২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

পত্রিকা ও ব্লগের মাধ্যমে দর বাড়ানো হয়

  • ২১ সালের শেয়ার কারসাজি

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ ২০১০ সালে শেয়ার কারসাজির দায়ে দণ্ডিতরা পত্রিকা ও ব্লগে লেখালেখিসহ অভিনব আরও কয়েকটি উপায়ে বিভিন্ন শেয়ারের দাম বাড়িয়েছিলেন। পুঁজিবাজারের বিশেষ ট্রাইব্যুনালে রায় ঘোষণার পর এসব তথ্য উঠে এসেছে।

জানা গেছে, দ প্রাপ্ত আসামিরা নানা কায়দায় কৃত্রিমভাবে শেয়ারের দর বাড়িয়েছেন। কখনও নিজেদের পত্রিকায় লিখে, কখনও বা ব্লগে কোম্পানি ভবিষ্যতে ভাল করবে এমন মিথ্যা তথ্য প্রকাশ করেন তারা। এরই পর থেকে হু হু করে বাড়তে থাকে শেয়ারের দর। এছাড়া নিজেদের মধ্যে শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে দর বাড়ানো ও সামাজিক যোগাযোগের অন্যান্য মাধ্যমেও মিথ্যা তথ্য প্রকাশ করে এ কারসাজি করেন তারা।

এসব অপরাধে সোমবার বাংলাদেশ ওয়েলডিং ইলেকট্রোডের (বিডি ওয়েলডিং) কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস এম নুরুল ইসলাম ও ‘ডেইলি ইন্ডাস্ট্রি’ পত্রিকার সম্পাদক এনায়েত করিমকে ৩ বছর করে কারাদ দেন পুঁজিবাজার বিষয়ক স্পেশাল আদালত। একইসঙ্গে উভয়কে ২০ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়। অনাদায়ে আরও ৬ মাসের কারাদ দেয়া হয়।

এর আগে ৩ আগস্ট ফেসবুকসহ ছয়টি ওয়েব পোর্টালে শেয়ার কেনাবেচার আগাম মিথ্যা তথ্য প্রচারকারী মাহাবুব সারোয়ারকে ২ বছর কারাদ দেন পুঁজিবাজার বিশেষ ট্রাইব্যুনাল।

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সাবেক চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ সিদ্দিকী বলেন, শেয়ার কারসাজিতে জড়িতদের আইনের আওতায় আনায় পুঁজিবাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া ভবিষ্যতে কারসাজির পরিমাণ কমে আসবে বলে মনে করি।

তদন্তে আরও জানা যায়, বিডি ওয়েল্ডিং ও ‘ডেইলি ইন্ডাস্ট্রির’ আসামিরা উদ্দেশমূলকভাবে স্বার্থ হাসিলের জন্য পত্রিকায় মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য প্রকাশ করেন। যার মাধ্যমে বাংলাদেশ ওয়েল্ডিংয়ের শেয়ার দর কৃত্রিমভাবে বাড়িয়ে তারা স্বার্থ হাসিল করেন।

সৌদির আল-আওলাদ গ্রুপ বিডি ওয়েল্ডিংয়ে বিনিয়োগ করবে বলে তথ্য প্রকাশ করেন আসামিরা। আর এ বিনিয়োগের বিষয়ে গ্রুপটির সঙ্গে ই-মেইলের মাধ্যমে যোগাযোগ হয়েছে বলে তথ্য ছড়িয়ে দেয় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে। এ খবরে ২০০৭ সালের জানুয়ারি মাসে ৬.৯০ টাকায় অবস্থান করা বিডি ওয়েল্ডিংয়ের শেয়ার মার্চ মাসে অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে ৪২.৫০ টাকায় উন্নীত হয়। এ হিসাবে কোম্পানিটির শেয়ার দর ৩ মাসে বাড়ে প্রায় ৬১৫.৯৪ শতাংশ।

আর আসামিরা খবর প্রচারের আগে স্বার্থ হাসিলের জন্য ৬ টাকা করে ১ লাখ ৯২ হাজার ৫শ’টি শেয়ার ক্রয় করেন। যার মধ্য থেকে ২০ হাজার ৫শ’টি শেয়ার ৩৩-৩৪ টাকা করে ও ১ লাখ ৭২ হাজার শেয়ার ৪৬ টাকা করে বিক্রয় করে অস্বাভাবিক মুনাফা অর্জন করেন।

মাহাবুব সারোয়ার ॥ আসামি পুঁজিবাজারের বিভিন্ন কোম্পানির আগাম বিভ্রান্তিমূলক তথ্য ফেসবুকসহ অন্যান্য ওয়েব পোর্টালে প্রচার করেছেন। এসব খবরের মধ্যে রয়েছে- কোন কোম্পানির শেয়ার দর কত বাড়বে, কোনটির দর কত কমবে, কোন কোম্পানি ব্যবসায় ভাল করবে ইত্যাদি খবর অগ্রিম প্রকাশ করতেন। এসব খবরে প্রলুব্ধ হয়ে অনেক বিনিয়োগকারী শেয়ার ক্রয়-বিক্রয় করেন। কিন্তু পরে ওই মিথ্যা খবরে ক্ষতির কবলে পড়তে হয় বিনিয়োগকারীদের।

এদিকে খবর ছড়িয়ে মিথ্যা তথ্য প্রকাশের আগে মাহবুব সারোয়ার নিজে শেয়ার ক্রয়-বিক্রয় করে নিতেন। কোন কোম্পানির শেয়ার দর বাড়বে খবর প্রকাশের আগে নিজে ওই শেয়ার কিনে নিতেন। আর খবর প্রকাশের পর বিনিয়োগকারীরা ওই শেয়ার ক্রয়ে ঝুঁকে পড়লে মাহবুব সারোয়ার তা বিক্রয় করে মুনাফা অর্জন করতেন। এছাড়া তিনি এসব খবর প্রকাশের মাধ্যমে ফি নিতেন বলেও অভিযোগ আছে।

মাহবুব সারোয়ার তথ্য প্রকাশের জন্য ২০০৭ সালের মার্চ থেকে ২০১০ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত ফেসবুকসহ ছয়টি ওয়েব পোর্টাল ব্যবহার করেন। যার মধ্যে রয়েছে : সৈকতস ব্লগ, মাহাবুব সারোয়ার, সৈকত সৈকত, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ, ডিএসই-এক্সুসিভ ব্লগ ও ফেসবুক।

ওই সময় মাহাবুব সারোয়ারের এ ধরনের অনৈতিক কর্মকা খতিয়ে দেখতে চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির সদস্যরা হলেন : বর্তমানে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক এটিএম তারিকুজ্জামান, নির্বাহী পরিচালক মাহবুবুল আলম, পরিচালক রাজিব আহমেদ, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সাবেক চিফ টেকনিক্যাল অফিসার (সিটিও) এটিএম খায়রুজ্জামান।