নেই যে একজন সন্ত্রাসীর ধ্যানজ্ঞান রাজনীতি নয়, কেবলই সন্ত্রাস। আর্থিকভাবে লাভবান এবং সামাজিকভাবে প্রভাবশালী হওয়ার উদ্দেশ্যেই সন্ত্রাসী চালিয়ে যায় তার ধ্বংসাত্মক কর্মকা-। তাদের উপর্যুপরি সন্ত্রাসী কর্মকা-ের কারণে দলের ভাবমূর্তি প্রশ্নবিদ্ধ হয়। সন্ত্রাস তাই সুশাসনের জন্য ক্ষতিকর এক অপশক্তি। এই অপশক্তিকে পরাস্ত করতে না পারলে সমাজে ধীরে ধীরে নৈরাজ্যের বিস্তার ঘটে। এমনকি বহির্বিশ্বেও সে সমাজ সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়। এর ফলস্বরূপ উন্নত রাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের দেশের সুসম্পর্কেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

মানুষের কল্যাণের লক্ষ্যে যারা রাজনীতি করেন তাদের স্পষ্ট বক্তব্য, সন্ত্রাসী যে দলেরই হোক না কেন তাকে দমন করতে হবে। আমরা আগেও বলেছি, সমাজের সুস্থিতি নষ্ট করার জন্য যা যা দরকার তার সব উপাদানই বিদ্যমান সন্ত্রাসের শিকড় ও ডালপালায়। সন্ত্রাস এক বিকট বিপুল রাক্ষস, তার রয়েছে হাজারো বাহু, শত শত মস্তক। সন্ত্রাসের সূচনামুখ তাহলে কোথায়? নিঃসন্দেহে তা অবিবেচক স্বার্থান্ধ সত্তায় এবং অপরাজনীতিতে। সন্ত্রাস অনেকটা বিষাক্ত সাপের মতোই। যে সাপ সমাজদেহে দংশন করলে তার বিষক্রিয়া ছড়িয়ে পড়ে সর্বশরীরে। অতীতেও এমনটা দেখা গেছে। জনসাধারণের জানমাল রক্ষা ও আইনের শাসন শক্তিশালী করার লক্ষ্যে সরকার যখন সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে যায়, তখন সুকৌশলে অযৌক্তিক সমালোচনার মাধ্যমে সরকারকে বিভ্রান্ত করার অপপ্রয়াস চলে। মানবাধিকারের দোহাই পেড়েও সরকারকে সন্ত্রাসবিরোধী কঠোর নীতি থেকে সরে আসার জন্য পরোক্ষ চাপ সৃষ্টি করা হয়। বলাবাহুল্য, চাপের কাছে নতিস্বীকার করে পিছু হটলে প্রকারান্তরে ক্ষতি হয় দেশেরই। গুটিয়ে যাওয়া সন্ত্রাস আবার তার নখ ও থাবা বের করে বিকটভাবে সমাজে আবির্ভূত হয়। তখন অবধারিতভাবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। জনমনে অস্থিরতা দেখা দেয়। রসাতলে যেতে থাকে দেশ।

শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ, মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজিসহ নানা অপরাধের সঙ্গে সন্ত্রাসের একটি যোগসূত্র রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই মানুষ প্রত্যাশা করে আসছিল যাবতীয় গর্হিত অপরাধের কেন্দ্রে অবস্থানকারী এবং তার সক্রিয় সহায়কশক্তি ওই সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর হোক। শেষ পর্যন্ত সরকারের সন্ত্রাসবিরোধী কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের মধ্যদিয়ে মানুষের আকাক্সক্ষারই প্রতিফলন ঘটেছে। সন্ত্রাস নির্মূলের লক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ইতোমধ্যে বিশেষ তৎপরতা শুরু করেছে। অস্ত্র উদ্ধার অভিযানও জোরদার করা হয়েছে। আমরা আশা করব, আইনের শাসন সুসংহত এবং দেশের নাগরিকদের স্বস্তি ও শান্তি নিশ্চিত করার তাগিদে চলমান এই সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। মিত্ররূপী কোন ছদ্মবেশী অপশক্তি যেন এই ইতিবাচক প্রক্রিয়াকে নস্যাত করতে না পারে।