২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সুসংবাদ শিশুদের জন্য

পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে নিউমোনিয়াজনিত মৃত্যু ও চিকিৎসায় ব্যর্থতার হার কমাতে সরকার নানা তৎপরতা চালিয়ে আসছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও সহায়তা দিয়ে আসছে। বিশ্বের যে ছয়টি মাত্র দেশ ১৯৯০ সালের তুলনায় বর্তমানে শিশু মৃত্যুর হার দুই-তৃতীয়াংশ কমিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে বাংলাদেশ তার অন্যতম। বাংলাদেশ ২০১০ সালে শিশু মৃত্যুর হার হ্রাসে সাফল্য অর্জন করায় জাতিসংঘের এমডিজি পুরস্কার পেয়েছে।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও সাব সাহারান আফ্রিকার দেশগুলোতে নিউমোনিয়াজনিত মৃত্যু বেশি। বিশ্বে শিশু মৃত্যুর ক্ষেত্রে নিউমোনিয়া যে কোন একক কারণের চেয়ে অধিক দায়ী এবং নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোই এক্ষেত্রে সর্বাধিক ভুক্তভোগী। ইউনিসেফের এক জরিপে বলা হয়েছে, শিশু মৃত্যুর শতকরা ১৭ ভাগ বা ১১ লাখের মৃত্যুর জন্য দায়ী নিউমোনিয়াই। এসব মৃত্যুর শিকার শিশুদের ৮০ শতাংশের বয়সই দুই বছরের নিচে। বাংলাদেশের স্বাস্থ্য জরিপে দেখা যায়, নিউমোনিয়া লক্ষণাক্রান্ত শিশুর ৩৫ শতাংশ মানসম্মত চিকিৎসা বা দক্ষ চিকিৎসকের চিকিৎসা পেয়েছে। ৪৬ শতাংশ অদক্ষ চিকিৎসক এবং ১৭ শতাংশ শিশু কোন চিকিৎসাই পায়নি।

পাশাপাশি রক্তে অক্সিজেনের স্বল্পতা তথা হাইপোক্সিমিয়া নিরাময়ে যথাযথ চিকিৎসা মেলে না। আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসায় অক্সিজেন সঞ্চালন এবং কৃত্রিম শ্বাস-প্রশ্বাস পদ্ধতি ব্যবহার করতে হয়, যা মধ্যবিত্তের ক্ষেত্রেও ব্যয়বহুল। উন্নত বিশ্বে অনেক আগেই এক মাসের কম বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে বিকল্প চিকিৎসা পদ্ধতি চালু হয়েছে। রক্তে অক্সিজেনের স্বল্পতা দেখা দিলে মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস পেতেই থাকে। তখন মানুষ খুব সহজেই এ্যানিমিয়া, হার্ট ফেইলরসহ নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হয়। কারণ যথাযথ চিকিৎসক, চিকিৎসা এবং ওষুধের চড়া দাম।

শিশু পালন এমনিতেই একটি বিশ্ববিদ্যালয় চালানোর মতো। শিশুদের রয়েছে নানা বিভাগ, ফ্যাকাল্টি। নিবিড় পরিচর্যা ছাড়া সুস্থ শিশু বেড়ে ওঠা সহজতর নয়। সেই শিশুদের জটিল দুটি রোগ নিরাময়ে স্বল্পব্যয়ে চিকিৎসায় নতুন পদ্ধতি আবিষ্কার হয়েছে, যা শিশুদের জন্য ও তাদের অভিভাবকদের জন্য সুসংবাদ বৈকি। পৃথিবীর অন্যতম স্বাস্থ্য গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইসিডিডিআরবি নতুন উপকরণ আবিষ্কার করেছে। এর নামকরণ করা হয়েছে ‘বাবল সিপাপ’ বা ‘কন্টিনিউয়াস পজিটিভ এয়ারওয়ে প্রেসার’। এটি শিশুদের চিকিৎসায় অক্সিজেন সঞ্চালন এবং কৃত্রিম শ্বাস-প্রশ্বাসে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশ করা চিকিৎসা ব্যবস্থার চেয়ে এটি অধিক কার্যকর। আর হাইপোক্সিমিয়া নিরাময়ে উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে এটিই প্রথম কোন কার্যকর বিকল্প চিকিৎসা পদ্ধতি, যা গবেষণায় প্রমাণিত। স্বল্প খরচে বাবল সিপাপ উদ্ভাবিত হওয়ায় এই বাধা দূর হতে যাচ্ছে। বাংলাদেশের বিজ্ঞানীরা অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যৌথভাবে কম খরচের এবং সহজপ্রাপ্য উপকরণ দিয়ে তৈরি এই পদ্ধতিটি গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবায়ও ব্যবহারের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। এই সেবা সারাদেশে ছড়িয়ে পড়লে শিশু মৃত্যুর হার হ্রাস পাবে- যা সবার কাম্য।