১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সপ্তাহ শেষে সূচক বাড়লেও কমেছে লেনদেন

  • সাপ্তাহিক বাজার পর্যালোচনা

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ বিদায়ী সপ্তাহে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক বাড়লেও কমেছে লেনদেন। গেল সপ্তাহে ডিএসইতে প্রধান সূচক বেড়েছে ৩১ দশমিক ২৯ পয়েন্ট বা দশমিক ৬৫ শতাংশ। তবে লেনদেন কমেছে ৯ দশমিক ০৪ শতাংশ। সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইতে টাকার অঙ্কে লেনদেন কমেছে এক হাজার ৩৭ কোটি টাকা বা ২৫ শতাংশ। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। সিএসইতে সপ্তাহের ব্যবধানে লেনদেন কমেছে ৪০ কোটি ৪২ লাখ ১৯ হাজার টাকার শেয়ার।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, আগের সপ্তাহের চেয়ে ডিএসইতে লেনদেন কমেছে ২৮০ কোটি ২১ লাখ ৬৪ হাজার ৯৪৪ টাকা। আলোচিত সপ্তাহে ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ২ হাজার ৮১৯ কোটি ৬২ লাখ ৭৩ হাজার ২৭৬ টাকার। আর আগের সপ্তাহে লেনদেন হয়েছিল ৩ হাজার ৯৯ কোটি ৮৪ লাখ ৩৮ হাজার ২২০ টাকার শেয়ার। গত সপ্তাহে ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৩ হাজার ৯৯ কোটি ৮৪ লাখ ৩৮ হাজার ২২০ টাকার। আগের সপ্তাহের চেয়ে ১ হাজার ৩৭ কোটি ৫৯ লাখ ৪ হাজার ৭৫৭ টাকা কম। আগের সপ্তাহের লেনদেন হয়েছিল ৪ হাজার ১৩৭ কোটি ৪৩ লাখ ৪২ হাজার ৯৭৭ টাকার শেয়ার। সমাপ্ত সপ্তাহে ‘এ’ ক্যাটাগরির কোম্পানির শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৯২ দশমিক ৪৬ শতাংশ। ‘বি’ ক্যাটাগরির কোম্পানির লেনদেন হয়েছে ৩ দশমিক ৭৬ শতাংশ। ‘এন’ ক্যাটাগরির কোম্পানির শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৩ দশমিক ১৩ শতাংশ। ‘জেড’ ক্যাটাগরির লেনদেন হয়েছে দশমিক ৬৫ শতাংশ। এদিকে, ডিএসই ব্রড ইনডেক্স বা ডিএসইএক্স সূচক বেড়েছে দশমিক ৬৫ শতাংশ বা ৩১ দশমিক ২৯ পয়েন্ট। তবে সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএস৩০ সূচক কমেছে দশমিক ৪৫ শতাংশ বা ৮ দশমিক ৪৫ পয়েন্ট। অপরদিকে শরীয়াহ বা ডিএসইএস সূচক কমেছে দশমিক ০১ শতাংশ বা দশমিক ০৭ পয়েন্টে।

সপ্তাহ শেষে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স কমেছে ৫৫ দশমিক ৫৮ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ১৪ শতাংশ। ডিএস ৩০ সূচক কমেছে ২৭ দশমিক ৪৪ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ৪৫ শতাংশ। আর শরীয়াহ বা ডিএসইএস সূচক কমেছে ৬ দশমিক শূন্য ৮ পয়েন্ট বা দশমিক ৫১ শতাংশ। সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে তালিকাভুক্ত মোট ৩২৬টি কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দর বেড়েছে ১৩৩টি কোম্পানির। আর দর কমেছে ১৭১টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ২০টির। আর লেনদেন হয়নি ২টি কোম্পানির শেয়ার। গত সপ্তাহে লেনদেন হওয়া বেশিভাগ শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের দরপতন হয়েছে। ডিএসইতে তালিকাভুক্ত মোট ৩২৬টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দর বেড়েছে ১০৪টির, কমেছে ২০০টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ২১টির। আর লেনদেন হয়নি ১টি কোম্পানির শেয়ার। সপ্তাহের ব্যবধানে বাজার মূলধন কমেছে ১ দশমিক ১০ শতাংশ। আর সার্বিক মূল্য আয় অনুপাত (পিই রেশিও) ১ দশমিক শূন্য ৩ পয়েন্ট কমে ১৬ দশমিক ৬৯ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

ডিএসইতে শীর্ষ দর বৃদ্ধির তালিকার শীর্ষে অবস্থান করছে খাদ্য ও আনুষাঙ্গিক খাতের কোম্পানি এ্যাপেক্স ফুডস লিমিটেড। আলোচিত সপ্তাহে কোম্পানিটির শেয়ারের দর বেড়েছে ২৮ দশমিক ৮৪ শতাংশ। কোম্পানিটির গড়ে প্রতিদিন লেনদেন হয়েছে ৪ কোটি ২৯ লাখ ১৭ হাজার টাকার শেয়ার। পুরো সপ্তাহে কোম্পানিটির ২১ কোটি ৪৫ লাখ ৮৫ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দর বৃদ্ধির তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে নর্দার্ন জুট ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি লিমিটেড। এই কোম্পানির প্রতিটি শেয়ারের দর বেড়েছে ২৭ দশমিক ৮ শতাংশ। গড়ে প্রতিদিন কোম্পানিটির ৪৩ লাখ ৩ হাজার ৪০০ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। পুরো সপ্তাহে কোম্পানিটির ২ কোটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এই তালিকায় তৃতীয় স্থানে রয়েছে এ্যাপেক্স ট্যানারি লিমিটেড। এই কোম্পানির শেয়ার দর ২০ দশমিক ৪২ শতাংশ বেড়েছে। গড়ে প্রতিদিন ১৪ কোটি ৩৭ লাখ ৫৩ হাজার ২০০ টাকা হিসেবে সপ্তাহজুড়ে ৭১ কোটি ৮৭ লাখ ৬৬ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে এই কোম্পানির। অন্যদিকে গত সপ্তাহে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সিএএসপিআই সূচক দশমিক ২৮ শতাংশ বেড়ে ১৪ হাজার ৮২৪ পয়েন্টে অবস্থান করছে। সিএসই৩০ সূচক দশমিক ৮৪ শতাংশ বেড়ে ১২ হাজার ৫১৫ পয়েন্টে, সিএসই ৫০ দশমিক ৫৮ শতাংশ ৮৭ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৮১ পয়েন্টে এবং সিএসসিএক্স সূচক দশমিক ৩০ শতাংশ বেড়ে ৯ হাজার ২৭ পয়েন্টে অবস্থান করছে। সপ্তাহে সিএসইতে গড়ে মোট লেনদেন হয়েছে ২৮১টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের শেয়ার। এর মধ্যে দর বেড়েছে মাত্র ১১২টির, কমেছে ১৫৫টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ১৪টির। টাকার অঙ্কে লেনদেন হয়েছে ২৬১ কোটি ৮৮ লাখ ২২ হাজার ১২৫ টাকা।