২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

আইএস পরিকল্পিতভাবে প্রাচীন নিদর্শন ধ্বংস করছে ॥ ইউনেস্কো প্রধান

  • গুঁড়িয়ে দিয়েছে প্রাচীন সেন্ট এলিয়ান মঠ

সিরিয়া ও ইরাকে ইসলামিক স্টেটের (আইএস) জঙ্গীরা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে চিহ্নিত প্রাচীন নিদর্শনগুলো অত্যন্ত বর্বর ও পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করে ফেলছে। জাতিসংঘ সংস্কৃতি সংস্থার প্রধান শুক্রবার এ কথা বলেছেন। জঙ্গীরা সিরিয়ার মধ্যাঞ্চলে প্রাচীন সেন্ট এলিয়ান মঠ গুঁড়িয়ে দেয়ার কয়েক ঘণ্টা পর ইউনেস্কো প্রধান স্পষ্টভাবে এ সতর্কবাণী উচ্চারণ করেন। ইউনেস্কো প্রধান ইরিনা বোকোভা বলেছেন, বিশ্বের এখন চেষ্টা করতে হবে এ লুণ্ঠিত নৃতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলোর বিক্রয়ে বাধা দেয়া এবং তা হলেই জঙ্গীদের আয়ের আকর্ষণীয় পথ বন্ধ হয়ে যাবে। প্রাচীন নিদর্শনগুলোর ওপর সাম্প্রতিক হামলায় এ আশঙ্কা দেখা দিয়েছে যে, আইএস প্রাচীন ঐতিহাসিক কেন্দ্রগুলো গুঁড়িয়ে দিচ্ছে এবং লুণ্ঠন তৎপরতা চালাচ্ছে দ্রুতগতিতে। প্রত্যক্ষদর্শীরা বৃহস্পতিবার জানায়, জঙ্গীরা সেন্ট এলিয়ান মনাস্টারি বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দিয়েছে। এখানে পঞ্চম শতকের একটি সমাধি রয়েছে এবং এটি তীর্থস্থান হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছিল। আইএস কয়েকদিন আগে ৮১ বছরের পুরনো এক প-িত ব্যক্তির ভাস্কর্যের মাথা ভেঙ্গে দিয়েছে। এই প-িত ব্যক্তি সিরিয়ায় পালমিরার ধ্বংসাবশেষ দেখাশোনা করে উৎসর্গ করেছেন তার জীবন। খবর ওয়েবসাইটের।

সিরিয়া ও ইরাকের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ দখলের পর থেকে আইএস ধ্বংস করেছে মসজিদ, গির্জা ও প্রতœতাত্ত্বিক স্থানগুলো এবং ইরাকে প্রাচীন নিমরুদ, হাত্রা ও ডুরা ইউরোপোস শহরে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে। বোকোভা বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এ ধরনের ধ্বংসাত্মক কর্মকা- আমরা দেখিনি। আমি মনে করি, প্রাচীন নিদর্শন ধ্বংসে এটাই সবচেয়ে ব্যাপক উদ্যোগ এবং এ ধ্বংসযজ্ঞ চলছে অত্যন্ত বর্বর ও পরিকল্পিতভাবে।

বোকোভা বলেন, ইরাক ও সিরিয়ায় আইএস নিয়ন্ত্রণাধীন প্রতœতাত্ত্বিক স্থানগুলো এখন সাক্ষ্য বহন করছে যে, এগুলোতে অবৈধভাবে খননকার্য চালানো হয়েছে এবং লুণ্ঠন করা হয়েছে। তিনি বলেন, কেউ এ সকল স্থানের বর্তমান ম্যাপ আলোকচিত্র বা উপগ্রহ ছবি দেখলে চিনতেই পারবে না সত্যিকার স্থানকে। এগুলোয় দেখা যায় শত শত গর্ত। তিনি বলেন, এ ধ্বংসযজ্ঞ থেকে জঙ্গীদের থামাতে বিশ্ব খুব কম কিছু করতে পারছে। কিন্তু এ প্রাচীন নিদর্শন পাচার বন্ধে অগ্রাধিকার দিতে হবে বিশ্বকে।